বিজয় দিবস: 'তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ'


Published: 2021-12-16 19:44:31 BdST, Updated: 2022-01-19 07:49:34 BdST

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে তরুণ-যুবার দ্রোহ আর আত্মত্যাগই গড়ে দিয়েছিল স্বাধীনতার পথ। স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আগামীর দিকে তাকিয়ে কী ভাবছে আজকের তরুণ্য? স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে "তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ" তুলে ধরছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর প্রতিনিধি মোঃ জাকির হোসেন

“নাগরিক বান্ধব সোনার বাংলা চাই”

জনগণ একটি দেশের প্রাণবায়ু। অক্সিজেন ছাড়া যেমন মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমন জনগণ ছাড়া একটি দেশের ঠিকানা গড়া সম্ভব না। প্রিয় বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতির জন্য স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের মনোমুগ্ধকর ও একতাবদ্ধ ভাষণ শুনে বাংলার আনাচে-কানাচের সকল জাত, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই ঝাপিয়ে পড়েছিলেন শুধুমাত্র আজকের এই স্বাধীন বাংলা অর্জনের জন্য। ধীরে ধীরে আমরা স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী ক্ষণে চলে এলাম। এতটা পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে ব্যাপক ভাবে পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি দেশ। সমাজ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সকল স্তরে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এনেছেন আমূল পরিবর্তন।

ফারহানা ইয়াসমিন

 

ক্যালকুলেটরের সাহায্যে হিসাব করেও শেষ হবে না দুই যুগ আগের বাংলাদেশের পরিস্থিতি আর এখনকার বাংলাদেশের পরিস্থিতি, উন্নয়ন এবং অগ্রগতি। দারিদ্র্যতা, গৃহহীন সংকট , নারী শিক্ষার অপ্রতুলতা সহ নানান মূখ্য কিছু সমস্যার জ্বরে আক্রান্ত ছিল বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সে সকল সমস্যা অতিক্রম করে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশের দরবারে পদার্পণের পথ গুনছে। এমতবস্থায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আগামীর বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসাবে দেখতে চাই যেখানে থাকবে না কোনো দূর্নীতি, যেখানে থাকবে না দুর্বলের উপর কোনো অত্যাচার এবং যেখানে থাকবে না কোনো সন্ত্রাস বাদ। যেখানে থাকবে শুধু জনগণ ও নাগরিক বান্ধব পরিবেশ। তাহলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

ফারহানা ইয়াসমিন, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"সুষ্ঠু পরিবার ও সমাজ গঠন চাই"

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাঙালী জাতির গৌরব। ৫০ বছরে নানা প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির দেখা মিলেছে। দেশের সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে আমাদের অর্জনে আশার দিকের পাশাপাশি এই চলার পথে আমাদের জন্য কিছু হতাশার দিকও আছে। সমাজের রুট থেকে যদি বলি মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গায় সম্ভবত আমরা দিন দিন পিছিয়ে গিয়েছি। পারিবারিক মূল্যবোধের জায়গায় বিভিন্ন কারনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বউ শাশুড়ির মাঝে মা মেয়ে সম্পর্কের দিকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাইয়ে ভাইয়ের সম্পর্কে মাঝের দেয়ালও তুলে ফেলতে হবে।

সামাজিক ভাবে আমরা এখনো বৈষম্যের মাঝে বসবাস করতেছি, নারীর নিরাপত্তার দিকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কথা আরও ভাববার সময় এসেছে। বৈষম্যের তালিকায় এই শতাব্দীতে হুজুর নামক শব্দ যুক্ত হয়েছে। ধর্মীয় পোশাক আর বিধান পালনে অভ্যস্তের কারনে সমাজিক আচার অনুষ্ঠান সহ চাকুরির ক্ষেত্রেও এই শ্রেনী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িকতার কথা যারা বেশি বলে তারাই আবার ধর্ম পালনের কারনে একটা শ্রণীকে বৈধ অবৈধ নানান ট্যাগ দিয়ে বৈষম্যের মাঝে ফেলে দিচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ঘর-বাড়ি এখনো দখল হয়, মন্দিরে হামলা হয়।

