Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৪, ৯ই বৈশাখ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

বুদ্ধিজীবীরা ঘুমিয়ে আছে বাঙালির অন্তরে

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বার ২০২২, ২৩:২০

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস'

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে ১৪ ডিসেম্বর বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী। সেই দিনের শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বরকে 'বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। আর এই 'বুদ্ধিজীবী দিবস' নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি হয় অসংখ্য চিন্তা ভাবনা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ভাবনা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর জবি প্রতিনিধি রিদুয়ান ইসলাম

বুদ্ধিজীবীরা না থাকলে স্বাধীন দেশ পেতাম না

স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল, একেবারে শেষ দিকে এসে পরাজয়ের আগমুহূর্তে তা রূপ নেয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে। বুদ্ধিজীবীরা আমাদের গর্ব। তারা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানিরা বুঝতে পেরেছিল যে এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে পারলে দেশটা পঙ্গু হয়ে যাবে। সেই কাজটাই তারা করেছে।
আফরিন আক্তার

শেষ পর্যন্ত কিন্তু আমাদের পিছিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি, আমরা এগিয়ে গেছি। এটাও ঠিক, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা না থাকলে আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাদের আদর্শ আর কর্মকে অনুসরণ করে এদেশের তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

আফরিন আক্তার
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

বুদ্ধিজীবীরা ঘুমিয়ে আছে বাঙালির অন্তরে

বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকিস্তানিরা যে নির্মম, বর্বর, নিষ্ঠুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, বিশ্বে গণহত্যার ইতিহাসে তা কলঙ্কিত অধ্যায়। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয়ের ঊষালগ্নে এ দিনে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
রবিউল লস্কর

তারা মনে করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলেই এই দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে এবং উন্নয়ন অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেয়া যাবে। স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। পৈশাচিক সে হত্যাকাণ্ড জাতির জীবনে সৃষ্টি করেছে এক গভীর ক্ষত। তারা আজ প্রত্যেক বাঙালি জাতির অন্তরে ঘুমিয়ে থেকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার আশির্বাদ করছে।

রবিউল লস্কর
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

জাতির সূর্য সন্তানেরা জেগে থাকুক শ্রদ্ধায়

প্রতিটা ডিসেম্বরের পাতা জুড়ে যেন বাঙালির সাথে ঘটে যাওয়া অমলিন কিছু স্মৃতি রয়েছে। এমন একটি স্মৃতি হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৪ই ডিসেম্বর, যেদিন হত্যা করা হয়েছিল বাঙালি জাতি তৈরি হওয়ার পেছনের কিছু কারিগরদের। যারা তাদের মেধা দিয়ে অর্জন করাতে চেয়েছিলো বাঙালির অধিকার, বাঙালিদের ন্যায্যের দাবি। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা তাদের মহৎ উদ্দেশ্য ও বুদ্ধির বাহার দিয়েই বাঙালিদের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলো।
সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি

১৪ ডিসেম্বর শুধু শ্রদ্ধা গুরু বুদ্ধিজীবীদেরই হত্যা করা হয়নি পাক সেনারা সেদিন একটা নবগঠিত বাংলাদেশ গঠন হওয়ার স্বপ্নকে নস্যাৎ করে দিয়েছিলো। অত্যাচার শোষণ আর তীব্র নির্যাতনের যাতা কলে নিষ্পেষিত হয়েছেন যেই সকল বুদ্ধিজীবীরা আমরা আজও তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। সমগ্র বাঙালি জাতিকে, যারা তাদের মূল্যবান মেধা শক্তি দিয়ে অজস্র প্রেরণা দিয়েছে সেই সকল বাঙালি সূর্য সন্তানেরা যেন আজীবন জেগে থাকুক প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি
শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।

সেদিন আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল

দেশ হিসেবে আমাদের যত অবক্ষয়, যত সমস্যা দেখি, সেসব সমস্যার মূল যদি তলিয়ে দেখি তা হলে এই দিনটা তার জন্য দায়ী। কারণ আমাদের সমস্যার সমাধান যারা দিতে পারতেন, যারা দেশটাকে উন্নত করতে পারতেন, তাদের এই দিনটিতে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তখন তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় বেছে বেছে হত্যা করেছিল জাতির অগ্রণী শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের।
খায়রুল হাসান আকাশ

