করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেভাবে সফল হলো সিঙ্গাপুর!


Published: 2020-07-13 13:20:21 BdST, Updated: 2020-08-06 18:25:36 BdST

আশিক খাঁন, সিঙ্গাপুর থেকে: করোনাভাইরাস। একটি আতঙ্কের নাম। একটি প্রাণঘাতি নাম। এই করোনার জ্বরে ভাসছে সারা পৃথিবী। কেউ বাদ নেই। সবার মাঝে একটি নাম, একটি শঙ্কা আর তা হলো করোনা। কে কখন, কিভাবে, কোথায় আক্রান্ত হয় কেউ জানে না। তাই দেশে দেশে তাদের অবস্থান থেকে বাঁচতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ধরা যাক সিঙ্গাপুরের কথা। আমার দৃষ্টিতে সিঙ্গাপুর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফল ৷ সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে এই পর্যন্ত মোট ৪৫৯৬১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৪২২৮৫ জন ৷ আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন বনি আদম ৷

শুরু থেকে তাদের কার্যকরী পদক্ষেপের কারনেই সিঙ্গাপুর করোনা মোকাবিলায় সফল হতে পেরেছে ৷ তারা শুরুতেও বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সমন্বয়ে মাল্টি-মিনিস্টি ট্রাস্কফোর্স গঠন করে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করতে থাকে।

আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই শুরু থেকে এই পর্যন্ত তারা কি এমন পদক্ষেপ নিলো যার কারণে তারা করোনা মোকাবিলায় সফল হলো ৷

১) শুরুতেই চায়না থেকে ফেরত ব্যক্তিদের ১৪ দিনের লিভ অব এবসেন্সে পাঠানো হয়। এই ১৪ দিন তারা বাসায় থাকবে। তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি ১৪ দিনের মধ্যে শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষন দেখা না যায় তবেই কাজে যেতে পারবে ৷

২) প্রতিটি বাস, ট্রেন, ট্যাক্সি এমনকি শপিং মলের সিঁড়ি, লিফটে ক্যামিকেল স্প্রে করে ভাইরাস মুক্ত করা হয় ৷

৩) স্থানীয় ও অভিবাসী প্রত্যেকের দৈনিক ২ বার শরীরের তাপমাত্রা চেক করা হয় ৷

৪) কারো সর্দি, কাশি, জ্বর অর্থাৎ ভাইরাসের লক্ষন দেখা দিলে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরীক্ষায় করোনাভাইরাস কনফার্ম হলে নিবিড় পর্যবেক্ষনে চিকিৎসা করা হয় ৷

৫) কোন এক গ্রুপের একজন বা কোন বাসার একজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেলে সে পরিবার বা গ্রুপের সকলকে আলাদাভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে পর্যবেক্ষণ করা হয় ৷ যাতে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারে ৷

৬) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৷

৭) কনট্রাক ট্রেসের জন্য তারা ট্রেসটুগেদার নামে একটি অ্যাপ চালু করে ৷ যার মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি কারো সংস্পর্শে গেলে খুব সহজেই কনট্রাক ট্রেস করে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।

৮) বিদেশ ফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের স্টে হোম নোটিশ দেওয়া হয় ৷

৯) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় থেকে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক পোস্ট আপডেট দেওয়া হয়।

এতো সতর্কতার পরেও কিন্তু হঠাৎ করে ডরমিটরিগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেড়ে যায় ৷ তখন তারা দ্রুত কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়।

১০) ডরমিটরিগুলোতে যাতে ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে তারজন্য তারা ঝুকিপূর্ণ ডরমিটরিগুলোকে আইসোলেশন ঘোষণা করে।

১১) ডরমিটরিতে অবস্থানরত শ্রমিকদের জন্য ফ্রি খাবার, ইন্টারনেট, চিকিৎসা সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়।

১২) ডরমিটরিগুলোতে অস্থায়ী মেডিকেল বুথ গঠন করা হয়। যেখানে অভিবাসী কর্মীরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারে ৷

১৩) কন্সট্রাকশন সেক্টরে কর্মরত সকল শ্রমিককে স্টে হোম নোটিশ দেওয়া হয় ৷

১৪) করোনাভাইরাসে আক্রান্তের চিকিৎসা সুবিধার জন্য এক্সপো, জাহাজ, আর্মি ক্যাম্প, হোটেল ও HDB ফ্ল্যাটে অস্থায়ী বাসস্থান করা হয়। সেখানে শারীরিকভাবে সুস্থ তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয় ৷

১৫) মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয় ৷

১৬) নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

১৭) অভিবাসী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবার আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় ৷

১৮) প্রত্যেক শ্রমিকদের জন্য তিনটি অ্যাপ ডাউনলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়।

১৯) ডরমিটরিগুলো করোনাভাইরাস মুক্ত করার প্রতি জোর দেওয়া হয় ৷

সিঙ্গাপুর সরকার, বেসরকারি এনজিও, জনগন ও রাজনৈতিক নেতারা একসাথে কাজ করার কারণেই তারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফল। তাই তাদের এই সফলতা থেকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ কে শেখার আছে। দেশের কর্নধারেরা ইচ্ছা করলেই তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই জানতে পারেন। লেসন নিতে পারেন।

ঢাকা, ১৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।