আবু বকর সিদ্দিক শোয়েব

 

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে এমন উগ্রতা হুজুর /হিন্দু / নারী / ৩য় লিঙ্গ কারো সাথেই যেন না হয় এমনটা রাষ্ট্র আর সমাজের কাছে প্রত্যাশা করি। দলীয় প্রতিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়ার কারনে রাজনীতি আর গণতন্ত্রের যতটুকু ভালোদিক টিকে ছিল তাও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। রাজনৈতিক সহাবস্থান আর সমঅধিকার সবার আগে নিশ্চিত না করলে সমাজের অস্থিরতা দূরে হবে না। সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহাবস্থান সহ পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অর্থনৈতিক ভাবে আমাদের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমাদের ধনী গরীবের বৈষম্য দূর করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহে জণগণ যাতে নিরাপদে লেনদেন করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন করে দেশের সব নাগরিকদের সাধ্যের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মিয় আর রাজনৈতিক ভাবে সুশিক্ষা সুনিশ্চিত করে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

আবু বকর সিদ্দিক শোয়েব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়৷

 

"দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ চাই"

লাখো শহীদের রক্তে লেখা আমাদের এই সোনার বাংলা। যার রয়েছে স্বর্ণ অক্ষরের ইতিহাস। শোষকের কারাগার থেকে মুক্তি হয়ে আজ আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে সোনার বাংলার যেমন আছে সফলতা তেমনি আছে ব্যর্থতা। সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহিন্দ্র ক্ষণে এসে আমরা আর ব্যর্থতা চাই না। আজকের তরুনরা আগামীর ভবিষ্যৎ। তরুণ সমাজের কাছে দেশ যেমন আশা করে তেমনি তরুণরাও দেশের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে।

মোঃ শহিদুল ইসলাম

 

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে অতিগরিব মানুষের সংখ্যা বেশি এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ২ কোটি ৪১ লাখ হতদরিদ্র মানুষ আছে। বিশ্বব্যাংক ‘প্রভার্টি অ্যান্ড শেয়ার প্রসপারিটি বা দারিদ্র্য ও সমৃদ্ধির অংশীদার-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষ আছে, এমন ১০টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে (পিপিপি) যাঁদের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম, তাঁদের হতদরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, আমরা আশা রাখি যে শিঘ্রই একটি সুন্দর ক্ষুদা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা দেছতে পাবো৷দেশ তখনই পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।

মোঃ শহিদুল ইসলাম, বাংলা বিভাগ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"শোষণমুক্ত রাষ্ট্র চাই"

'একি সাথে চলি মোরা একি সুরে যেন গাই গান, বিজয়ের কেতন উড়িছে হেথা করিবে সম্মান।'

লাখো শহীদের বিনীময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলা আজকে ৫০ তম বিজয় দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি খ্যাত আজকের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র অবকাঠামো দিক দিয়ে শো শো করে এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে।কিন্তু যেই লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল শিক্ষা মনুষ্যত্ব,জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজতন্ত্র সেই লক্ষ্য চেতনা কতদূর সফল হয়েছে তা প্রশ্নবিদ্ধ।দেশের সবখানে গরীব অসহায়দের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত৷ প্রকৃতশিক্ষা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দুর্বলতা থেকেই যাবে এই বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে এসেও সেটি আমাদের কারোই স্বাধীন রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত নয়।সকল সমস্যা দূর করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র তার লক্ষ্য অতি দ্রুত পূরণ করুক এটি আমাদের মনের দাবী।

ইব্রাহিম খান

 

জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা,স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা যত তারাতারি নিশ্চিত করা যাবে ততই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,শহীদদের আত্মা,তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।এটি রাষ্ট্রের কাছে তার প্রত্যেক নাগরিক আশা করতেই পারে।এইদেশ আগের সেই পল্লবগণ সৌন্দর্য ফিরে পাক,অবকাঠামোর নামে অক্সিজেন হত্যা তরুণ প্রজন্ম চায়না। নদ-নদী ফিরে পাক তার পূর্ণ যৌবনা।আমরা দক্ষ জনশক্তি রাষ্ট্রের সহযোগী হই। বিজয় দিবস পূর্ণতা পাক, সফল হোক সকল মায়ের আকুতি - মিনতি।"ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা ফের যদি জন্ম হয় তবে এই বঙ্গে যেন হয়"

ইব্রাহিম খান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"সুষ্ঠু রাজনীতিবান্ধব দেশ চাই"

বিজয়ের পিছনেই আছে এক গভীর কান্না। যার ইতিহাস ১৯৭১ সালে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। স্বপ্নের বাংলাদেশ এগুচ্ছে খুব সুন্দর ভাবে, পরিকল্পনা মাফিক। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত হচ্ছে, দেশে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলের মতো বহু ব্যয় বহুল আধুনিক ছোঁয়া।

মোঃ নাইম ইসলাম

 

তবে দেশের মূল প্রতিবন্ধকতা রাজনীতি৷রাজনীতি হলো একটি দেশের মূল ৷যে দেশের রাজনীতি যত সচ্ছ সে দেশ তত উন্নত৷দুঃখজনক হলেঐ সত্য স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও আমাদের দেশের রাজনীতি ধীরে ধীরে নোংরা রাজনীতি পরিণত হচ্ছে৷এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক কাঠামো৷প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুষ্ঠু সুন্দর দেশ গঠনে অবদান রাখতে সাহায্য করতে হবে৷আমরা চাই, আমাদের দেশ আরও সামনে এগিয়ে যাক। আরও উন্নতি লাভ করুক।

মোঃ নাইম ইসলাম, দর্শনবিভাগ, বরিশাল, বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"দক্ষ জনশক্তি নির্ভর বাংলাদেশ চাই"

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। ২৬ মার্চ শুক্রবার স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি।

স্বাধীনতার ৫০(সুবর্ণ জয়ন্তী) বছরের পথচলায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক ও মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশ পেয়েছি। দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অনেকের জন্য রোলমডেল।অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ এ পাঁচ দশকে বাংলাদেশের রয়েছে অভাবনীয় সাফল্য,তেমনী রয়েছে অনেক অপ্রাপ্তি।

সাইদুজ্জামান শোয়েব

 

আগামীর বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল এবং উন্নত। সেজন্য দেশের জনগণের শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকল্প নাই। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড৷শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে করোণার ক্ষতি পুষিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকারের এক্ষেত্রে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানাই।

ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পেয়েছি মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল সহ অনেককিছু। আমরা বর্তমান বাংলাদেশকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে পেরেছি যার সুফল এদেশের মানুষ ইতিমধ্যে পাচ্ছে। আমরা আশা করতে পারি আগমীতে বাংলাদেশ হবে সফল ও সমৃদ্ধশালী এক দক্ষ জনশক্তি নির্ভর বাংলাদেশ।

সাইদুজ্জামান শোয়েব, অর্থনীতি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"শিক্ষা গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় চাই"

নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব এই চার উপাদানে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে আগে আমাদের ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ছিল কিন্তু ছিলনা সার্বভৌমত্ব। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ আমাদের এই বাংলাদেশকে পেয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বপ্ন দেখতেন সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণের জয়ন্তীতে এসেও আমরা সেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখে চলি।

সোহেল রানা

 

