''শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত ভ্যাকসিন পাবে"''শিক্ষার্থীদের আমরা ভীষণভাবে মিস করি''


Published: 2021-04-25 22:00:55 BdST, Updated: 2021-05-08 04:49:03 BdST

মনিরুজ্জামান মাজেদ, ঢাবি: শিক্ষার্থীদের ভিষণ মিস করি। তাদের কথা বার বার মনে পড়ে। আগের মতো কোলাহল আর নানান আবদার অনেকদিন হলো শুনছি না। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিনে কিংবা রাতে দীর্ঘ আলোচনা হতো । তারা তাদের চাওয়া- পাওয়া আমাদের বলতো মন খুলে। অনেকদিন হলো এসব আর কানে আসে না। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনায় সব কিছুই আজ তছনছ। করোনার হিংস্র থাবায় গোটা জাতি আজ আহুত। প্রাণ নেই প্রিয় ক্যাম্পাসে। কেমন জানি খাঁ খাঁ করছে গোটা ক্যাম্পাস। কালের স্বাক্ষী হয়ে শতবর্ষি গাছ ও দালান কোটা দাঁড়িয়ে আছে। যেন সবই দেখছে। কিন্তু মুখ খুলতে পারছে না। এমন অনেক অনূভূতি আর আবেগের কথা জানালেন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী বান্ধব প্রিয় প্রক্টর স্যার। তার নাম অধ্যাপক ড. এ.কে. এম গোলাম রব্বানী। 

করোনা মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । সরকারী নির্দেশনানুযায়ী দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল খুলে দেওয়ার কথা ১৭ মে। আর ২৪ মে থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর কথা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এর আগে বলেছিলেন ১৭মে তে শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে হলে এক মাস আগে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিলের আগে ভ্যাকসিন নিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোন বাস্তবায়ন হয় নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্যাম্পাসলাইভ২৪ এর কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানীর সঙ্গে। শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাকসিন বিষয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত ভ্যাকসিন পাবে।"

খাঁ খাঁ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন ডেডলাইন নির্ধারণ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন ডেডলাইন দেয় না। প্রক্রিয়াধীন আছে। "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর শিক্ষার্থীদের তথ্যসমূহ দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবই প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব কিছু কমপ্লিট হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবে।"

দেশের অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে অলরেডি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি এইক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে গেলো কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ খুব ই ভালো সংবাদ। কোথাও কাজের অগ্রগতি হয়ে থাকলে সেটিকে স্বাগত জানাই। কাজের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে সে আশা ব্যক্ত করি।"

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেমিস্টার ফাইনাল সহ বিভিন্ন এক্সাম বা এসাইনমেন্ট অনলাইনে নিয়ে সেমিস্টার শেষ করেছে। যদি ১৭ মে হল না খুলে করোনা পরিস্থিতির কারণে তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি কোন প্রকার অনলাইন এক্সামে বা এসাইনমেন্টের মাধ্যমে সেমিস্টার শেষ করার প্রক্রিয়ায় যাবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, “একটা বিষয় তোমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে একটাই। শিক্ষক হিসাবে আমরা যতটুকু তথ্য পাই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা কোন মন্তব্য করতে চাই না। আমরা যেনতেন ভাবে কোনকিছু করার পক্ষপাতিত্ব না।"

শিক্ষার্থী শূণ্যতায় যেন ভবনগুলো কাঁদছে

 

একটা লম্বা সময় ধরে সবকিছু বন্ধ। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। সেই জন্য শিক্ষার্থীরা হল খুলে দেওয়া হোক সেটা চায়। আপনারা যখন কোন সিদ্ধান্ত নেন তখন কি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কোন সিদ্ধান্ত নেন কিনা? এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতির শ্রেষ্ঠ এবং মেধাবী সন্তান। বর্তমানে তারা এমন একটা অবস্থার মাঝে পড়েছে যে জীবনের সবচেয়ে উত্তাল, সুন্দর ও আনন্দমুখর সময়টা কঠিন বাস্তবতার মাঝ দিয়ে পাড় করছে।

আলাপচারিতায় প্রক্টর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কখনো শূণ্য মানায় না। শিক্ষার্থীদের আমরা ভীষণভাবে মিস করি। তার প্রমাণ হিসাবে বলতে পারি, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলক্ষে আমরা শিক্ষার্থীদের ছাড়া কোন উন্মুক্ত অনুষ্ঠান করিনি। এটা কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসার নিদর্শন। এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয় ভাবছে কিভাবে শিক্ষার্থীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।"

করোনায় ফাঁকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক রব্বানী আরো বলেন, ২৬ এপ্রিল একাডেমিক মিটিং হওয়ার কথা ছিল সেটি পরিবর্তন করে ৬ মে বিকাল ৩ টায় করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হতে পারে।

ঈদের পর যদি ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসে। তখন যদি শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন করে তখন কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্ত নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ শিক্ষার্থীদের বলবো, আন্দোলন লাগবে না। আমরাও চাই ক্যাম্পাস কিভাবে তাড়াতাড়ি খোলা যায়। শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষক হিসাবে আমার একটি অনুরোধ, “শিক্ষার্থীরা ভাষা প্রয়োগ বা মতামত ব্যক্ত করার সময় যেন নান্দনিকতা, সৌন্দর্য্যবোধ, অন্যের প্রতি সম্মানবোধ রক্ষা করে।

নেই ছাত্রীদের কোলাহল

 

অধ্যাপক ড. এ.কে. এম গোলাম রব্বানী আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের বক্তব্যগুলো একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ হিসাবে লিখিত হবে। আমি আশা করি শিক্ষার্থীদের ভাষা প্রয়োগ আরো সুন্দর হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা কঠিন ভাষা প্রয়োগ করলেও তাতে নান্দনিকতা এবং সৌন্দর্যবোধ থাকে না।"

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।