''আর্জেন্টাইন এই তারকা ছিলেন সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়''প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ৩দিন থাকবে দিয়েগো ম্যারাডোনার মরদেহ


Published: 2020-11-26 23:09:27 BdST, Updated: 2021-01-22 08:41:36 BdST

স্পোর্টস লাইভ: এই পথ সকলের। এই পথ ছেড়ে দেয়া যাবে না। পৃথিবীতে যে পোষাকে মানুষ এসেছেন সেই পোষাকেই চলে যেতে হবে। বাঁচার পথ নেই। মরতেই হবে।এ কথা চিরন্তনভ এ পথ শ্বাশত। চির তরে চলে গেলেন সেই প্রিয় মানুষটি। সেই প্রিয় খেলোয়ার। আর সেই ম্যারাডোনার মরদেহ তিনদিন থাকবে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে।

‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়।’ তবু চলে যায়। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিদায় দিতে কিছুতেই মন মানছে না কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থকদের। তবু নিয়তির অমোঘ বিধান মেনে বিদায় দিতেই যে হবে।

আর একেবারে শেষবারের মতো এই ফুটবল জাদুকরের মরদেহ যাতে ভক্তরা দেখতে পারেন, সেজন্য আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদায় তিনদিনের জন্য রাখা হবে সেই লাশ।

ভক্তদের কান্না

 

কারো যেন মনে কোন কষ্ট না থাকে তাই পরিবারের ইচ্ছায় এ কাজটি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে পৌঁছেছে ম্যারাডোনার মরদেহ। আগামী তিনদিন কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

সেই আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম বুয়েনস আইরেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাসা রোসাদায় ম্যারাডোনার মরদেহ রাখার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে ব্যবহার না করা ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র বের করে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ম্যারাডোনার মরদেহ বুয়েনস আইরেসের তিগ্রেতে তার বাসভবন থেকে ময়নাতদন্তের জন্য সান ফার্নান্দোর একটি মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার হঠাৎই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ম্যারাডোনা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

আর্জেন্টিনার ছিয়াশির বিশ্বকাপজয়ী হিরোর এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো বিশ্ব। কোটি কোটি ভক্তদের মন ভাল নেই তাদের প্রিয় খেলোয়ারকে হারিয়ে। ফুটবল বিশ্বের উজ্জ্ব নক্ষত্র। ভালোবাসার পাশাপাশি আয়ও করেছেন বিপুল অর্থ। গড়েছিলেন সম্পদ।

কতো সম্পদের মালিক ছিলেন ম্যারাডোনা?

৬০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা ছিলেন সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়। ছিলেন সর্বাধিক পারিশ্রমিকের খেলোয়াড়। পেশাদার ক্যারিয়ারে ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে তুলেছিলেন ঝড়। প্রথমে বার্সেলোনা পরে নাপোলিতে যোগ দিয়ে আয় করছিলেন বিপুল অর্থ।

কফিন



নাপোলির সঙ্গে চুক্তির সময় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যিক দূত হয়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

২০১০ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেষ দিকে মেক্সিকোর একটি ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতি মাসে বেতন নিতেন মাত্র ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

এক্সপ্রেস ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় এই ফুটবল কিংবদন্তির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮৫ লাখ টাকার মতো।

বিতর্ক পিছু ছাড়েনি কখনই ম্যারাডোনার। অনিয়ন্ত্রিত জীবনে মাদক, কর ফাঁকিসহ নানা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। তবে মাদকের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও নুইয়ে পড়েছিলেন তিনি।

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।