শিক্ষার্থী বান্ধব ড.শামসুজ্জোহা


Published: 2021-02-18 18:03:12 BdST, Updated: 2021-03-03 23:08:45 BdST

সেলিম রেজা: বাংলাদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম বললেই চলে আসে সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার নাম। যাকে মানুষ ড.শামসুজ্জোহা হিসেবেই বেশি চিনে। তিনি অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় ১৯৩৪ সালের পহেলা মে জন্মগ্রহণ করেন।

পশ্চিমবঙ্গেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বাঁকুড়া জেলা স্কুলে ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং প্রথম শ্রেণীতে মেট্রিকুলেশন (এসএসসি) পাশ করেন।১৯৫০ সালে ক্রিস্টিয়ান কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৫৩ সালে স্নাতক ও ড.মোকাররম হোসেন খন্দকারের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

ড.শামসুজ্জোহা কর্মজীবনে অনেক জায়গায় চাকরির পর ১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট অফিসার ও পরবর্তীতে রসায়ন বিভাগে লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন। বৃত্তি নিয়ে লন্ডনে চলে গেলেও ১৯৬৪ সালে ফিরে এসে তিনি পুনরায় অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত এবং ১৯৬৬ সালে প্রাধ্যক্ষ (প্রক্টর) পদে নিযুক্ত হন।

সময় পেলেই ড.শামসুজ্জোহা ছাত্রদের সাথে জুবেরি মাঠে খেলায় মগ্ন হতেন। ভলিবল ও ফুটবলে তিনি ভাল পারদর্শী ছিলেন। ছাত্রদের সাথে মিশার কারনে ছাত্র শিক্ষক রসায়ন তৈরি হয়। গড়ে উঠে গভীর সক্ষ্যতা। ছাত্রদের সাথে তার যে মধুর সম্পর্ক ছিল সেটা তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন।

১৯৬৯ সাল, ৬৬-র ছয় দফা ও ১১ দফা দাবী সহ বঙ্গবন্ধু সহ আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার মিথ্যা আসামিদের মুক্তির জন্য যখন আন্দোলন গড়ে তোলে সেই সময় ছাত্রদেরকে সাহস জুগিয়েছেন। ১৭ ই ফেব্রুয়ারী আন্দোলনকারী কিছু ছাত্রদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বোয়ালিয়া থানায়। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের মুক্তির দাবী করেন। ছাত্রদের রক্ত মাখা পোষাক দেখে তিনি বলেছিলেন,"এখন শুধু ছাত্র নই প্রয়োজনে শিক্ষকদেরও রক্ত দিতে হবে। তিনি এও বলেছিলেন, এরপর কোন ছাত্রের বুকে গুলি লাগার আগে সেই গুলি আমার বুকে লাগবে।"

১৯৬৯ এর ১৮ ই ফেব্রুয়ারী, ছাত্ররা যখন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তিন জন করে শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সেই সময় পাকবাহিনী কাজলা গেটে ছাত্রদেরকে বাধা দেয়। এই খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে। ড.শামসুজ্জোহা পাকবাহিনীকে নিজের পরিচয় দিয়ে ছাত্রদেরকে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু পাকবাহিনী ছাত্রদের না ছেড়ে তাকে তাক করে গুলি ছুড়ে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। গুলিবিদ্ধ দেহ প্রিজন ভ্যানে প্রায় দুই ঘন্টা ভ্যানে রাখার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ছাত্রের জন্য শিক্ষকের এই মহান আত্মত্যাগ যুগে যুগে ছাত্রদের মাঝে বেঁচে রবে। আজ প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে শামসুজ্জোহা স্যারের মত শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষকের বড়ই প্রয়োজন। আপনার শাহাদবার্ষীকিতে হাজারো বিনম্র শ্রদ্ধা অর্পণ করছি। মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতবাসি করেন।

লেখক: সেলিম রেজা
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।