ইবির শাপলা ফোরামের নির্বাচনের ফল অমিমাংসিত, দায়িত্ব হস্তান্তরে অনিশ্চয়তা


Published: 2021-11-29 20:18:49 BdST, Updated: 2022-01-19 07:38:19 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরামের নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের অমিমাংসিত ফল নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে বর্তমান প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ প্যানেল নতুন কমিটি গঠন করেছে। অপরদিকে সাবেক ভিসি ও ট্রেজারার পন্থী সংখ্যা লঘিষ্ঠ প্যানেল কারচুপির অভিযোগ তুলেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বর শাপলা ফোরামের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই প্যানেলে ৩০ জন শিক্ষক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে বর্তমান প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পন্থী শিক্ষকদের প্যানেল থেকে ৯ জন ও সাবেক ভিসি ও ট্রেজারার পন্থী ৬ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়। ফলাফলের পরপরই ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছিলেন সংখ্যা লঘিষ্ঠ পক্ষ। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী ১৫ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে গত ২৭ নভেম্বর নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংখ্যা লঘিষ্ঠ পক্ষ। এসমসয় ফলাফল কারচুপির অভিযোগসহ আট অভিযোগ তুলেছেন তারা।

একই দিনে ফোরামের সদ্য সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং সাধরণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের কাছে নতুন কমিটির কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চিঠি দেন নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ। এদিকে নির্বাচন কমিশনের চিঠি প্রাপ্তির পর গতকাল রবিবার (২৮ নভেম্বর) ফোরামের প্যাডে কমিশন বরাবর পাল্টা চিঠি দেয় সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, শাপলা ফোরামের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে ভোট পুনঃগণনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেছেন এবং তারা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। নির্বাচনে ভোট গণনায় অস্বচ্ছতার বিষয়ে দৃশ্যমান ও যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে আপনার প্রেরিত পত্রের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচিন হবে না বলে আমরা মনে করি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি এমন কোনো চিঠি পাইনি। সংখ্যাগরিষ্ঠের উপস্থিতিতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠন হয়েছে। মানা বা না মানার ব্যাপারে তো আমি কাউকে নিষেধ করতে পারি না। ভোট গণনাকালে তাদের (অভিযোগকারী প্যানেলের) প্রতিনিধিও ছিল। তাদের প্রতিনিধি কোনো লিখিত বা মৌখিত অভিযোগ করেনি, ফলাফলের পত্রে স্বাক্ষরও করেছিল। এরপর আর কী বলার থাকতে পারে?’

নবনির্বাচিত সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে দিয়েছে। তারা (সদ্য সাবেক সভাপতি-সম্পাদক) যদি দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে তো আমরা জোর করে দায়িত্বশীল করতে পারি না। কমিশন কমিটি গঠন করে দেওয়ার পরপরই আসন্ন শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার জন্য তাদের দায়িত্ব হন্তান্তর করা উচিত। তারা হয়তো ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করতে চায় না। একসাথে কাজ করতে আমরা বারবার তাদের আহ্বান জানিয়েছি।’

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।