যখন একটা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয় তখন আসলে সেই জাতি পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করা খাটে না। আমি কখনই কারও নীতিগত অবক্ষয় বা পিছিয়ে থাকার কারণে রাগ করি না। আমি বাংলাদেশ নিয়ে কখনই আশাহত নই, কারণ আমরা মেরুদণ্ড-ভেঙে দেওয়া একটা জাতিকে বিনির্মাণ করছি।

খায়রুল হাসান আকাশ
শিক্ষার্থী, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ।

বাঙালির উপর পাকিস্তানের শেষ পেরেক

বাঙালির বিজয় অবশ্যম্ভামী দেখে পাকিস্তান নিজেদের সবচেয়ে কুখ্যাত নীলনকশা গুলোর একটি বাস্তবায়ন করেছিলো ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। যা বাঙালি ইতিহাসে একটা বিরহ ও বেদনাদায়ক দিন। পাকিস্তান ও এদেশে তাদের দোসরদের পাশবিকতার চূড়ান্ত রুপ ঐ দিন সারা বিশ্ব দেখেছিলো। বাঙালিকে মেধা শূন্য ও অকার্যকর জাতিতে পরিনত করতে তারা ঘৃণিত এই পথ বেঁছে নিয়েছিলো।
অভি সুলতানা

স্বাধীনতার প্রাক্কালে একবার এরকম হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছিলো এবং অন্তিম মূহুর্তে এসে সেটার পুনরাবৃত্তি করেছিলো।তারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অমানবিক জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বরাবরই কলম ধরেছিলো।বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে তাদের অবদান জাতি আজও শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। জাতির ঐ সূর্য সন্তানদের হত্যা বাস্তবায়নে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো যারা বেচে আছে তাদের বিচার হোক এটাই কাম্য।

অভি সুলতানা
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞান।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ছাত্রসমাজ অঙ্গিকারবদ্ধ

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। দীর্ঘ ৯ মাস মাসের সংগ্রামের পর চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে অধ্যাপক জি সি দেব, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা সহ আরো অনেক বুদ্ধিজীবীদের বাংলার মানুষ চিরতরে হারিয়ে ফেলে, শেষমুহুর্তে এসেও উপভোগ করতে পারলো না বিজয়ের উল্লাস।
মো. মেহেদী হাসান

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও বাংলার প্রতিটা মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাঁদের বীরত্বেই বাংলা পেয়েছে স্বাধীনতা। বীরত্বের অধিকারী এই বীর সন্তানদের আমরা কখনো ভুলবো না এটাই ছাত্র সমাজের অঙ্গিকার।

মো. মেহেদী হাসান
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনুসরণে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী

মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল সাধারণ জনগণ। আর এই সাধারণ মানুষদেরকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে যখন পাক বাহিনী বুঝতে পারল তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা একটি কলঙ্কিত অধ্যায় সৃষ্টি করে। এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী একটি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় পাক বাহিনীর সদস্যরা, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে এদেশের শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে যাতে করে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
শিউলী আক্তার

সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ সেটি প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে ছাত্রসমাজ কোনদিনই এই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদানকে ভুলবে না। তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ,অনুকরণ ও অনুসরণের মধ্য দিয়েই অব্যাহত থাকবে আমাদের আগামীর পথচলা।

শিউলী আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ১৪ই ডিসেম্বর কে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালে মূলত পূর্ব বাংলাকে মেধা শূণ্য করার লক্ষ্যে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক , সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে যাতে বাংলাদেশ মেধা শূন্য হয়ে যায়। কারণ মেধাবী জাতি একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
পাপুন অধিকারী

প্রকৃত মেধাবীরা সব সময় দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের উচিৎ তাদের এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত করা। স্ব-অর্জিত জ্ঞান শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ ও জাতির উন্নতিতে এটির যথাযথ প্রয়োগ ঘটানো।

পাপুন অধিকারী
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