ছাত্রীহলে ছাত্রলীগের অসভ্যতা, নেতাদের রান্না করে খাইয়েও রক্ষা নেই!


Published: 2019-10-22 01:56:12 BdST, Updated: 2019-11-15 21:39:08 BdST

মাগুরা লাইভ : রাতের বেলা হলে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে চরম অসভ্যতার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। হলে ঢুকে তারা ছাত্রীদের হাতে রান্না করা খাবার খাওয়াতে বাধ্য করেন। এতেও রেহাই মেলে না। পছ্ন্দ অনুযায়ী ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে তাদের সঙ্গে চরম অসভ্যতা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে এনিয়ে হল প্রশাসনও যেন উদার। তারা বিষয়টি চেপে যান। চরম এক অরাজক পরিস্থিতির মাঝে এভাবেই হলে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে ছাত্রীদের।

মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের ছাত্রী হলে চিত্র এটি। হলে প্রায়ই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন মেয়েরা। দলবল সহকারে হলে ঢুকে ছাত্রীদের কক্ষে গিয়েও তাদের সঙ্গে অসভ্যতার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রান্না করে খাওয়াতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। অনেকদিন ধরেই এমন অরাজকতা চলে আসলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসন কোন ব্যবস্থায় নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। অতিষ্ট হয়ে সোমবার ছাত্রীরা কলেজ অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেননি। অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রীরা।

ছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বিসহ ছাত্রলীগ পরিচয়ে বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে হলে যাওয়া আসা করছে। তাদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে কেউ কেউ। অথচ বিষয়টি জানার পরও কলেজ প্রশাসন এ বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছে। সর্বশেষ রোববার রাতের ঘটনায় হলের প্রায় সকলেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝে পড়েন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী জানান, রাতে হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর কর্মকান্ডে লিপ্ত হন। এসময় পাশেই তিন চার জন দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন। ওই ছাত্রী বারবার সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেও পারছে না। এ সময় আমি সঙ্গে থাকা অন্যদের সহযোগিতায় ওই মেয়েটিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলো আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সিঁড়ির রেলিয়ে পড়ে গিয়ে একটি মেয়ের হাতও কেটে যায়। ওই মেয়েটির হাতের উপর জামার একটি অংশ ছিড়ে যায় তখন।

আহত ওই মেয়েটি জানান, ঘটনার পর পুরো বিষয়টি হলের মেট্রোন (তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত) নাসরিন আপাকে জানানো হয়। তবে তিনি আমাদের চুপ থাকার জন্যে নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পরই হলে পুলিশ আসে। কিন্তু নাসরিন ম্যাডামের ভয়ে কেউ তাদের কাছে কিছু জানায়নি।

তবে হল মেট্রোন নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থি লাঞ্ছনার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, রোববার রাত ৮টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের পরিচয়ে বেশ কয়েকজন পোলাওয়ের চাউল আর মুরগি নিয়ে হলে আসে। তারা রাধুনি রাজিয়াকে ১৫ জনের খাবার রান্না করে দিতে বলেন। পরে রান্না শেষ হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বি ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে খাবার নিতে আসলেও কিছুক্ষণ পর তারা চলে যায়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বির মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলি হোসেন মুক্তা মেয়েদের ওই অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। অন্যদিকে সুনির্দিষ্টি অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল।

এ বিষয়ে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সোমবার দুপুরে হলের মেট্রোন নাসরিন আকতার, নৈশ প্রহরি আবদুস সালাম এবং রাধুনি রাজিয়াকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও বিষয়টির তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা, ২২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।