Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | রবিবার, ১৯শে মে ২০২৪, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

সেমিস্টার পদ্ধতি কতটুকু ফলপ্রসূ!

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২৩, ২০:৪৯

যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান, পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ তথা ডিগ্রি/ডিপ্লোমা প্রদানের লক্ষ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রণীত বিধান রয়েছে, যাকে একাডেমিক অর্ডিন্যান্স বা একাডেমিক রুলস বলা হয়ে থাকে।এটি প্রণয়নের সময় পরীক্ষা পদ্ধতি সংক্রান্ত উপযুক্ত ধারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারা-উপধারার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক আগে প্রতিষ্ঠিত বিভাগগুলোতে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে এখনও সনাতন নিয়মে বার্ষিক ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়া হয়।অন্য প্রায় সব ক্ষেত্রেই বর্তমানে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু আছে, সেমিস্টারের ব্যাপ্তি ছয় মাস।

প্রতিটি বিভাগে সিলেবাস প্রণয়নের জন্য পাঠ্যক্রম কমিটি গঠন ও কার্যপদ্ধতি অর্ডিন্যান্সে বলা থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে যত রকম কোর্স থাকবে এবং সেগুলোর নম্বরের বিভাজন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বলা থাকে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক প্রোগ্রামের প্রতিটি শিক্ষাবর্ষ ছয় মাসের দুটি সেমিস্টার নিয়ে গঠিত। সেমিস্টারের একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য অর্ডিন্যান্সে নির্দেশনা দেয়া থাকে।ছয় মাসের একটি সেমিস্টারে ক্লাস হয় ১৪ সপ্তাহ, পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ছুটি ২ সপ্তাহ, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলে ৩ সপ্তাহ এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য ৪ সপ্তাহ বরাদ্দ থাকে। মোট ২৩ সপ্তাহ, দুই সেমিস্টারের জন্য ৪৬ সপ্তাহ। তবে এই পদ্ধতিতে যেমন সফলতা রয়েছে, তেমনি বিভাগ ভেদে রয়েছে জটিলতা। ফলে কিছু কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিচ্ছে হতাশা, ক্ষোভ ও মানসিক স্বাস্থ্যহীনতা। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে মেধা বিকাশ, উচ্চতর গবেষণা ক্ষেত্র ও ডিগ্রি অর্জনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পদ্ধতি নিয়ে  শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি, বাস্তবতা অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেছেন যবিপ্রবির ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিনিধি এ টি এম মাহফুজ।

 

মো: আহাদ হোসেন

মো: আহাদ হোসেন

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ 

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সেমিস্টার পদ্ধতির বিকল্প নাই। তবে এই সেমিস্টার পদ্ধতি যেমন হওয়া উচিত তেমনটা আমরা এই দেশে পায় না। এই কারণে আমাদের অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অল্প সময়ের মাঝে আমাদের অনেক বড় সিলেবাস শেষ করা লাগে।যার ফলে আমরা আসল শিক্ষাটা নিতে পারি না, কোনো কিছু নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও করতে পারেন না শিক্ষকরা,যার ফলে আমরা নতুন কিছু নিয়ে অধিক জ্ঞান অর্জন করতে পারি না। মূলত আমাদের শুধু ভালো রেজাল্টের জন্যই পড়া লাগে,শিখার জন্য না। আমি যদি আমার গনিত বিভাগের কথায় বলি, গনিত হচ্ছে বুঝে পড়ে প্রয়োগিক বিষয়, আর আমরা করি কোন রকম মুখস্ত করে পাশ করার চেষ্টা। আসলে আমরা বুঝতে চাইলেও পারি না।অল্প সময়ে বড় সিলেবাস সাথে সপ্তাহে ২/৩/৪ টা করে ক্লাস টেস্ট, ল্যাব টেস্ট, সকাল ৯ টা-৪ টা আবার ক্লাস। আমরা যেভাবে পড়াশুনা করি এটা শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তাছাড়া শিক্ষার পাশাপাশি রিসার্চ ও সরকারি চাকরির পড়াশুনার জন্যও আমরা সময় পায় না। তবে ইয়ারলি পদ্ধতিতে আমরা একটু সময় বেশি পায়, কিন্তু বেশি পাওয়ার কারণে আবার অনেকে অলস সময় পার করি,!সর্বোপরি শিক্ষার মান উন্নয়নে ও সেমিস্টার পদ্ধতি বেশি ফলপ্রসূ,শুধু সিলেবাস একটু ছোট করে শিখার সুযোগ করে দিতে হবে।

 

আফিয়া আবেদা মেহনাজ

শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ  

আমার মতে ইয়ারলি পদ্ধতি থেকে সেমিস্টার পদ্ধতি বেশি ভালো যদি কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। উন্নত বিশ্বের উচ্চ শিক্ষায় সেমিস্টার পদ্ধতিই চোখে পড়ে। এক্ষেত্রে আমার মতে সব থেকে ভালো যে দিকটা সেটা হচ্ছে সেমিস্টারের কয়েক মাসের পুরো সময়টা মনোযোগ সমান ভাবে ধরে রাখা সম্ভব। তারপর কিছুদিন ব্রেক এবং তারপর আবার নতুন সেমিস্টার। ইয়ারলি সিস্টেমে সারা বছর সমান ভাবে মনোযোগ ধরে রাখা টা সম্ভব হয় না। সেমিস্টারে সম্পূর্ণ সময় জুড়েই পড়াশোনার চাপ সমান থাকে ফলে ব্যালেন্স করা বা খাপ খাওয়ানো সহজ। কিন্তু ইয়ারলিতে এই সমতাটা বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। মোট কথা আমার মতে সেমিস্টার সিস্টেমই বেশি ফলপ্রসূ।তবে সেমিস্টার সিস্টেমে সফল হতে গেলে সেমিস্টার শুরুর সাথে সাথেই সম্পূর্ণ সেমিস্টারের কর্মপরিকল্পনা এবং তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে সম্পূর্ণ সেমিস্টার সিস্টেমই ব্যর্থ হয়ে যায়। সেমিস্টারে যেহেতু সময় কম থাকে সেহেতু সঠিক পরিকল্পনা করা না থাকলে উপকার থেকে বেশি হয় বিশৃঙ্খলা। সর্বোপরি কাঙ্ক্ষিত কার্যকর ফলাফল পেতে হলে কাজের শুরু থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনার বিকল্প নেই। তবে ব্যাপারটা দুঃখের হলেও সত্য যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিকল্পনা ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত এবং অর্জিত ফলাফলের মাঝে বিরাট পার্থক্য থেকে যায়।

মো: নাঈমুজ্জামান

শিক্ষার্থী,বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ 

সেমিস্টার পদ্ধতি আর ইয়ারলি পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে , সেমিস্টার পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয় ছয় মাস পর পর আর ইয়ারলিতে মূল্যায়ন হয় ১২ মাস পর পর। এক্ষেত্রে সেমিস্টার পদ্ধতিতে বেশী সংখ্যক কোর্স পড়ানো হয় এক বছরে।শিক্ষার্থীরা অনেক রকমের বিষয় জানতে পারে,তবে চাপ বেশী থাকে শিক্ষার্থীদের ওপর। আবার শিক্ষকদের জন্য অল্প সময়ে সঠিকভাবে কনসেপ্ট বোঝানো খুব কঠিন হয়ে পরে ফলে অনেক সময় সঠিকভাবে শেখা সম্ভব হয় না শিক্ষার্থীদের। এছাড়া কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ বা গবেষণায় সময় দিতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। তবে চাপ থাকলেও শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত পড়াশোনা করেন তাহলে অনেক রকমের বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান আহরণ করতে পারেন। তাই নানা সমস্যা থাকলেও সেমিস্টার পদ্ধতিতে যেহেতু অনেক ধরনের জ্ঞান আহরণ করা যায়, যা সামনে নিজের জন্য চাকরির বা গবেষণার পথ অনেকটা বড় করে দেই তাই সেমিস্টার পদ্ধতি সেরা।