সোনার বাংলা বির্নিমানে আমাদের যতটা অগ্রগামী হওয়া প্রয়োজন ছিল তা থেকে এখনো আমরা যোজন যোজন দূরে রয়েছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্র, গবেষণা, মানবাধিকার, আমাদের অর্জন শূন্যের কোঠায়। শক্তিশালী ও আধুনিক জাতি গঠনে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তি, ডিজিটাইলজেশনে আরো বেশি দৃঢ় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সর্বজনীন৷অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যিলয়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় শিক্ষা ও গবেষণায় তাদের কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং৷সে তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা অতি নগন্য৷সুতরাং সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণামুখি করে গড়ে তুলতে হবে। অর্থনীতি নতুন রূপে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা অনুসারে ঢেলে সাজাতে হবে। তাহলে আমাদের বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ হয়ে উঠবে।

সোহেল রানা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

"স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নিরসনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ চাই"

তরুণরা একটি দেশের মূল চালিকা শক্তি। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যেখানে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল সব থেকে বেশি। তরুণরা সব সময় এই দেশকে সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে সব সংগ্রামে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের নানা দিকে নানা ধরনের অর্জন থাকলেও ১৯৭১ সালে যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল; আজ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে গিয়েও আমরা দেখি সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে সফল হয়নি।

বিভিন্ন সমস্যা যেমন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি খুন ধর্ষণ সড়কে প্রাণহানিসহ নানা সমস্যা থাকার কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়ত আমরা এখনো দেখতে পাইনি। অর্জন করতে পারিনি স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য।

আমি যদি বিশেষ করে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যখাতের কথা বলতে যায় তাহলে আমার চোখ সবার প্রথমে পড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির দিকে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বি.এম.এ) মহাসচিব প্রফেসর ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘বাজেট কম হওয়ায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই চিত্র এটা যেমন সত্য, তেমনি বাজেটের অধিকাংশ বরাদ্দ দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যখাতের কোনো কাজে আসেনি৷ পরিকল্পনা হয়েছে আমলা নির্ভর ফলে স্বাস্থ্যখাতের কোথায়, কী প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনা হয়নি।’’

একজন ডাক্তারের বিপরীতে নার্স থাকতে হয় তিন জন, কিন্তু আমাদের আছে আধা জন। ২০১৭ সালে টিআইবির খানা জরিপে স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷ জরিপে অংশ নেয়া ৪২.৫ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ঘুস দুর্নীতির শিকার হয়েছেন৷ সর্বশেষ এই করোনার মধ্যে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির কথা সবার জানা। এখনো তদন্তই চলছে, ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

হাদিউজ্জামান সুজন

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামাান বলেন, ‘‘কোভিড-এর কারণে স্বাস্থ্যখাতে দুই ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে৷ প্রথমত: স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি এবং দ্বিতীয়ত: স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে দুর্নীতি৷ ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় এই খাতে দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি। আমরা এই করোনা সংকটের মধ্যেও সেই দুর্নীতি দেখেছি৷’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতের যন্ত্রপাতি কেনায়৷ ২৭টি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটার তথ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যম দুর্নীতির এই চিত্র প্রকাশ করেছিল।

সত্যিকার অর্থে বিজয় মানে শুধু একটি পতাকা বা ভূখণ্ডই নয়। সময় এখন সেই অর্জিত ভূখণ্ডকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। বিজয় মানে এমন একটি দেশ, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য। থাকবে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে রয়েছে নানা অসামঞ্জস্য, অক্ষমতা। আমাদের বিজয় সেদিনই সফল হবে; যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাবে দেশ। সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না মৌলিক অধিকারে কোনো বাধা, থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ। বিজয়ের এ মাসে আমি মনে করি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে তরুণ সমাজের হাত ধরে আমাদের শক্ত সামর্থ্যবান কাঁধে দেশের উন্নয়ন ভার অর্পণ করে সব নাগরিকের উচিত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রে বলীয়ান হওয়া। আমি বিশ্বাস করি তরুণদের নেতৃত্বে একদিন পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ।

হাদিউজ্জামান সুজন, মার্কেটিং বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।