খাসোগি হত্যার আরো প্রমাণ আছে: এরদোগান


Published: 2018-10-27 15:48:26 BdST, Updated: 2018-11-18 00:02:59 BdST

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: খাসোগি হত্যাকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণ তুরস্কের হাতে রয়েছে এমন মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, আঙ্কারার হাতে আরো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সঠিক সময়ে তা প্রকাশ করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশকে দিয়েছেন সে তথ্য প্রকাশ করার জন্য তিনি সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানান। শুক্রবার পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরা।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রসিকিউটর তুর্কি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ইস্তাম্বুল সফর করবেন। দু’দেশের যৌথ তদন্তকারী দল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করছে।

পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট এরদোগান আরো বলেন, রিয়াদে যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার মধ্যে খাসোগির হত্যাকারীও থাকতে পারে। ‘গ্রেপ্তারকৃত ওই ১৮ জনের মধ্যেই খাসোগির ঘাতক রয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। যদি এমনটি না হয়, তাহলে সৌদি আরবকেই বলতে হবে যে তাদের স্থানীয় মিত্র কে?

জানা গেছে, এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সৌদি আরবের ওপর সমন্বিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব তুলেছেন। অস্ট্রিয়ার উত্থাপন করা ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খাসোগি হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের কোনো দেশ সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না। দেশটির এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে জার্মানি।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগির পুত্র সালাহ খাসোগির ওপর আরোপিত দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রিয়াদ ছাড়েন সালাহ। সৌদি আরবের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, মার্কিন নাগরিকের ওপর থেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সাম্প্রতিক রিয়াদ সফরে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি।

পম্পেও সৌদি আরবকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চায় তাদের নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরিয়ে দেয়া হোক। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সালাহ কোথায় থাকবেন তা জানা যায়নি। তবে তার প্রয়াত পিতা জামাল খাসোগি ওয়াশিংটনে থাকতেন।

জামাল খাসোগি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ দূত এগনেস ক্যালামার্ড বলেন, খাসোগি হত্যার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায় খাসোগি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আর এর সঙ্গে সৌদি সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত।

জাতিসংঘ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানা যায়, খাসোগি হত্যার ঘটনায় আসলেই কোনো আন্তর্জাতিক তদন্ত হবে কিনা তা এখনো পরিষ্কার না। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেস বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের পক্ষ থেকে যদি আবেদন করা হয়, শুধুমাত্র তখনই তিনি একটি তদন্তকারী প্যানেল গঠন করবেন।

 

 

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।