প্রিন্সিপালের কাণ্ড!!


Published: 2018-11-02 20:46:44 BdST, Updated: 2018-11-17 23:50:35 BdST

পঞ্চগড় লাইভ: প্রিন্সিপালের কাণ্ড। তিনি ঝড় তুললেন এলাকায়। আলোচনা আর সমালোচনা হচ্ছে সবখানে। বাচ্চা-বুড়ো সকলেই ছি! ছি! করছেন ওই প্রিন্সিপালকে। অন্যের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে স্বামীকে তালাক দেয়ার পর বিয়ে করার এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ এজাজ আহম্মেদ।

পঞ্চগড় দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম কওমি মাদরাসার প্রিন্সিপাল এজাজ সম্প্রতি দু’সন্তানের জননী শরীফা আক্তার মুন্নীকে (৩৮) বিয়ে করে উধাও হয়েছেন। পারিবারিকভাবে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাদের অবস্থানের ব্যাপারে জানা যায়নি। ওই মাওলানা তার প্রথম স্ত্রীকেও একইভাবে বিয়ে করেছিলেন।

প্রথম স্ত্রীরও দুটি সন্তান রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে মাদরাসার অন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এজাজের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী পঞ্চগড় সদর থানায় নির্যাতনের একটি মামলা করেছেন। মামলার বাদী তার প্রথম স্ত্রী আকলিমা বেগম আখি সাংবাদিকদের জানান, তার বাবার বাড়ি বগুড়া জেলা সদরের চকসূত্রাপুর এলাকায়।

বিয়ের পর তিনি তার স্বামী সন্তান নিয়ে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন। ঢাকার বিক্রমপুুরে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে পরিচয় হয় মাওলানা এজাজ আহম্মেদের সঙ্গে। তারপর এক সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন এজাজ। সাত বছরের একটি মেয়ে সন্তানসহ বিয়ে করতে রাজি হয়।

বিয়ের পর থেকে এজাজ আখিকে নিয়ে পঞ্চগড়ে বসবাস শুরু করেন। ভালোই চলছিল তাদের সংসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু গত তিন বছর আগে এজাজের আচরণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি কারণে অকারণে তাকে মারধর করতেন।

বাড়িতে খরচের টাকা দিতেন না। এমনকি সময়মতো বাড়ি ফিরতেন না। পরে জানা যায়, এজাজ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও পঞ্চগড় পৌরসভাধীন কামাতপাড়া এলাকার দুলাল ইসলামের স্ত্রী শরীফা আক্তার মুন্নীর সঙ্গে এজাজ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এর প্রতিবাদ করতে গেলে তার ওপর নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। এরপর আগের নিয়মেই পরকীয়া প্রেমিকা শরীফা আক্তার মুন্নীকে দিয়ে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। তালাকের পর পরকীয়া প্রেমিকাকে গোপনে বিয়ে করে হাওয়া হয়ে যান মাওলানা এজাজ।

এজাজ আহম্মেদ ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ওই দুটি পরিবারের লোকজন তাদের সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এজাজ আহম্মেদের প্রথম স্ত্রী তার সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আকলিমা বেগম আরো জানান, আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে আমার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে এজাজ। তার চরিত্র এমন আমি জানতাম না। তার মোবাইল সিমের হিসাব নেই। আমি দুই সন্তান নিয়ে খুব বিপদের মধ্যে আছি। মানুষের বাড়িতে চেয়ে চেয়ে কোনোমতে খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। মেয়েটার স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, এজাজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। তিনি রহস্যজনকভাবে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তবে এই টাকার উৎস কোথায় তা কেউ বলতে পারছে না। মাদরাসার হিসাব নিকাশের গোলমাল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল থাকাকালীন জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মারকাযুল ঈমান মডেল একাডেমি নামে একটি প্রাইভেট কওমি মাদরাসা গড়ে তোলেন।


এদিকে মুন্নীর সাবেক স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল ইসলাম বলেন, এজাজ আমার সুখের সংসার ভেঙে দিয়েছে। আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে। এজাজের শুধু চরিত্রগত ত্রুটিই নয় তার সঙ্গে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। আমি চাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম কওমি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুর রহমান শাহীন বলেন, একজন মাদরাসা শিক্ষকের এমন কাণ্ড ও আচরণ আমাদের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক। মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে শোকজ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি হযরত আলী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর তাকে শোকজ করা হয়েছে। আমরা মাদরাসার সকল হিসাব বুঝে দেয়ার জন্য তাকে বলেছি। কিন্তু তিনি এক মাসের ছুটি নিলেও এখন তার কোনো খোঁজ নেই।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি আবদুল হান্নান শেখ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে শোকজ করেছিলাম। তিনি শোকজের কোনো জবাব দেননি। একই সঙ্গে মাদরাসার হিসাব নিকাশও বুঝিয়ে দেননি। তাই আমরা তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি।

দশের অধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করার জন্য এ বিষয়ে এজাজ আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি তাকে আটক ও এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলবের জন্যে।


ঢাকা, ০২ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।