সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের প্রত্যাশা


Published: 2021-03-27 22:04:53 BdST, Updated: 2021-08-03 03:10:08 BdST

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি ভূখণ্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বােনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সময়ের পরিক্রমায় এখন সুবর্ণজয়ন্তীতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন, নানা চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধু ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত এই স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনীদের একমাত্র সংগঠন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার সদস্যদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্খা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকমের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ...

সৈয়দ সিয়াম আহমেদ, শিক্ষার্থী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শৃংখল, গোলামীর জিঞ্জির ভেঙ্গে স্বাধীনতার লাল সূর্যের রঙের সাথে মিশে আছে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত, দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বেদনা এবং বিপুল সম্পদ ক্ষতির মাশুল। বিশ্বের অন্যকোনো জাতি, অন্যকোনো দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এত ত্যাগের নজির ইতিহাসে বিরল এবং অনন্য। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো দেখতে পাইনি। অর্জন করতে পারিনি স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য।

সৈয়দ সিয়াম আহমেদ

 

আমাদের স্বাধীনতা লাভ সেদিনই পূর্ণ হবে যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাবে দেশ। সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি। থাকবে না কোনো অনাহারী। থাকবে না মৌলিক অধিকারে কোনো বাধা। থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটাই প্রত্যাশা হবে যে পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ- এই হোক সুবর্ণজয়ন্তীর অঙ্গিকার।

মালিহা আফরিন, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হলেও সেই একই হারে দেশের মুক্তিযােদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি ঘটেনি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে আজকে শুধু সাফল্যের দিকে নয়, আমাদের ব্যর্থতার দিকেই প্রথম ফিরে তাকাতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই সব ক্ষেত্রে বিরাজিত সব ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে। নতুবা বিগত দিনে আমাদের অর্জিত সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি রয়েছে।

মালিহা আফরিন

 

এতে শুধু দেশের আজকের জনগণই নয়, স্বাধীনতাযুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যরাও আমাদের ক্ষমা করবেন না। দুর্নীতি, লুটপাট, সামাজিক অপরাধ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরাজিত ব্যর্থতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশ ও জাতিকে আরো গৌরবোজ্জ্বল করতে দেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীন দেশের উত্তরসুরী হয়ে আমরা যেন পূর্বসুরীদের আত্মত্যাগ ভুলে না যাই। তা উজ্জ্বলভাবে যেন পরের প্রজন্মে স্থানান্তরিত করতে পারি, সেই প্রত্যাশা রইল।

স্মিতা জান্নাত, শিক্ষার্থী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতার লসল সূর্য। গোলামীর জিঞ্জিরা ভাঙতে ত্রিশ লক্ষ শহীদ দিয়েছে রক্ত, দুই লক্ষ মা-বোন হারিয়েছে সম্ভ্রম এবং বিপুল সম্পদ গুনেছে ক্ষতির মাশুল। বিশ্বের অন্য কোনো জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এই ইতিহাস বিরল। মুক্তি প্রজন্ম হিসেবে স্বাধীনতার মাহাত্ম্যকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করাতে হবে। শহীদের ত্যাগের মনোভব এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ উন্নতি কামোনার দৃষ্টান্ত দেখাতে চাই জাতিকে।

স্মিতা জান্নাত

 

এবারের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০তম বছরে এসে দেশের জন্য লড়াই করা যোদ্ধাদেরকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি। বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে স্বাধীনতার মর্মার্থ, গুরুত্ব নতুন করে অনুধাবনের মাঝে আলাদা বৈশিষ্ট্য নিহত আছে। যাদের আত্মত্যাগ ও স্বজন হারানোর বেদনার মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি, সুমহান এই স্বাধীনতার মাসে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি সেই শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শরণার্থীসহ মুক্তিকামীসহ সকল বাঙালিকে।

আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ, শিক্ষার্থী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ
স্বাধীনতার ৫০ বছরে রয়েছে নানা অসামঞ্জস্য, অক্ষমতা। সেই সাথে রয়েছে অনেক প্রাপ্তি, অনেক শক্তি আর অনেক অর্জন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বঙ্গবন্ধু ও বীর সন্তানদের কাক্ষিত সােনার বাংলার অগ্রযাত্রা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার, বৈষম্যহীন একটি দেশ গড়ার প্রত্যয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলাে কিন্তু সে স্বপ্ন এখনাে পূরণ হয়নি।

আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ

 

সাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কিছু গােষ্ঠী এখনাে দেশে মাথাচারা দিয়ে উঠে। এটাই হয়ত আমাদের ব্যর্থতা। সকল অক্ষমতাকে জয় করে, দেশ ও দেশের মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্ম হিসেবে চাওয়া থাকবে যে বাংলার মা-মাটিকে ভালােবেসে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম জীবন বাজি রেখেছিল সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সাম্য-ভ্রাতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে সবাই মিলে দেশটাকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

খায়রুল হাসান আকাশ, শিক্ষার্থী, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির পাশাপাশি সবচেয়ে আনন্দের বিষয়টি হলো যে মানুষটার তর্জনীর জোরে ভরসা পেয়ে সাধারণ মুক্তিকামী মানুষ ঝাপিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলো এবছরেই সেই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। আমরা বিজয় দেখিনি, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে শুনেছি এবং জেনেছি সেই রণাঙ্গনের কঠিন দুঃসময়ের দিনগুলির কথা।

খায়রুল হাসান আকাশ

 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আগামি ১০ বছর পর হয়তো একজন মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়াও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে আমাদের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হবে অনুপ্রেরণা। এজন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি আজীবন স্মরণ রাখতে হবে। তাই মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্ম হিসেবে আমি মনে করি, যথাযথ প্রশাসনের ও উচিত মুক্তিযুদ্ধাদের স্মৃতিচারণগুলো ডিজিটাল ভার্সনে সংরক্ষণ করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই প্রত্যাশাই রইলো।

আসমা উল হুসনা অর্থী, শিক্ষার্থী, সংগীত বিভাগ
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এই স্বাধীন ভূখন্ডটি অনেক কিছু পেয়েছে আবার অনেক কিছুই হারিয়েছে। যে প্রত্যাশা নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছে তার অনেকটাই আবার বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি রয়েছে। তাই তো স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারিনি। আমরা সেদিনই স্বাধীনতা স্বাদ পাবো; যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা বাংলার ১৬ কোটি মানুষের মুখ হাসি ফোটাবে।

আসমা উল হুসনা অর্থী

 

সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো সোনার বাংলাদেশ। চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের আরও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ।

ঢাকা, ২৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।