সুমাইয়া সিদ্দিকা

শিক্ষার্থী,পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ 

আমার মতে ইয়ারলি সিস্টেম থেকে সেমিস্টার পদ্ধতি বেস্ট। কারণ আমাদের বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে একটা প্রবণতা আছে যে অনেক সময় থাকলেও সে শেষে গিয়ে একদম পরীক্ষার আগেই পড়তে বসে। এক্ষেত্রে ইয়ারলি সিস্টেম হলে তাদের জন্যে সব থেকে খারাপ হবে। কারণ তাঁরা সারাবছর না পরে একদম ফাইনাল এক্সামে গিয়ে পড়বে আর তখন অনেক গুলা কোর্স একসাথে প্রেশারে পরাই রেজাল্ট ভালো হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।আরেকটা ব্যাপার হলো সেমিস্টার পদ্ধতিতে ধারাবাহিক একটা প্রেসারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যেখানে এইটা মানিয়ে নিতে পারলে ভালো রেজাল্ট করা সহজ, কিন্তু ইয়ারলি পদ্ধতিতে ধারাবাহিকতা না থাকায় একবারে অনেক প্রেসার সামলাতে না পেরে বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রীর রেজাল্ট ভালো হবে না। তবে সেমিস্টার পদ্ধতিতে কিছু সময় এমন হয় আমরা ঠিকমতো শিখতে পারি না এবং তার আগেই আমাদের পরীক্ষা চলে আসে, এই সমস্যার মূল কারণ আমি টিচারদের দিতে চাই।কারণ তারা সঠিক গাইডলাইন দিলে এবং ঠিকমতো ক্লাস সময়ের আগেই শেষ করলে ছাত্রছাত্রীরা এইসব ভোগান্তির শিকার হতো না। যদি শিক্ষকরা সময়জ্ঞান বিবেচনা করে আমাদের পড়ায় তবে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই ভালো করবে এবং শিখতে পারবে।

নাঈমুর রহমান

শিক্ষার্থী,পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিস্টার এবং ইয়ারলি সিস্টেম চালু রয়েছে। উভয়েরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে সেমিস্টার সিস্টেমের চেয়ে ইয়ারলি সিস্টেমকেই শিক্ষার্থী বান্ধব মনে করি।সেমিস্টার সিস্টেমে একজন শিক্ষার্থীকে খুবই অল্প সময়ে সুনির্দিষ্ট কিছু কোর্স শেষ করতে হয় এবং বেঁধে দেওয়া সময় শেষে চূড়ান্ত পরিক্ষার মাধ্যমে তাকে মূল্যায়ন করা হয়। এক্ষেত্রে অল্প সময়ে কোর্স শেষ করতে অনেক শিক্ষকরা রীতিমতো তাড়াহুড়া করেন এবং শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশকেই ঐ সুনির্দিষ্ট কোর্সের অনেক বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা না নিয়েই পরিক্ষায় বসতে হয়।আমি পদার্থবিজ্ঞানের একজন স্নাতক শিক্ষার্থী।অন্যান্য বিভাগের মতো আমাদেরও সেমিস্টার সিস্টেমে পাঠদান করা হয়। এক্ষেত্রে এক বছরে দুইটা সেমিস্টারে ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় মিলে প্রায় আঠারো থেকে বিশটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।আমাদের বিভাগের শিক্ষকগণ ক্লাস পরিচালনায় যথেষ্ট আন্তরিক হওয়া সত্ত্বেও প্রতি সেমিস্টারে বেঁধে দেওয়া স্বল্প সময়ে নিয়মানুযায়ী অন্তত সত্তর শতাংশ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করাও তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান, উৎসব, ইনকোর্স পরীক্ষা ও সরকারি ছুটিসমূহ ক্লাস পরিচালনায় অনিচ্ছাকৃত বাঁধার সৃষ্টি করলেও এসব বিষয় বিবেচনায় চূড়ান্ত পরিক্ষার পূর্বে আমাদেরকে অতিরিক্ত কোন সময় প্রদান করা হয় না। এসব কারণে অনেক কোর্সে আংশিক কিংবা অসম্পূর্ণ জ্ঞানকে পুঁজি করেই পরিক্ষায় বসতে হয়। যা আশানুরূপ ফলাফল কিংবা মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ব্যবহারিক কোর্সের ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এহেন পরিস্থিতির কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে পুরো বছরজুড়েই প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করি।পদার্থবিজ্ঞানের মতো একটা মৌলিক বিভাগে সেমিস্টার সিস্টেমের পরিবর্তে অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইয়ারলি সিস্টেমে পাঠদান করলে তা এ সকল সমস্যা ও সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটাতে পরিপূরক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে আমরা একই সংখ্যক কোর্স সম্পন্ন করতে তুলনামূলক পরিক্ষামুক্ত একটা লম্বা সময় হাতে পাব যা মানসিকভাবেও আমাদেরকে নির্ভার রাখবে এবং পড়াশোনায় মনোনিবেশ প্রদানে সহায়ক হবে।

