teletalk.com.bd
thecitybank.com
[email protected] ঢাকা | শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com

মোহাম্মদ আলী যেভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেন

Samiya Mehjabin | প্রকাশিত: ৩ মে ২০২২ ১৮:৫০

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২২ ১৮:৫০

মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রতীক ওমর : সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। তৎকালীন পাকিস্তানে তিনি মোহাম্মদ আলী বগুড়া নামে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। ১৯৫৩ সনের ১৭ই এপ্রিল তারিখে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ তাকে (মোহাম্মদ আলীকে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে করাচিতে ডেকে পাঠান। পরে তাকে বলা হয়েছিল যে পাকিস্তান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে পাকিস্তানের সরকারের নেতৃত্ব দিতে হবে। ১৯৫৩ সনের ১৭ই এপ্রিল ওই দিনেই মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী স্যার খাজা নাজিমুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ওই সময় তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মোহাম্মদ আলী ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নবাবজাদা আলতাফ আলী, জে.পি. তখন বরিশালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন

ইতিহাসের এই মহান মানুষটির জীবন ও কর্ম নিয়ে দীর্ঘ দুই মাস তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হলো। লেখাটি তৈরি করতে মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ হামদে আলীর সঙ্গে কয়েক দিনব্যাপী মুখোমুখি আলোচনায় বসতে হয়েছে। সেইসঙ্গে এশিয়াটিক সোসাইটির একটি জার্নাল সংখ্যা, কাজী মোহাম্মদ মিছিরের লেখা ‘বগুড়ার ইতিকাহিনী’, কাজী আকতার উদ্দিন মানিকের লেখা ‘বগুড়ার ইতিহাস’ ইতিহাসগ্রন্থগুলো থেকে কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে।

ইতিহাস কখনো প্রেরণা যোগায় আবার কখনো ভুলের শিক্ষা দেয়। একটি জাতি, দেশ, সমাজের জন্য অতীত ইতিহাস সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী ছিলেন একজন প্রেরণা যোগানো মানুষ। তিনি কেমন মানুষ ছিলেন? কীভাবে চলাফেরা করতেন? রাজনীতি এবং দেশের জন্য কাজ করেছেন জানতে চেয়েছিলাম তার দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ হামদে আলীর কাছে। তিনি তার বাবার একান্ত সাহচার্য পেয়েছিলেন। কাছে থেকে তার কর্মকাণ্ড দেখেছেন। তিনি তার অনুভূতিগুলো এভাবেই প্রকাশ করেন। ‘আমার আব্বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেয়ার সময় অথবা যখন তিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তখনো আমাদের সবসময় কাছে রাখতেন। যখন তিনি বিদেশ যেতেন তখন আমরা স্কুল ছেড়ে তার সঙ্গে ভ্রমণে যেতাম। আমরা আব্বার সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি। আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরেছি। কানাডায় ঘুরেছি। কানাডার দশটি প্রদেশের মধ্যে নয়টিতে তার সঙ্গে ঘুরেছি। তিনি আমাদের খুব ভালোবাসতেন। আব্বা মনে করতেন দেশভ্রমণ করা একটি বড় শিক্ষা।

এজন্য তিনি আমাদের সফরসঙ্গী করতেন। আমার আব্বা আমাদের সবসময় শেখাতেন। কীভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, ভদ্রতা দেখাতে হয়। তিনি সবসময় আমাদের ন্যায় এবং অন্যায় সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। সত্য কথা বলার জন্য উৎসাহ দিতেন। আমরা এজন্য আজও সত্য কথার উপরেই চলি। আমাদের মুখ দিয়ে মিথ্যা বের হয় না। এটি আমার আব্বার শিক্ষা। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন তার ভাইদের বলেছিলেন তোমরা কখনো আমার নাম ব্যবহার করে কোথাও কোনো ব্যবসা করতে যেও না। কঠোরভাবে তাদের নিষেধ করেছিলেন।

তিনি সবসময় আমাদের লেখাপড়ার খবর নিতেন। আমেরিকার সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তিনি আমাদের পড়ালেখা করিয়েছেন। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল হলে তিনি আমাদের রেজাল্টশিট নিয়ে দেখতেন এবং পরামর্শ দিতেন। তিনি আমাদের খেলাধুলার বিষয়েও তীক্ষণ নজর রাখতেন। কী খেলা যাবে কী খেলা যাবে না সেটিও তিনি আমাদের বলে দিতেন। তিনি আমাদের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহ দিতেন। আর হকি একটু ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছেন বিধায় আমাদের সেটি খেলতে দেননি। পিতা হিসেবে কেমন দেখেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব পিতার মতোই আমার আব্বাও আমাদের খুব ভালোবাসতেন।

