ইবির সাবেক প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহছাত্রলীগ বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের দাবি ইবির প্রগতিশীল শিক্ষকদের


Published: 2019-11-20 19:43:34 BdST, Updated: 2019-12-11 22:56:51 BdST

ইবি লাইভঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক প্রক্টর ও ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটায় তারা। ড. মাহবুবরের কুশপুত্তলিকা দাহের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ জড়িতদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন প্রগতিশীল শিক্ষকরা। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে ভিসি প্রফেসর ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর সাথে দেখা করে এ দাবি জানায় তারা। অতিশীঘ্রই এই ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু বিচারের আওতায় না আনলে শিক্ষক সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে, গত মঙ্গলবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর এবং প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। এসময় ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রজীবনে শিবির সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনে তারা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল ১০ টার দিকে ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আশকারীর সাথে দেখা করেন কিছু শিক্ষক। এ সময় ড. মাহবুবর রহমান, দ্বায়িত্বরত প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, বঙ্গবন্ধু হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. তপন কুমার জোয়ার্দ্দারসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এই নিন্দনীয় ঘটনার সাথে জড়িতরা ছাত্রলীগের বর্তমান পদধারী কেউ না এবং কারো কারো শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

কুশপুত্তলিকা দাহ

 

দ্বায়িত্বরত প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘একজন প্রগতিশীল শিক্ষককে শিবির তমকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উপস্থিত শিক্ষকরা কুশপুত্তলিকা দাহকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন:
এদিকে বুধবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস কর্ণারে সংবাদ সম্মেলন করেন ড. মাহবুবর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহকারী ছাত্রলীগ নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু।

তারা দাবি করেন, একজন প্রমানিত শিবির সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পক্ষে গিয়ে ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিষ্কারের দাবি অযৌক্তিক। ড. মাহবুবর ভিসির কাছের মানুষ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভিসি একটি মাধ্যম দিয়ে চলমান আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসার এবং আর্থিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেছেন নেতারা। তবে মাসুদ এ প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করে। এছাড়া আন্দোলনকারী নেতাদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রস্তাবও দেয় প্রশাসন। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ভিসি ছাত্রলীগের কমিটিতে হস্তক্ষেপ করছে বলে লিখিত বক্তব্যে লেখেন তারা।

ভিসি প্রফেসর রাশিদ আসকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিল। গতকালের (মঙ্গলবারের) ঘটনায় একজন শিক্ষককের সম্মানহানি হয়েছে তাই তারা নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বিচারও দাবি করেছে তারা।’

সংবাদ সম্মেলনে ভিসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, তাদের আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমার কাছের লোক বলে কোন শিক্ষক নেই। সকল শিক্ষক আমার কাছে সমান। আর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করি না এবং করবও না। এটি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ব্যাপার।’

ঢাকা, ২০ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।