বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু


Published: 2021-08-16 21:12:39 BdST, Updated: 2021-09-23 02:59:03 BdST

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে রক্ষা করেন বীর বাঙালিরা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অগ্রভাগের অতিপরিচিত একটি মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন একাধিক আন্দোলনের। জেলে গিয়েছেন অনেকবার, আবার বাংলার মানুষ তাকে মুক্তও করেছে। যার চোখেই দেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙালি দেখেছিল একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, ঝাঁপিয়ে পড়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে—তিনিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তার সংগ্রামী জীবন প্রতিটি প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ, তার প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। তেমনি আজ কিছু তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বলে তাদের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কেমন তা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের শিক্ষা হোক তারুণ্যের অহংকার

মোঃ মেহেদী হাসান: স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে যার নামটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন সেরা দেশপ্রেমিক। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন থেকে তরুণ প্রজন্ম অসীম সাহসিকতায় পথ পাড়ি দিতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, মানবতার সেবা করতে, মাথা নত না করে ন্যায়ের পথে চলতে আর আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শিখে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি বঙ্গবন্ধুর চোখ ছিল সবসময় কোমল। কারণ তিনি জানতেন তরুণরাই তাদের সৃষ্টিশীল মেধা ও প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।

মোঃ মেহেদী হাসান

 

আমি চোখ বন্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নাম নিলেই মনের অকপটে ভেসে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর এক টুকরো হাসি। কানে যেন শুনতে পাই বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রধ্বনি "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" বঙ্গবন্ধু তরুণদের কাছে চিরকালই সততা, ন্যায়, কল্যাণ ও আদর্শের প্রতীক। যিনি নিজের স্বার্থকে কখনোই প্রাধান্য দেননি, জাতির কল্যাণের কথা ভেবেছেন সবসময়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বিশ্বাস মনের মধ্যে আঁকড়ে ধরে রাখলে তরুণ প্রজন্ম কখনোই বিপথে যাবে না- এমনটাই প্রত্যাশা।

তরুণ সমাজের পথিকৃৎ বঙ্গবন্ধু

রুকাইয়া মিজান মিমি: বঙ্গবন্ধু একজন নির্লোভ, নির্ভীক ও আদর্শ দেশপ্রেমিক। যিনি ন্যায়-নীতি সমৃদ্ধ এক সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে লড়ে গিয়েছেন জীবনভর। এজন্য অপশাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। যার ফলে দেশবাসী ও তাঁর সম্মোহনী বক্তব্যে সাড়া দিয়ে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসে পর বাঙালিরা হাজার বছরের কাঙ্খিত স্বাধীনতা পেয়েছে।

রুকাইয়া মিজান মিমি

 

আর এই স্বাধীনতাকে সার্থক করতে বঙ্গবন্ধু আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, দুরদর্শিতা, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও দুর্নীতি দমনসহ প্রতিটি পদক্ষেপ তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তরুণরা যদি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারে রোজনামচা'র আর্দশবোধের আলোকে জীবন পরিচালনা করে তবে তারাও হয়ে উঠবে অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী, আর বাঙালি জাতি হবে পৃথিবীর আদর্শ জাতি।

শোকই বাঙালির শক্তি

সিদরাতুল মুনতাহা: ইতিহাসে যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের নজীর একটি ও খুঁজে পাওয়া যায় না, যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মঘাতী রক্তপাত সেটি হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব পরিবারে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোক শুধু বাঙালির হৃদয়কে দুঃখ ভারাক্রান্তই করে তোলে না, সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতেও উজ্জীবিত করে।

সিদরাতুল মুনতাহা

 

বাঙালির হৃদয়ে আজও তিনি অমর, আজও তার নীতি-নৈতিকতা আকড়ে ধরে এই সোনার বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এবং বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে। আজ শুধু বাঙালিই না, পুরো বিশ্ব বঙ্গবন্ধুর প্রেরণাতে অনুপ্রাণিত হয়। এই শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর নীতি-নৈতিকতা, অনুপ্রেরণা ও আদর্শকে যদি আমরা আগামীতেও শক্তির উৎস হিসেবে লালন করে এগিয়ে যেতে পারি তবেই প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

মুজিব বাঙালির অস্তিত্বে সর্বদা চিরঞ্জীব

অনন্য প্রতীক রাউত: স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির আবহমান সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে পাকিস্তানীদের তথাকথিত বেঁড়াজাল নির্ভর ব্যবস্থা কখনোই একাত্ত করা সম্ভব নয় সেটা তিনিই অনুধাবন করেন৷ নয়মাসের চূড়ান্ত লড়াইয়ে সে স্বপ্ন সত্যি হয়। শুরু হয় নতুন দেশ বির্ণিমানের মহাযজ্ঞ। সময়ের স্রোতে সময় এগিয়েছে কিন্তু মুছে ফেলা যায়নি পিতা মুজিবের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বির্ণিমানের আদর্শকে।

অনন্য প্রতীক রাউত

 

তারুণ্যকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারে নি দেশদ্রোহী কুচক্রী'রা। যতবার উপড়ে ফেলতে চাওয়া হয়েছে মুজিবের নাম ততবার আরো প্রজ্বলিত হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুঞ্জয়ী মতাদর্শ। আজো যা লাখো তরুণকে পথ চলার শক্তি জোগায়, স্বপ্ন দেখায়। বঙ্গবন্ধু কোন নাম নয়, একটি আদর্শ, একটি বিশ্বাস, সময়োপযোগী রাষ্ট্র বির্ণিমানের একটি সহায়ক সত্ত্বা। মুজিব চিরঞ্জীব, মুজিব মৃত্যুঞ্জয়ী, মুজিব শত তরুণের এগিয়ে চলার অমীয় সাহস।

বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ হোক বঙ্গবন্ধু

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি: আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার পিছনে রয়েছে রক্তমাখা একটি অতীত। ১৯৭১ সালে সুদীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজ বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোককে বাঙালি শক্তিতে রুপান্তরিত করেছে। কেননা সেই সময়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ষড়যন্ত্রকারী ও দোসরদের বাঙালি ভুলে যায় নি। তাদের মতো অশুভ শক্তির বিনাশ করতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রেখেছে।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি

 

রক্তে কেনা আমাদের এই স্বদেশের প্রতি তাই সবার ভালোবাসাটা একটু বেশিই। বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীনতার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন আমাদের এই বাংলাদেশ সৃষ্টির কারিগর। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং আমাদের জাতির পিতার ৪৬ তম মৃত্যু দিবসে আবারো বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ হোক আমাদের মাঝে শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতা, আদর্শ ও চেতনায় বঙ্গবন্ধু

ফাতেমা তুজ জোহরা ইমু: যে নামটিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কে কল্পনা করা যায় না তা হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকদের ভয়াল থাবায় অপূর্ণ রয়ে যায় জাতির পিতার অনেক স্বপ্ল। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, অন্যায়ের সাথে আপোষহীন মনোভাব, বৈষম্যমুক্ত একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নের ফসল হচ্ছে আমাদের আজকের বাংলাদেশ।

ফাতেমা তুজ জোহরা ইমু

 

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল একটি শোষণহীন, সাম্য, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, যে রাষ্ট্রের কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না, বেকারত্বের সমস্যা থাকবে না। তাঁর এ স্বপ্ন পূর্ণতা পাক অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে, বেকারত্বের সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন দেশ গঠনের মাধ্যমে, তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা সার্থক হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েক যুগ পরও কোটি হৃদয়ে বিরাজমান জাতির পিতার আর্দশ। তার আর্দশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৈরী হবে এক স্বপ্নের বাংলাদেশ এমনটাই কাম্য।

প্রতিটা বাঙালির মনোবলে বঙ্গবন্ধু জীবিত

সাদিয়া আফরিন মৌরী: শোকের মাস আগস্ট। আগস্ট এলেই আকাশে কালো মেঘ দেখা যায়,যা কিনা পুরো বাঙালির জমায়িত কান্না গুলোই আঁধার নামে আকাশে।জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশে পালিত একটি জাতীয় দিবস। প্রতিবছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবসটি শোকের সাথে পালন করা হয়। ১৫ ই আগস্ট, ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। ঘাতকরা এই দিন মুজিব সহ তার পুরো পরিবারকে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

সাদিয়া আফরিন মৌরী

 

শেখ মুজিবুর রহমান যে কিনা শুধু একজন নেতা ছিলেন না ওনি ছিলের প্রতিটা বাঙালির মনোবল প্রতিটা বাঙালির শক্তি। পঞ্চান্ন বছরের এই জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু যা করছে তা সময়ের বিচারে বেশ সংক্ষিপ্ত। কিন্তু জীবনের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে তার কর্মের প্রস্থ ছিল অনেক বেশি। প্রতিটা বাঙালির মাঝেই বঙ্গবন্ধুর বাস। প্রতিটা বাঙালির মনোবলে মুজিব বীজ বপন করে গেছে তাই প্রতিটা বাঙালি যখন দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু করে তখনি তার মধ্যে উজ্জীবিত হয় নতুন বঙ্গবন্ধুর।

তরুণ মনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিফলিত হোক

মোঃ মঈনউদ্দীন: বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন সেরা দেশপ্রেমিক। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন থেকে তরুণ প্রজন্ম অসীম সাহসিকতায় পথ পাড়ি দিতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, মানবতার সেবা করতে, মাথা নত না করে ন্যায়ের পথে চলতে আর আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শিখে। বঙ্গবন্ধুর পথচলা তরুণদের অসাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়তে তুলতে উৎসাহিত করে।

মোঃ মঈনউদ্দীন

 

বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে হোক দেশপ্রেমের শিক্ষা। তরুণ প্রজন্মকেই শপথ নিতে হবে এই মহান নেতার নীতি ও আদর্শ ধারণ করে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার। তারুণ্যের কাছে বঙ্গবন্ধু মানে শুধুমাত্র একটি নাম না, বঙ্গবন্ধু মানে এক আত্নবিশ্বাসের ছোঁয়া, গৌরবের উষ্ণতা, ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বিশ্বাস মনের মধ্যে আঁকড়ে ধরে রাখলে তরুণ প্রজন্ম কখনোই বিপথে যাবে না- এমনটাই প্রত্যাশা। স্বাধীন বাংলায় তরুণ সমাজের নিকট অমলীন থাকুক বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব।

১৬, আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।