রাশেদ খান

শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ 

পৃথিবীর সব দেশেই সেমিস্টার সিস্টেম চালু রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত,আমেরিকা,কোরিয়া,জাপান,ইউরোপের দেশগুলোতে সেমিস্টার সিস্টেম বিদ্যমান। যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে যেতে চায়, তাদের জন্য এটা ভালো। কারণ সিস্টেমের সাথে আগে থেকেই পরিচিতি পাওয়া যায়। আর সেমিস্টার সিস্টেমে লেখাপড়ার প্রেশারটা বেশি থাকে ইয়ারলি সিস্টেমের তুলনায়,ফ্যাকাল্টিমেম্বারদের সাথে ছাত্রছাত্রীরা বেশি কানেক্টেড থাকতে পারে। সমস্যাটা দাঁড়ায় মূলত সেমিস্টার ফিস জোগাড় করার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে যদি অভ্যান্তরীণ বৃত্তি কিংবা অন ক্যাম্পাস জব চালু থাকতো তাহলে এই সেমিস্টার ফি নিয়ে চিন্তা করতে হতো না।

 

উম্মে হামিয়া

শিক্ষার্থী,মার্কেটিং বিভাগ   

সেমিস্টার সিস্টেমের একটাই অসুবিধা সময় কম, একটি কোর্সের ডিটেইলস পড়া কঠিন হয়ে যায়।সময় কম হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।অনেক সময় শিক্ষকদের কোনো কোনো টপিকের গভীরে গিয়ে পড়ানোর সুযোগ থাকে না।সেমিস্টার পদ্ধতিতে সবসময় পড়াশোনারর ভিতর থাকা যায়,ফলে নিজেকে সব সময় আপডেট রাখা যায়।অপরদিকে ইয়ারলি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বছরের শেষে পরীক্ষা হওয়ার কারণ ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার ফ্লো হারিয়ে ফেলে। দুই সেমিস্টার মিলে এক ইয়ার হয়। নরমালি দেখা যায়, দুই সেমিস্টার মোট ১০টি কোর্স পড়তে হয়। অন্যদিকে ইয়ার সিস্টেমে এক বছরে ৭টি কোর্স।ফলে শিক্ষার্থীরা সময় পাই বেশি, শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। আমি পড়াশোনা করছি বিবিএ মেজর মার্কেটিং এ। আমরা জানি, একজন বিবিএ শিক্ষার্থী হিসাবে সমসময় নিজেকে আপডেট রাখতে হয়(যেমন তাদের প্রেজেন্টেশন, অর্গানাইজিং, লিডিংএ বিভিন্ন স্কিল দরকার হয়,যেটা তাদের ডাইনামিক/গতিশীল করে তোলো। সেমিস্টার সিস্টেম ডাইনামিক হওয়ার কারণে এক্ষেত্রে আমরা তার সুফলটা পাচ্ছি। ইয়ারলি পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে দীর্ঘ একটি সময়, এমনকি পরীক্ষাগুলা অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে হয় যার কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে রাজনৈতিক বা বিভিন্ন ইস্যুর কারণে পরীক্ষা গুলা ঠিক সময় হয় না,পিছাতে থাকে।দেখা যায় যে,দেরিতে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বয়স শেষ হয়ে যায়। আমি মনে করি, সেমিস্টার পদ্ধতিতে শেখার বা জানার সুযোগ আসলে কম পাওয়া যায়।

মো :তানভীর হোসেন

শিক্ষার্থী,কেমিকৌশল বিভাগ

 আমার কাছে সেমিস্টার পদ্ধতিই বেস্ট। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ভিতরে থাকতে পারে অন্যদিকে ইয়ারলি পদ্ধতিতে একবারই মূল্যায়ন করা হয়।ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার গতি হারিয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। পরীক্ষার ২ মাস বা ৩ মাস আগে পড়বো এই প্রবণতা কাজ করে,ফলে বাকি সময়টুকু কোনো কাজে আসে না।আমাদের বছরে দুইবার মূল্যায়ন করা হয়,কেউ যদি কোনো কারণে একটা সেমিস্টার খারাপ করে তার কাছে পরের সেমিস্টারে ভালো করার সুযোগ থাকছে।এছাড়া অনেক বেশী বিষয়ে জানার বা পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।বর্তমানে এই প্রবণতা লক্ষণীয় ৬ মাসের সেমিস্টার কে ৪ মাসে করা হচ্ছে এটা খুবই খারাপ একটা দিক।তাড়াহুড়া করে সিলেবাস শেষ করানোয় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। যেহেতু আমি একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমাদের থিওরি কোর্সের পাশাপাশি অনেক বেশি ল্যাব কোর্স করা লাগে।এক্ষেত্রে আমাদের একটু সময় বেশি পেলে ভালো হতো। এক্ষেত্রে ৬ মাসের সেমিস্টার ৬ মাসে করলে সেটা দারুণ ভাবে ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করি।

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম//এটিএম //এমএফ

 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