ইবির "সি" ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবি


Published: 2018-11-06 16:07:09 BdST, Updated: 2018-11-17 23:49:08 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত "সি" ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবি করছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও পরীক্ষা পরিদর্শকরা। প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর ‘সি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্রের অসঙ্গতি কারণে অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কা করছে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী। "সি" ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা।

সিনিয়র শিক্ষক ও হল পরিদর্শক প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী জানান, ‘এটা কখনও সুষ্ঠ পরীক্ষা হতে পারে না। ইবি’র ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে জঘন্য পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সি-ইউনিটে যে সমস্যা হয়েছে তাতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হবে। আমি এই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিট সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হলগুলোতে উত্তরপত্রের ক্রমান্বয়ে ওএমআর পূরণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় আমরা বিষয়টি নিয়ে অনুষদীয় সভা করে সিদ্ধান্ত নেবো। সে সিদ্ধান্তের আলোকে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

সূত্রমতে, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত সি-ইউনিটের পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশ্ন দেয়ার মিনিট দশেকের মধ্যে বিভিন্ন হল থেকে অভিযোগ আসতে শুরু হয়। পরীক্ষায় বাণিজ্য শাখার ৪ হাজার ৪১৬ জন এবং অবশিষ্ট অবাণিজ্য পরীক্ষার্থীর জন্য প্রশ্ন করেন তিন সদস্যের কমিটি। কমিটির প্রধান ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা।

এতে সদস্য ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রুহুল আমীন এবং ভিসি মনোনীত ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক বখতিয়ার হাসান। তারা ইংরেজি ৩০, ব্যবসায় ১৫, হিসাববিজ্ঞানের ১৫ এবং লিখিত ২০টি প্রশ্ন দিয়ে ক্রমবিন্যাস করেন। কিন্তু ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার এ) বাণিজ্য শাখার উত্তরপত্রে প্রথমে হিসাববিজ্ঞান ও পরে ব্যবসায় বিভাগের উত্তরের ক্রমবিন্যাস ছিল।

এতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী প্রশ্নক্রম অনুযায়ী উত্তর দেয়া শুরু করে। এ সময় অসঙ্গতি নজরে এলে পরীক্ষার্থীরা হতভম্ভ হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। পরে হল পরিদর্শকের নির্দেশনায় কিছু কক্ষে ওএমআর অনুযায়ী উত্তর করতে বলা হয়।

কয়েকটি হল থেকে অভিযোগ আসে, ওএমআর শিটে ‘হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবসায়’ শিরোনাম কেটে সংশোধন করিয়ে উত্তর নেয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট বৃত্ত ছাড়া ওএমআর শিটে দাগ বা লেখা হলে সেই উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যায়। তাহলে আমরা কিভাবে পাস করবো?

এদিকে বিজ্ঞান ভবনে কয়েকটি পরীক্ষা হলে উত্তরপত্র ভুল হওয়ায় সেসব ওএমআর বাতিল করা হয়। পরে ৩০ মিনিট দেরিতে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়। একই সঙ্গে লিখিত ২০টি প্রশ্নের ক্রমবিন্যাস ১ থেকে হওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো ৬১-৮০ পর্যন্ত সাজানো ছিল। যাতে তাদের বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

মাসুম, নিশাতসহ বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের হলে তো কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আমাদের রেজাল্ট কীভাবে হবে? এভাবে পরীক্ষা নেয়ার কোনো মানে হয় না। আমাদের আবার পরীক্ষা নেয়া হোক।’

 

 

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।