ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী গুপ্তহত্যার শিকার


Published: 2020-11-27 23:03:40 BdST, Updated: 2021-01-27 10:33:33 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসিন ফখরিজাদেহ আর নেই। তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে চলছে শোকের মাতম। ক্ষোভের আগুন জ্বলছে সারা দেশে। ২০০০-এর দশকের শুরুতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ‘ইরানের সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয়া’ শীর্ষ ওই পরমাণু বিজ্ঞানী শুক্রবার গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন। এই হত্যাকাণ্ডকে অনেকেই টার্গেট কিলিং বলছেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলোর বরাতে বিবিসি জানাচ্ছে, ঘাতকরা তাকে গুলি করার আগে তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। কূটনীতিকরা ওই পরমাণু বিজ্ঞানীকে ‌‘ইরানের বোমার জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

‘দুর্ভাগ্যবশত, চিকিৎসক দল তাকে বাঁচাতে পারলো না। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বছরের পর বছর নিজের কাজ আর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী ও তার ম্যানেজার কয়েক মিনিট আগে শহীদ হন।’ বিষয়টি নিয়ে চলছে নানান সমালোচনা।

রেভ্যুলেশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বিজ্ঞানী মহসিন ফখরিজাদেহকে তেহরান থেকে কিছুটা উত্তরের ছোট শহর আবজার্দে হত্যা করা হয়েছে। এনিয়ে চরছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত।

আল-জাজিরা জানাচ্ছে, মহসিন ফখরিজাদেহের হত্যা নিয়ে মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘তার (মহসিন) নামটি মনে রাখবেন।’ এর সঙ্গে কোন যোগ সূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।

ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীদের ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ জন্য অভিযুক্ত ইসরায়েল। এক দশক ধরে এ ধরনের হত্যাকান্ড নিয়ে নানান চাতুরী চলছে।

রক্তের চিহৃ

 

নিজেরা গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত করলেও ইরানের সেই সক্ষমতা অর্জনকে হুমকি হিসেবে দেখে দেশটি। ২০১০ থেকে ২০১২ এই দুই বছরে ইরানের চারজন শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়।

ইরানের অভিযোগ পশ্চিমাদের মদদে ইসরায়েলের গোপন ঘাতক বাহিনী তাদেরকে হত্যা করেছে। বিষয়টি খতিেয়ে দেখা হচ্ছে। ইরানের কথিত আমাদ (আশা) পারমাণবিক কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন মহসিন। ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, এটা ইরানের সামরিক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে একে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বলে দাবি করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি বলছে, ২০০০ দশকের শুরুতে ইরানের ‘আমাদ’ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবলই অপেক্ষার পালা।

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।