শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ ভাবনা


Published: 2021-07-12 20:02:55 BdST, Updated: 2021-09-20 20:59:08 BdST

পিয়াল দাস অনুপ: তরুণ প্রজন্মের উন্নতির মূল চালিকাশক্তিই শিক্ষা। শিক্ষা হচ্ছে অর্জন করার বিষয় যেখানে জনগন তথা দেশ এবং সমগ্র বিশ্ব উপকৃত হবে। অথচ শিক্ষার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে নিরাপত্তা।

অনেকেই বলবেন নিরাপত্তা খুঁজতে চাওয়া কি অন্যায়?
এক কথায় উত্তর না। তবে শিক্ষার প্রকৃত ফসল আমরা ঘরে তুলতে ব্যর্থ। যে শিক্ষা আমাদের উন্নয়নরের হাতিয়ার হবে সে শিক্ষাই হচ্ছে আমাদের পরনির্ভর। অথচ স্বনির্ভরতা অর্জন হচ্ছে না আমাদের। চাকুরির প্রতি যে নির্ভরশীলতার জন্ম হয়েছে বর্তমান সময়ে সে ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রকৃত আলো ছড়াতে ব্যর্থ হলেও তারচেয়েও বেশি লজ্জাজনক শিক্ষিত সমাজের জন্য।

আমাদের পড়াশোনা শেষ করার পর আমাদের লক্ষ্য থাকার কথা নতুন কিছু উদ্ভাবন করা অথচ আমরা নিরাপদ জীবনের খোঁজে চাকুরী খুঁজতে উঠে পড়ে লাগি। যার ফলে দেশে প্রতিনিয়ত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ এই পরনির্ভরশীলতা যত কমাতে পারব আমরা তত তাড়াতাড়িই আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে গড়ে দাঁড়াতে পারব।

গ্রামের একজন অল্প শিক্ষিত ছেলে স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করলে ১০ বছর পর সে মোটামুটি সাবলম্বী। তার ব্যবসা থেকে আরো ১০ টা পরিবার অন্তত জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু অামরা গ্রাজুয়েট হয়ে নিজের পরিচয় কিংবা নিজের দক্ষতার দিকে নজর না দিয়ে আমরা লেগে পড়ি নিরাপদ জীবন খুঁজতে। এখন এই নিরাপদ জীবন খুঁজেতে গিয়ে যদি আমাদের তৃতীয় শ্রেণীর কেরাণীর চাকুরীও করতে হয় আমরা সেটায়ই রাজী হয়ে পড়ি। অথচ একটা গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীর প্রতি কত অর্থ বিনিয়োগ করছে দেশ।

দেশের কথা না ভেবে আত্মচিন্তায় মগ্ন হয়ে যাওয়া খুবই লজ্জাজনক। কিন্তু আমাদের সমাজে এটাই সম্মানজনক। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা বিট্রিশদের চাকর হয়ে থাকতে থাকতে জিনগতভাবেই আমাদের চাকর হবার শখ হয়।

নিজেদের জীবনে স্বাধীনতা থাকে না থাকে না কোন সৌখিনতা। ইচ্ছে হলেই আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যেতে পারি না অফিসের ছুটি ছাড়া। কিন্তু নিজের ছোট খাটো একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও আমরা যথেষ্ট আরামের জীবন কাটাতে পারি চাকুরী জীবনের চেয়ে অন্তত বেশি সুখকর জীবন।

কেবলমাত্র রিস্ক নেবার ভয়ে আমরা সফলতা পাচ্ছি না। অথচ এ রিস্ক নেয়া ছেলেটাই ১০ বছর পর চাকুরীজীবির চেয়ে বেশি লাভবান হয়।

তাহলে শিক্ষা আমাদের কি শিখালো। আমরাই বা কি শিখলাম। গ্রন্থগত বিদ্যাকে যদি কাজে লাগতে না পারি তাহলেই শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত। এই চাকুরির প্রতিযোগিতাই আমাদের এক সময় হতাশ করে দেয় তখন নিজে এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগতে থাকি একসময় পরিবারের কাছে বোঝা।

পরিশেষে স্বাবলম্বন এবং সুখকর জীবনের জন্য চাকুরী অপেক্ষা ব্যবসা যথেষ্ট সম্মানের পদ্ধতি। তাছাড়া আমরা যদি শিক্ষিত সমাজ বিভিন্ন ধরনের কাজে নিজের জ্ঞানকে ব্যবহার করি তাহলে আমরা আরো বেশি লাভবান হতে পারি। এই পাশে লোকে কিছু বলে এই মানসিকতা পরিহার করে আমাদের স্বনির্ভরশীলতা অর্জন করে আমরা হতে পারি সমাজ তথা দেশের জন্য কল্যাণকর।

তাতে আমাদের চাকুরীখাতে বেকারত্ব কমবে দেশ অর্থনৈতিক খাতেও লাভবান হবে।
সমাজ তথা দেশের উপকারই তো আমাদের প্রকৃত শিক্ষার জ্ঞান।

লেখক: পিয়াল দাস অনুপ
শিক্ষার্থী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ঢাকা, ১২ জুলাই ((ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম))//এমআইএস//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।