তরুণ প্রজন্মের চোখে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশ


Published: 2021-03-17 16:37:04 BdST, Updated: 2021-08-03 04:12:54 BdST

মো. রুপন ইসলাম শুভ: বর্তমান ঢাকা বিভাগের জেলাশহর গোপালগঞ্জের মধুমতি ও বাঘিয়ার নদীর তীরে সবুজবীথিতে গড়ে ওঠা বাংলার গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্ম হয় এক ছোট্ট খোকার৷ দুখিনী বাংলার অসহায় মানুষের মুক্তির পতাকা হাতে দিয়ে সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছিলেন খোকাকে। সময়ের স্রোতে সেই খোকাই একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাংলার অসহায় মানুষের মুক্তির দিশারি। নির্ভীক, ডানপিটে, সাহসী স্বভাব আর দূরদর্শী প্রজ্ঞা এবং গন মানুষের কল্যানে আত্মত্যাগের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে পরিনত বয়সেই হয়ে উঠেছিলেন আশ্রয়হীন বাঙ্গালীর অসংবাদিত নেতা। বিশ্ব ইতিহাসে স্বাধীন বাংলার স্থপতি হিসেবে স্ব-মহিমায় রাজনৈতিক বিশ্বমঞ্চে ঠাঁই পেয়েছিলেন তিনি।

চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন পিতা লুৎফর রহমান এবং মাতা সাহারা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী গিমডাঙা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি৷ পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ সরকারী পাইলট স্কুল এবং গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন।

১৯৪০ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বভারতীয় মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশন(MSF) এ যোগাদানের মাধ্যমে ২০ বছর বয়সেই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ছাত্র ইউনিয়নে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ১৯৪৯ সালে তৎক্ষালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা এবং পরবর্তী ১১ দফা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গনঅভ্যূথানসহ প্রতিটি গনতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এই নেতা। ৬৯'র ঐতিহাসিক গনঅভ্যূথানের মাধ্যমে ছাত্র জনতা তাকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলে তৎক্ষালীন পাকিস্তান সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে উল্টো বাঙ্গালী জাতির উপর নানা নির্যাতন শুরু করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ 'র ৭ ই মার্চের ভাষনে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর 'International Memory of World Register' এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

বাঙালী জাতির অসহায়ত্বের ঐসময়ে সাহসী এ নেতা ২৫ মার্চ মাঝরাতে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন এবং তার নেতৃত্বেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান আর অসংখ্য মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত পালিত সপ্ন 'প্রিয় স্বাধীনতা'।

বিংশ শতাব্দীর নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন করে যারা বিশ্ব নন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম। সাম্য, মৈত্রী, গনতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদানের জন্য বিশ্ব শান্তি পরিষদের 'জুলিও কুরী' উপাধি লাভ করেন ১৯৭৩ সালের ২৩ এ মে।

যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতায় পরাধীন শক্তি ও কায়েমী স্বার্থন্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ ষড়যন্ত্রের অংশো হিসেবেই ১৯৭৫ সালের ১৫ ই অগাস্ট তার ধানমন্ডি বাসভবনে কতিপয় বিপদগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনিসহ তার পরিবারের অধিকাংশো সদস্য নিহত হন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানের কারনে বেঁচে যান উনার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু রেখে গেছেন তার অমর কীর্তি ''স্বাধীন বাংলাদেশ''। এ স্বাধীন বাংলাদেশ রক্ষার দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ প্রজন্ম। আমাদেরকে মহান এ নেতার নেতৃত্বে পাওয়া স্বাধীন দেশটাকে, দেশের মানচিত্রটাকে বাঁচিয়ে রেখে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর সাথে এক কাতারে মাথা উঁচু করে দাড়ানোর প্রত্যয় ধারন করতে হবে।

লেখকঃ মো. রুপন ইসলাম শুভ, প্রানীসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ১৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।