সেই রাতের বর্ণনা জাবি প্রক্টরের : হাতে বোতল, মুখে মদের গন্ধ!


Published: 2019-01-23 01:28:14 BdST, Updated: 2019-10-23 11:47:16 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিম উৎসব ঘিরে সেদিন রাতের সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন প্রক্টর এসোসিয়েট প্রফেসর এএসএম ফিরোজ-উল-হাসান। তিনি বলেন আমি নিজেও ওই রাতে টহলে ছিলাম। হিম উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় শিক্ষকরা গাঁজার গন্ধে বসে থাকতে পারছিলেন না। অনুষ্ঠান স্থলের আশে-পাশে এখানে সেখানে মদ গাঁজার আসর বসে বলে আমাদের কাছে তথ্য আসে। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ করছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেদিন রাতে ক্যাম্পাসে টহলে বের হই। ক্যাম্পাসের যত্রতত্র মদের আড্ডা বসে সেদিন। বটতলায় গিয়ে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পাই যারা গাঁজা সেবনে লিপ্ত ছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার আগেই অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কয়েকজনকে ধরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকাও আদায় করি। তবে তাদের পুলিশে দেইনি। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিল।

মদ-গাঁজার আসরের এমন চিত্র পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই ছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর চিত্র খেলার মাঠের এক কোনায় বসে মদের আসরের। কুয়াশায় ঢাকা অন্ধকার ক্যাম্পাসে খেলার মাঠের এক কোণায় বসে মদ খাচ্ছিল ৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩ জন ছাত্রীও ছিল। আমরা যখন সেখানে যাই তখন তারা অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন। তাদের এমন অবস্থা ছিল মুখে মদের বোতল লাগিয়ে খাচ্ছিল। এতোই নেশাগ্রস্ত ছিল যে তাদের একজন উঠে দাঁড়াতেই পারছিল না। মদের গন্ধে সেখানে টেকা যাচ্ছিল না।

নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তারা বলতে থাকে জাবি ক্যাম্পাসে নাকি এমন হয় তারা সেটা জানেন। তারা এখানে প্রায়ই আসেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসব হবে এটাই নাকি স্বাভাবিক। তাদের কথাবার্তায় বুঝতে পারছিলাম তারা স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তাই তাদের বললাম তোমরা এখান থেকে চলে যাও, এখানে থাকা যাবে না। এতো রাতে তোমরা এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে পার না। তোমরা টিএসসসিতে চলে যাও। অথবা ঢাকায় ফিরে যাও। তারা যেতে চায়নি। এমনকি বলতে থাকে আমরা সারারাত এখানেই থাকবো। পরে অনেক রিকোয়েস্ট করে তাদের নিরাপত্তা শাখায় পাঠিয়ে দেই। শিক্ষার্থী হওয়ায় মান সম্মানের কথা চিন্তা করে তাদের পুলিশে দেইনি। যদিও সেসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল তাদের পুলিশে দেয়ার।

নিরাপত্তা শাখায় নেয়ার পর হিম উৎসবের আয়োজকদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তাদের শিক্ষার্থীদের হলে নিয়ে রাখার কথা বলা হলেও দায়িত্ব নিতে চায়নি। অন্যদিকে আটক শিক্ষার্থীরাও ঢাকায় ফিরে যেতে চায়নি। পরে তাদের নাম ঠিকানা রেখে টিএসসিতে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাখা হয়। ঘুম বাদ দিয়ে এভাবে শীতের রাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে মদের বোতল ধরিয়ে তাদের ছবি তোলা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে প্রক্টর বলেন, এটা কেন করতে যাব। আমরা টহলে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের যে অবস্থায় পেয়েছি তার বর্ণনাই দিয়েছি। তারা সবাই এডিক্টেপ ছিল। তাদের হেনস্থা করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। যদি থাকতো তাহলে তাদের পুলিশে দিতাম। কারণ সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের দাবি ছিল যেন আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশে দেই। আমি তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করে পুলিশে দেইনি। এখন নানা কথা হচ্ছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক খারাপ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে এমনটি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখানে প্রতিযোগিতার কোন বিষয় নেই। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা যদি হয় তবে সেটা হবে একািডেমিক। মদ-গাঁজা খাওয়া নিয়ে কোন প্রতিযোগিতা হয় কি? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

প্রক্টর আরও বলেন, মদের বোতল তুলে দিয়ে ছবি তোলা যায় না। ঢাবি ছাত্রী সামিহাসহ ওই এলাকায় প্রত্যেকেই এডিকক্টেড ছিল। তাদের মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছিল। মদের বোতলে মুখ লাগিয়ে মদ খাচ্ছিল তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের কোনায় বসে মধ্যরাতে বন্ধুদের সঙ্গে বসে এমন অপকর্ম করবে আর প্রশাসন চুপ করে থাকবে এটা হয় ন। এটা কি বিশ্ববিদ্যালয় কালচারের সঙ্গে যায়। আমরা কউকে আলাদা করে দেখিনি। সখোনে যেকোন ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ইজ্জত আছে যা ইচ্চা তাই করা যায় না। মান সম্মানের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের খারপ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি। জাবি ক্যাম্পাসে মদ-গাঁজার জায়গায় নয় এটা শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাবি প্রক্টর।

উল্লেখ্য, শনিবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে জাবি ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মদ্যপ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে ওই ঘটনার পর সামিহা হক নামে এক ছাত্রী অভিযোগ করেন তারা মদ্যপ ছিলেন না। সেদিন রাতে তাদের হাতে মদের বোতল ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসলাইভের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন জাবি প্রক্টর এএসএম ফিরোজ-উল-হাসান।

আগের নিউজ :

জাবি প্রশাসন আমাদের মদের বোতল ধরিয়ে ছবি তুলেছে’

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।