ইবির ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি কেলেঙ্কারি, তদন্ত কমিটি গঠন


Published: 2018-11-06 19:15:31 BdST, Updated: 2018-11-18 01:54:30 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর শিটের ক্রমিক সংখ্যায় অসঙ্গতি থাকায় পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে।

এছাড়া পূর্বের কোর কমিটি বাতিল করে নতুন কোর কমিটি গঠন করে দিয়েছে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পঞ্চম জরুরী সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম আব্দুল লতিফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউনিট সমন্বয়কারী সূত্রে, সোমবার প্রথম শিফটে সকাল সাড়ে ৯টায় ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্র বণ্টনের ২-৩ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার হলে হৈ-চৈ শুরু হয়। প্রশ্নপত্রে হিসাব বিজ্ঞান অংশের প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর রয়েছে ৪৬-৬০, কিন্তু উত্তর পত্রে এই অংশের ক্রমিক নম্বর ৩১-৪৫।

আবার ব্যবসায় শিক্ষা অংশের প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ৩১-৪৫, দেখা যায় উত্তর পত্রের ক্রম হলো ৪৬-৬০। এছাড়াও লিখিত অংশের প্রশ্নের নম্বর ৬১-৮০, কিন্তু উত্তর পত্রে লিখিত অংশের ক্রম ১-২০।

এসব অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরে পরীক্ষার হলে কর্তব্যরত শিক্ষকরা কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করেন। এসময় কন্ট্রোল রুম বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত দেয়। প্রথমে কন্ট্রোলরুম অনেক কক্ষের শিক্ষকদের উত্তরপত্রের ক্রম অনুযায়ী উত্তর দিতে ভর্তিচ্ছুদের নির্দেশনা দিতে বলে। এ অনুযায়ী ওইসব রুমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আবার কন্ট্রোল রুম থেকে অনেক কক্ষের শিক্ষকদের প্রশ্নপত্রের ক্রম অনুযায়ী উত্তর দিতে বলে। সে অনুযায়ী ওইসব কক্ষের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এছাড়াও অনেক কক্ষ কোন ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। অনুষদ ভবনের কয়েকটি কক্ষে উত্তরপত্রে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অংশের উপরের শিরোণাম কলম দিয়ে কেটে পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় কর্তব্যরত শিক্ষকরা। এতে করে ওএমআর শিটে অপ্রয়োজনীয় দাগ দেওয়ায় ওএমআর মেশিনে ওই উত্তরপত্রগুলো বাতিল করে দিবে। যার ফলে ওইসব কক্ষের পরীক্ষার্থীরা রেজাল্ট থেকে বঞ্চিত হবে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে সোমবার রাতেই ‘সি’ ইউনিটের অনুষদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কাছে পাঠানোর পর মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পঞ্চম জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর নির্দেশানুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমানকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: জহুরুল ইসলাম, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর মো: সাইফুল ইসলাম, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: জাকির হোসেন।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ‘সি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিটের মধ্যে অসঙ্গতির কারন, দায়ী ব্যক্তি সনাক্তকরণ এবং উক্ত ইউনিটের প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট যাচায়-বাছায়পূর্বক উক্ত পরীক্ষা সম্পর্কিত পরবর্তী করনীয় নির্ধারণকল্পে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক পরীক্ষার অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী স্মারক নং, ২ /শিক্ষা/ইবি-২০১৮/৯৩৭ তারিখ ১০/১০/২০১৮ দ্বারা গঠিত ‘সি’ ইউনিটের ‘কোর কমিটি বাতিল করা হয়েছে। মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমানকে সমন্বয়কারী করে ৩ সদস্যের নতুন ‘কোর কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মিজানুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর মো: সাইফুল ইসলাম।

 

 

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।