আমরা যখন বিদেশে পড়ালেখার জন্য চলে যেতাম সেই বিদায় বেলায় আমি আব্বাকে কাঁদতে দেখেছি। আমাদের কপালে চুমু দিতেন আর কাঁদতেন। আব্বার হার্টের জটিল সমস্যা ছিল। তিনি মনে করতেন এই দেখাই হয়তো শেষ দেখা হবে আমাদের সঙ্গে। এজন্য প্রত্যেকবার দেশের বাইরে যাওয়ার সময় আব্বা খুব করে কাঁদতেন। আমার বয়স যখন ৯ বছর তখন প্রথম আব্বা হার্ট অ্যাটাক করেন মিয়ানমারে। খুব সৎ মানুষ ছিলেন তিনি। আব্বা যখন মারা গেলেন তখন তার ব্যংকে কোনো টাকা ছিলনা।

হামদে আলী তার পিতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে হজ করতে ১৯৫৪ সালে সৌদি গিয়েছিলেন। বাদশার আমন্ত্রণে। তিনি সেই সফর নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এভাবেই ‘আব্বার সঙ্গে আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিল ওই সফরে। আমরা কাবা শরীফের ভিতরেও গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে নামাজ পড়েছি। আমার ১৪তম জন্মদিন ছিল সেইদিন। আমার মনে আছে সৌদি বাদশা আব্বার জন্য বিমান পাঠিয়েছিলেন। আমাদের পরিবার এবং রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দ সঙ্গে ছিলেন। তখন সৌদি বাদশা ছিলো কিং সৌদ।

ওই সময় আমার মনে আছে বাদশা আমাদের জন্য একটি খাবার আয়োজন করেছিলেন। সেখানে আমরা দেখেছি একটা আস্ত উঠ লোহার শিকে ঘুরে ঘুরে রান্না করা হচ্ছিল। সেই উঠের পেটের ভিতর দেখেছি আস্ত ভেড়া দেয়া হয়েছে। আবার ভেড়ার পেটের ভিতরে ছিল বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর। ওইদিনের রান্নার দৃশ্য আজও আমার মনে আছে। খুব মজাদার ছিল সেদিনের ওই রান্না। মোহাম্মদ আলী খুব নরম হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ এড. একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, আমার আব্বার সঙ্গে তার খুব ভালো জানাশোনা ছিল।

একদিন আমার আব্বাকে মোহাম্মদ আলী সাহেব বলেছিলেন তুমি চাকরি করবা? আব্বা ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তাৎক্ষণিক তিনি বলেছিলেন তাহলে কাথা কম্বল নিয়ে এখনি সোনাতলা চলে যাও। ওইদিনেই তিনি আমার আব্বাকে সোনাতলায় পোস্টিং দিয়ে চাকরিতে যোগদান করান। তিনি আরও বলেন, ১৯৬২ সালে উত্তরাঞ্চলে বড় বন্যা হয়। ওই বন্যার সময় তিনি হেলিকপ্টারে সারিয়াকান্দি এবং ‘গাবতলীর পানিবন্দি মানুষদের দেখতে যান। সেখানে সাধারণ লোকজন তাকে বলেছিলেন আমরা আপনাকে ভাট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। দেখেন আমরা বন্যায় কতটা কষ্ট সহ্য করছি। আপনি আমাদের জন্য কী করবেন? এ সময় তিনি সাধারণ মানুষদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যমুনায় বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। পরে তিনি ফিরে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে রংপুরের কাউনিয়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ১১৫ মাইল বাঁধ নির্মাণ করেন। সেই বাঁধটি আজও রয়েছে। এই বাঁধ নির্মাণের ফলেই পূর্ব বগুড়ার দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। এই বাঁধ নির্মাণের আগে প্রতি বছর বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হতো। টিনের বাড়ি চোখেই পরতো না। সব ছিল খড়ের ঘর। রাস্তা বলতে কিছুই ছিল না।

এরপর তিনি বগুড়ায় পাকিস্তান স্টেট ব্যাংক বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে ম্যানেজিং বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ এড. একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, আমি অনেক উচ্চ শ্রেণির মানুষদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম মোহাম্মদ আলী এবং তার পরিবারের প্রতি আমাদের এই অঞ্চলের মানুষজন কেন এতো সম্মান প্রদর্শন করেন? সবাই একবাক্যে উত্তর দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলীর ব্যবহার ছিল খুবই অমায়িক।

তার সঙ্গে যে কেউ দেখা করতে গেলে সহজেই দেখা করতেন। মনোযোগ দিয়ে তার সমস্যার কথা শুনতেন। সমাধানের পথ বের করে দিতেন। সেইসঙ্গে আপ্যায়ন না করে কাউকে তিনি ছেড়ে দিতেন না। মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে এড. একেএম মাহবুবর রহমান আরও বলেন, আমি মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে একটি বইয়ে পড়েছি তিনি লেখালেখিতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে মর্ণিং নিউজ নামে একটি পত্রিকা বের হতো। সেই পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। হিটলার একদিন বলেছিলেন যে শত্রুকে যদি আঘাত করে ফেলে না দেয়া যায় তাহলে সে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

হিটলারের এই উক্তির জবারে মোহাম্মদ আলী হিটলারের উদ্দেশে লিখলেন ‘ হিটলার তুমি এক কাজ করো, তোমার প্রাইভেট সেক্রেটারিকে বলো প্রতিদিন সকালে তোমাকে এমন একটা করে ঘুষি দেবে যাতে তুমি পড়ে না যাও। তাহলে তুমি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এ রকম সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত লিখতেন বলে হান্নান সাহেবের একটি বইয়ে পাওয়া। পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটে রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে। পড়াশোনা এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো। মোহাম্মদ আলী তার পিতামহ নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর স্নেহের প্রথম জীবন শুরু করেছিলেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার হেস্টিংস হাউসে।

তারপর তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন যেখান থেকে তিনি ১৯২৬ সালে ইংরেজি বিভাগে মাদ্রাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বৃত্তিলাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৩০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ. পাস করেন। তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

পরে পিতার ডাকে তিনি বগুড়া নবাব এস্টেটের দায়িত্ব নিতে বগুড়া আসেন। ১৯৩৩ সালে মোহাম্মদ আলী বাংলা সরকার কর্তৃক একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। ১৯৩৭ সালে ভারত সরকার তাকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। ১৯৩২ সালে তিনি বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা স্কুল বোর্ডের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বরে তিনি বগুড়া পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। তিনি এই পদে ১৯৩৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বগুড়া পৌরসভার নথিপত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও মোহাম্মদ আলীর ছেলে হামদে আলী উল্লেখ করেন তার পিতা পরবর্তীতে বগুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মোহাম্মদ আলী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ছিলেন। খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন তিনি। অল্প সময়ের জন্য তিনি ভারতীয় ফুটবল এসোসিয়েশন গভর্নিং বডি এবং বেঙ্গল হকি এসোসিয়েশন কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ১৯৩৯ সালে বর্তমান সরকারি আযিযুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন তিনি কলেজটির ম্যানেজিং বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সাল থেকে বাংলা সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী রেলওয়ে কমিটির সদস্য এবং ১৯৩৮ সাল থেকে কৃষি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

তিনি রয়্যাল স্যানিটারি-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড হাইজিন, লন্ডনের সদস্য ছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৩ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার খাজা নাজিমুদ্দিনের সংসদীয় সচিব হন। ১৯৪৩ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৯৪৩-৪৭ সাল পযন্ত তিনি বগুড়া জেলা মুসলিম ছাত্র লীগের সভাপতিও ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি মুসলিম লীগের অধীনে পাকিস্তান ইস্যুতে ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে সোহরাওয়ার্দীর বঙ্গীয় মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন। কায়েদ-ই-আজমের আহ্বানে তিনি ১৯৪৬ সালে খান বাহাদুর উপাধি ত্যাগ করেন। গ্রেট কলকাতা কিলিং-এর সময় তিনি তার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তাহীন স্থান থেকে মুসলমানদের উদ্ধারে মনোযোগী হয়ে শত শত মুসলমানের জীবন রক্ষা করেছিলেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কলকাতায় লেক হাসপাতাল, ঢাকায় মেডিকেল কলেজ এবং নদীয়ায় প্রথম টিবি স্যানাটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি গণপরিষদের সদস্য হন এবং এতে ১৯৪৯ সাল পযন্ত তিনি পুনরায় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে বিধানসভা।

১৯৪৮ সালে তিনি বার্মায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পযন্ত তিনি কানাডায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছিলেন। ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ থেকে এপ্রিল ১৯৫৩ পর্যন্ত তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৫৩ সালের ১৭ই এপ্রিল পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে করাচিতে ডেকে পাঠান এবং তাকে বলা হয়েছিল যে পাকিস্তান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য তাকে সরকারের নেতৃত্ব দিতে হবে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার খাজা নাজিমুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওইদিনেই তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জাতির উদ্দেশে তার প্রথম ভাষণে ঘোষণা করেন অবিলম্বে অসহিষ্ণুতার অবসান ঘটাতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হবে। তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে। তিনি সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

মোহাম্মদ আলী প্রথম কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের আগস্টে। এ সময় তিনি কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লিতে যান এবং লোকসভায় তাকে অভিবাদন দেয়া হয়। কিন্তু ভারতের সেনাবাহিনী কখনোই চায়নি কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হোক। তার উদ্যোগকে বেশিদূর এগুতো দেয়নি। সম্মেলনে যোগদানকারী প্রধানমন্ত্রীদের মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন যে, কাশ্মীর সমস্যা একটি দীর্ঘকালীন বিরোধ। কাশ্মীর বিষয়কে সামনে রেখে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এখনো একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ওই সফরে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে কূটনৈতিক মহল অনুমান করছিল যে তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে নেহরুর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় নিযুক্ত হবেন। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার “শান্তি ক্ষেত্র” সম্পর্কে এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি বিশ্বশান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। একা আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়। তিনি আরও ঘোষণা করেছিলেন যে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তির অর্থ আমেরিকার সঙ্গে সারিবদ্ধতা নয়, এটি ছিল সম্পূর্ণরূপে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

পরবর্তীতে ভগ্নস্বাস্থ্যের কারণে ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে গোলাম মোহাম্মদ গভর্নর জেনারেলের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ওই সময় নতুন গভর্নর জেনারেল হিসেবে সৈয়দ ইস্কান্দার মীর্জা যোগদান করেন। সৈয়দ ইস্কান্দার মীর্জা গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব নেয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীকে পদত্যাগের জন্য নানভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। মোহাম্মদ আলী যেহেতু গোলাম মোহাম্মদের পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন সে কারণেই নতুন গভর্নর জেনারেল সৈয়দ ইস্কান্দার মীর্জা প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীকে সরানোর জন্য পাঁয়তারায় লিপ্ত হন। শেষ পর্যন্ত ইস্কান্দার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটিয়ে মোহাম্মদ আলীকে ১৯৫৫ সালের আগস্টেে ৮ তারিখে পদত্যাগে বাধ্য করেন।

পরে ১৯৫৫-১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৯৫৯-১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাপানে রষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বগুড়ায় ফিরে এসে জাতীয় পরিষদের সদস্যপদ নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র প্রথার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হন এবং এম.এল.এ নির্বাচিত হন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ২৩শে জুন তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান প্রবর্তিত আইন সভায় যোগদান করেন এবং পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোহাম্মদ আলী ১৯৩৪ সালের ৩০শে মার্চ সৈয়দা হামিদা হোসেনকে বিয়ে করেন। তার পক্ষের দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী ও সৈয়দ হামদে আলী। ১৯৫৫ সালের ২রা এপ্রিল তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন একজন লেবানিজ মহিলা আলিয়াকে। তার পক্ষের এক ছেলে সৈয়দ মাহমুদ আলী ও এক মেয়ে সৈয়দা মাহমুদা আলী। ১৯৬৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি রাত ৯টা ৫ মিনিটে মহান এই ব্যক্তি মোহাম্মদ আলী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার দুই স্ত্রী, সন্তান, তার চাচা নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা শয্যাপাশে ছিলেন।

এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনেম খান, নবাব খাজা হাসান আসকারী এবং তার সঙ্গে চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন বিছানার পাশে। মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর সকল প্রাদেশিক মন্ত্রী, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যবৃন্দ, শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ আজিজুল আলিঙ্গন, কূটনৈতিক সদস্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ বহু রাজনৈতিক নেতাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাতে তার বাসভবনে এসেছিলেন। তার অনেক বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং ভক্তদের কাঁদতে দেখা গেছে। শত শত শোকার্ত যারা বিদেহী নেতার শেষ দেখা দেখতে এসেছিলেন। তার মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো দেশজুড়ে। শোকবার্তা শোনার জন্য বেতারে ভিড় জমায় সাধারণ জনতা। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত হয়। বিদায়ী গভর্নমেন্ট- পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির অধিবেশনের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো পাকিস্তানের অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

