teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com
৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ইবি: '৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সংকট এখনো কাটেনি'

Md Akramuzzaman | প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৩

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৩

ইবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রতিষ্ঠার তেতাল্লিশ বছর পার করে চুয়াল্লিশে পা রেখেছে স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, দেশের ৬ষ্ঠ বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত চার দশকে ইবির রয়েছে অসংখ্য গৌরমমন্ডিত অর্জন। একইসাথে শত প্রাপ্তির ভীড়ে বেশকিছু সমস্যাও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৪তম জন্মদিনে কী ভাবছেন শিক্ষার্থীরা? ইবি প্রতিষ্ঠার ৪৪-শে পদার্পনে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্বন্ধে ইবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আবির হোসেন

বিদ্যমান সংকটগুলোর সুষ্ঠু সমাধান জরুরি

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম স্থাপিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চার দশকে ইবির রয়েছে অনেক অর্জন, একইসাথে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যাও। প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরেও গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আবাসিক হলের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষাখাতে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও তা একই জায়গায় আটকে আছে। গবেষণা ছাড়া কখনো উচ্চ শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করতে পারে না।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এদিকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। অনুষদ, বিভাগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বাড়লেও যুগোপযোগী ও কাক্সিক্ষত মানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। অথচ কাক্সিক্ষত পরিবেশ আর সুযোগ সুবিধার অভাবে অনেকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ঘুণে ধরেছে।

এখানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও চলে বাণিজ্য আর প্রশাসনিক জটিলতা তো আছেই। আবাসিক হল, লাইব্রেরি আর মেডিকেলের সেবা পেতে লাগে আলাদা আলাদা কার্ড। অথচ প্রশাসন চাইলেই সহজেই একটা কার্ডের মাধ্যমে একাধিক সেবা লাভ করার ব্যবস্থা করতে পারে।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবহন সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের উন্নয়নও শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর একটি বড় বাঁধা হলো ‘দুর্নীতি’। দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে না ধরলে উন্নয়ন সম্ভব না। তাছাড়া যারা সংস্কৃতিমনা তাদেরকে সংস্কৃতিমুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। সর্বোপরি, একটা সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস সকলেরই প্রত্যাশা।

শ্যামলী খাতুন, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত হোক

নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যদিয়ে ৪৪ বছরে পদার্পণ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার গত ৪৩ বছরে নানা প্রতিকূলতা পার করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ক্যাম্পাস পরিবর্তনের মত বৈরীতাও সামাল দিতে হয়েছে একাধিকবার। প্রতিষ্ঠার এত দিনেও দূর হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট। এছাড়াও পরিবহণ সমস্যা, যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব, মাত্রাতিরিক্ত ভর্তি ফি বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ নির্দেশ করে এখনো প্রত্যাশার অনেক কিছুই অপূর্ণ।

তবে এসব কিছু ছাপিয়ে বিগত কয়েকটি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ছিলো চোখে পড়ার মত। অতীতের সকল অপূর্ণতা, অপ্রাপ্তি আর বাঁধা ডিঙ্গিয়ে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়গান প্রতিধ্বনিত হোক দিকদিগন্তে। শিক্ষা-গবেষণায় বিশ্বব্যাপী অধিষ্ঠিত হোক অনন্যতার সাথে। এই কামনায়-শুভ জন্মদিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ, আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তা, সুস্থ রাজনীতি আর সাংস্কৃতিক চর্চা হোক

হাজারো স্বপ্নের সারথী, প্রানের স্পন্দন আর একটি অনুভূতির নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৪৪ বছরে পা দিচ্ছে প্রানের এই বিদ্যাপীঠ। দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরী ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর বয়সে প্রাপ্তির খাতায় যেমন যুক্ত হয়েছে নানা অর্জন, তেমনি রয়েছে নানা অপ্রাপ্তিও। দীর্ঘ এ পথচলায় নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত ছিলো প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রত্যাশা অবকাঠামোগত ও যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ক্যাম্পাসে শতভাগ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক। সবুজে ঘেরা ১৭৫ একরের এই ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তা, সুস্থ রাজনীতি আর সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটুক। সর্বদা শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক, সমৃদ্ধ হোক গবেষণাক্ষেত্র। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলুক অপ্রতিরোধ্য গতিতে। সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হোক নতুন আঙ্গিকে এই প্রত্যাশা।

রুখসানা খাতুন ইতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস ও ৫ম সমাবর্তনের স্বপ্ন দেখি

এদেশে উচ্চশিক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে দেশের প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেরা একটি। এটি ২২ নভেম্বর ৪৪তম বর্ষে পদার্পণ করছে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে অগ্র্রগামী ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ইবিতে ৮টি অনুষদের অধীনে আল-কুরআন, আল-হাদিস, দাওয়াহ, আরবি, চারুকলা, জার্নালিজম, শারীরিক ও ক্রিড়া শিক্ষা বিভাগসহ ৩৬টি বিভাগ চালু রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

চার শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থী দেশী-বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। সর্ববৃহৎ সমাবর্তনও করেছিল ইবি। ৪র্থ সমাবর্তনে দশ হাজার গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করে। গোছানো, পরিপাটি ও সবুজ ক্যাম্পাস খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক-বিনোদন ও খেলাধূলায় বরাবরই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এরপরেও সময়ের প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিতে বেশ কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। প্রথমত গবেষণায় মনোযোগ বাড়াতে হবে। লাইব্রেরী ব্যবহারের বিধিমালা শিথিল করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া। প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল প্রদান করতে হবে।

এছাড়া সেশন জট শূণ্যে নামিয়ে আনা, আবাসন ও পরিবহন সংখ্যা বৃদ্ধি সময়ের দাবি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে সবধরণের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বেগবান করে শিক্ষার সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। আমরা আরো প্রত্যাশা রাখি আমাদের শিক্ষকরা অপরাজনীতির চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরো মনোযোগী হবেন। প্রশাসন ও শিক্ষকদের কাছে দ্রুত ৫ম সমাবর্তনের দাবি জানাই।

অনিল মো. মোমিন অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সংকট এখনো কাটেনি

ইসলামী ভাবধারার মানুষ তৈরীর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ত রয়েছে আবাসন সংকট। ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট এখনো কাটেনি। পরিবহন ব্যবস্থা, আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা, যুগোপযোগী শিক্ষা থেকে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়টি সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবে এবং শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। একইসাথে শেষনজট নিরসনে যথেষ্ট উদ্যোগী হবে। পরিবহন ব্যবস্থার সংকট উঠতে পারবে। সর্বোপরি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মন্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনাম অর্জন করতে পারবে বলে আমি আশা রাখি।

শহিদুল ইসলাম, আরবি সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য গবেষণা

শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়ানো, গবেষণার মাধ্যমে একটা প্রতিষ্ঠান উন্নতির উচ্চ শিখরে যেতে পারে। তবে একই সাথে অবকাঠামো ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে, নতুন শিক্ষক নিয়াগের ব্যবস্থা করা। অনেক বিভাগের ল্যাব থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের সমস্যা। আবাসন সমস্যা তো অনেক দিনের। আবাসিক হলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বাইরে অবস্থান করতে হয়।

মোজাহিদুল ইসলাম গণিত বিভাগ

দীর্ঘদিন থেকে নতুন হলের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না কিছুতেই। হলের খাবারের মান খুবই নিম্ন, এইদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস নেই, শিক্ষার্থীদের তীব্র পরিবহন সংকটে পড়তে হচ্ছে। লাইব্রেরিতে অনেক বই পাওয়া যায় না, এই জন্য বই সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এই বিষয়গুলো প্রত্যাশা করছি।

মোজাহিদুল ইসলাম গণিত বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ২২ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: