পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাব ইবিতেও


Published: 2019-11-19 18:24:43 BdST, Updated: 2019-12-11 22:50:23 BdST

ইবি লাইভঃ নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৯ কার্যকর করার প্রতিবাদে গত সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৪ জেলা সহ সারাদেশের পরিবহন শ্রমিকরা এ ধর্মঘট পালন করছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে পরিবহন নির্ভর ক্যাম্পাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত গাড়িগুলো কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে না আসায় সোমবার থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে ইবির একাডেমিক কার্যক্রম।

পরিবহন অফিস সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য প্রতিদিন ক্যাম্পাসের নিজস্ব ছোট-বড় ৪১ টি গাড়ি যাতায়াত করে। নিজস্ব গাড়িতে সঙ্কুলান না হওয়ায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ পরিবহন মালিক সমিতির সাথে চুক্তিসাপেক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ টি ভাড়ায় চালিত গাড়ি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কয়েকটি ট্রিপে আনা-নেওয়া করে।

সোমবার থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডাকলে ভাড়ায় চালিত ৩২ টি গাড়ি ক্যাম্পাসে চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে বিআরটিসি’র ৪ টি ডাবল ডেকার বাসু চালু রয়েছে। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনগুলো চলাচল করায় শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশের ক্যাম্পাসে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনেই বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল/চূড়ান্ত/মানউন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার মোট ২০ টি বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক প্রফেসর মৃত্যুবরণের ঘটনায় ঐ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এছাড়া মঙ্গলবার মোট ১০ টি বিভাগের মধ্যে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় ঐ বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হয়নি। কুষ্ঠিয়া শহর থেকে যাতায়াতকারী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শৈশব বলেন, ভাড়ায় চালিত পরিবহন নির্ভরতা কমাতে হলে আমাদের নিজস্ব গাড়ি বাড়াতে হবে।

ইবি একটি আবাসিক ক্যাম্পাসে পরিনত হলে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে সমস্যা হবেনা। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, এভাবে ক্লাস না হলে আমরা কোর্স সম্পন্ন করতে পারব না।’

ঝিনাইদহ হতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসা জেরিন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বাস না পাওয়ায় আমি সিএনজিতে ক্যাম্পাসে এসেছি। এভাবে যাতায়াত করে পরীক্ষায় অংশ নিতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত দুই জেলার ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। পরিবহন শ্রমিকরা এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় তাদেরও বলার কিছু নেই। তবে আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই জাতীয়ভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের আর দূর পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হবে না।’

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।