সিনেমা হলগুলো তাদের শো বাতিল করেছিল। বেগম মোহাম্মদ আলীর প্রতি এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান তার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান) এর বগুড়া জেলায় নবাব বাড়িতে সমাহিত করা হয়। মোহাম্মদ আলীর বংশঃ মোহাম্মদ আলী। পিতার নাম সৈয়দ আলতাফ আলী। মাতার নাম মেহেরবানু বেগম। দ্বিতীয় মায়ের নাম আমিনা আলতাফ আলী। তার অন্য আরেকটি নাম আছে। সেটি হচ্ছে ঋষড়ৎবহপব ইৎরফমহবষষ. মোহাম্মাদ আলীর ভাই এবং বোনদের মধ্যে প্রথম সন্তান। তার প্রথম মা মেহেরবানু বেগমের পক্ষের সন্তানরা হলেন ক্রমানুসরেÑ সৈয়দ মোহাম্মাদ আলী, সৈয়দ আহম্মদ আলী, সৈয়দ হামদে আলী, সৈয়দ মাহমুদ আলী, সৈয়দা মাহমুদা আলী। দ্বিতীয় মা আমিনা আলতাফ আলীর সন্তানরা হলেন ক্রমানুসরে সৈয়দ আমির আলী এবং সৈয়দ ওমর আলী।

মোহাম্মদ আলীর চার সন্তান। প্রথম স্ত্রী হামিদা মোহাম্মদ আলীর পক্ষে সৈয়দ হাম্মাদ আলী, সৈয়দ হামদে আলী। দ্বিতীয় স্ত্রী আলেয়া মোহাম্মদ আলীর পক্ষে সৈয়দ মাহমুদ আলী এবং সৈয়দা মাহমুদা আলী। সন্তানদের মধ্যে সৈয়দ হাম্মাদ আলী লন্ডন, সৈয়দ হামদে আলী বগুড়া এবং দ্বিতীয় পক্ষের দুই সন্তান কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সন্তানদের সবাই জীবিত আছেন। দুই স্ত্রীন্তৃ মৃত্যুবরণ করেছেন। মোহাম্মদ আলী মৃত্যুবরণের পর ১৯৬৩ সালে স্বামীর শূন্য আসনে হামিদা মোহাম্মদ আলী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার সম্মানার্থে ওই সময়ের বিরোধী জোট কোনো প্রার্থী দেননি। ফলে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পরের নির্বানে তিনি আর অংশগ্রহণ করেননি। তবে মোহাম্মদ আলীর প্রথম সন্তান সৈয়দ হাম্মদ আলী ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে এমপিএ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে সেভাবে তার পরবর্তী বংশধররা রাজনীতির মাঠে বিচরণ করেননি। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী তার কৃতকর্মে আজও উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন। দেশ-বিদেশে মোহাম্মদ আলী স্মরণে কিছু স্থাপনার নামকরণ রয়েছে। যেমন: পাকিস্তানের করাচীতে ‘মোহাম্মদ আলী বগুড়া রোড’ নামের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। সড়কটি আজও ওই নামেই মানুষ চেনে।

তার মৃত্যুর পর বগুড়ায় ‘মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল’ নামের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও বগুড়ার শিবগঞ্জে ‘মোহাম্মদ আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ রয়েছে। রয়েছে ‘মোহাম্মদ আলী স্পোর্টিং ক্লাব’। ‘মোহাম্মদ আলী সড়ক’ (বগুড়া-সান্তাহার) সড়কটি পূর্বে মোহাম্মদ আলী রোড নামে পরিচিত ছিল। এছাড়াও পকিস্তানের ইসলামাবাদে ‘মোহাম্মদ আলী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ নামে একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিবিজড়িত নবাব বাড়ি: মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিবিজড়িত বগুড়া শহরের নবাববাড়ি (প্যালেস মিউজিয়ামটি) ২০১৬ সালে উত্তরাধিকাররা বিক্রি করে দিয়েছেন। সাবেক বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান মিলন, হাসান গ্রুপের কর্ণধার শফিকুল হাসান এবং শাহ সুলতান গ্রুপের কর্ণধার আবদুল গফুর এই সম্পত্তি ক্রয় করেন।

১ একর ৫৫ শতাংশ সম্পত্তির উপর গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক নবাববাড়ির ভিতরে প্রায় সব নিদর্শন ইতিমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে সাধারণের প্রবেশ অনেক আগেই নিষেধ করেছে বর্তমান মালিকপক্ষ। ফলে ভিতরে কী হচ্ছে সেটা বাইরে থেকে অনুমান করা মুশকিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে সেখানকার নান্দনিক স্থাপনাগুলো নষ্ট করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ইতিহাসের সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে জড়িত এই প্যালেসটি চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেখে মর্মাহত হয়েছেন ইতিহাস প্রেমীরা। নবাববাড়ি নিয়ে আদালতের একটি রায় রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ওই সম্পত্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মনে করলে একোয়ার করতে পারবে। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি রক্ষা করতে বরাবরেই উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। কার্টেসি মানবজমিন

ঢাকা, ০৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি




আপনার মূল্যবান মতামত দিন: