কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, ভিসির কার্যালয় ঘেরাও


Published: 2021-12-01 16:38:01 BdST, Updated: 2022-01-19 06:46:47 BdST

কুয়েট লাইভ: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেন (৩৮) গতকাল মঙ্গলবার আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্র নামধারী কিছু রাজনৈতিক কর্মী ওই শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণেই তিনি মারা গেছেন। ওই শিক্ষকের মৃত্যুতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করেন। গত রাত ১১টায় পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিসি ও অন্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা সভা করছিলেন। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন।

বুধবার বিকালে এ মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের নীচে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতাদের জেরা , অপমান, অবরুদ্ধ করে রাখা ও মানসিক নির্যাতনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় মারা যান তিনি। তিনি কুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরে তাকে অনুসরণের পর তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। পরে প্রফেসর ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের জন্য বাসায় যান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন, সেলিম হোসেন বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এ ঘটনার তদন্ত করা হবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার জানিয়েছেন, ড. রজিবুল আহসানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।


ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।