হল সংস্কারের ধারাবাহিক প্রতিবেদননতুনত্বের ছোঁয়া পেয়েছে রাবি'র জিয়া হল


Published: 2021-10-20 12:41:02 BdST, Updated: 2021-11-28 06:16:24 BdST

ওমর ফারুক, রাবি থেকে: করোনা সংক্রামনের আশঙ্কায় গত বছরের ১৮ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক শিক্ষার্থীরাও হল ছেড়ে বাড়ীর পথ ধরেন। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের হলে পদচারণা না থাকায় নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে হলগুলোর আঙ্গিনা। দীর্ঘ ১৯ মাস বিরতির পর অবশেষে গত রোববার খুলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল।

করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আবাসিক হলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে-ওয়াশ রুম, পানির লাইন, বিদ্যুতের লাইন ও জরাজীর্ণ দেয়ালের সংস্কার এবং নতুন করে রংয়ের কাজ। ইতোমধ্যে এসব হলের সংস্কার কাজ শতভাগ না হলেও শেষ পর্যায়ে রয়েছে এমনটা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রশাসন।

নতুন পানির লাইন

 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সমূহ সংস্কার কাজ করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ পায় ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ না হওয়ায় সংস্কার কাজ বিলম্বে শুরু হয়। এরপর নতুন ভিসি প্রফেসর ড.গোলাম সাব্বির সাত্তার ভিসি পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর পুনরায় শুরু হয় হল সংস্কার কাজ।

হাত ধৌত করতে স্থাপন করা হয়েছে কয়েকটি বেসিন

 

শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে কোন ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হতে না হয় তার জন্য হল প্রশাসন থেকেও নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। আবাসিক হল খুলে দিলেও এখনো চলমান রয়েছে সংস্কার কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ থাকছে শহীদ জিয়াউর রহমান হল।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলে প্রায় ৭ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সব রকমের ব্যবস্থা রেখেছে হল প্রশাসন। অন্তত একডোজ টিকা নেয়া সাপেক্ষে হলে অবস্থান করতে পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ডাইনিং রুম

 

স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হল গেইটে হাত ধৌত করতে স্থাপন করা হয়েছে কয়েকটি বেসিন। সেইসাথে হলে অনাবাসিক বা অবৈধভাবে যাতে কেউ থাকতে না পারে সেজন্য রেজিস্ট্রেশন ও হল কার্ড বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের যেকোন সমস্যা বা মতামত জানাতে দেয়া হয়েছে একটি অভিযোগ বক্স। সেই সাথে নিরাপত্তাজনিত কারণে হলের অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেইসাথে আবাসিক শিক্ষার্থীদের তদারকি করছে হল প্রশাসন। কোন শিক্ষার্থীর করোনা লক্ষণ দেখা দিলে হলের ভেতরেই আইসোলেশন কক্ষে রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে একই সাথে শিক্ষার্থীদের করোনা সচেতনতামূলক বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ করতে হলের ভিতরের তিনটি ব্লকেই স্থাপন করা হয়েছে সাবমার্সিবল পাম্প। রুমের যে সকল বেড নষ্ট হয়ে গেছে তাদের দেয়া হচ্ছে নতুন বেড। তাছাড়াও টয়লেট, ওয়াশরুমের কাজগুলো সংস্কার করা হয়েছে। হলের ভেতের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন করে করা হয়েছে গেস্ট রুম। সেইসাথে বৈদ্যুতিক লাইন নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে।

চলছে সংস্কার কাজ

 

নতুন সংযোজনের মাঝে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের রাত্রি যাপনের জন্য গেস্টরুমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হলে বঙ্গবন্ধু কর্ণার করা হয়েছে যা উদ্বোধনের অপেক্ষায়। শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডাইনিংয়ে খেতে পারে সেজন্য টাইলস করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রভোস্ট সুজন সেন।

হল খোলার পূর্বে শতভাগ সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ দিকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান আবাসিক হল প্রশাসন।

দীর্ঘদিন পর হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। নবীন নামে এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, গত চার বছর ধরে হলে অবস্থান করছি এর আগে হলে যে পরিবেশ ছিলো তা নিন্মমানের মনে হয়েছে। বর্তমান প্রাধ্যক্ষ সমস্যা আমলে নিয়ে সংস্কার করেছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট। আশাকরি আগামীতেও হলে আরো উন্নয়ন করবে।

অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান বক্স

 

রাকিব নামে আরেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'কম সময়ের মাঝে হলের সংস্কারের কাজ করছে। যদিও কাজগুলো সম্পন্ন হয়নি, শেষ হলে আরো ভালো লাগবে। শিক্ষার্থীদের জন্য অভিযোগ বক্স দিয়ে ভালো উদ্যোগ নিয়েছে এতে করে শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের মতামত বা চাহিদার কথা বলতে পারবে। সব মিলিয়ে হলে বেশ ভালোই কাজ হয়েছে।'

হল নিয়ে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ও রাবির চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রফেসর সুজন সেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি ব্যতিক্রমী কাজ করার। হল খোলার পূর্বে শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযোগী করে তুলতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম। যার অংশ হিসেবে বিশুদ্ধ পানির জন্য সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনসহ টয়লেট এবং ওয়াশরুম সংস্কার কাজ করেছি। তাছাড়া রুমের বেড তৈরি করার কাজ চলছে। আমরা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আইসোলেশনে ব্যবস্থা রেখেছি। করোনা সচেতনতায় হলের বিভিন্ন পয়েন্টে লাগানো হয়েছে উন্নতমানের বিলবোর্ড, পোস্টার। সেই সাথে সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য গেস্ট রুমে রাত্রি যাপনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর সুজন সেন

 

তিনি আরো বলেন, 'আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে সব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সেগুলো অবহিত করি তারা আমাদের সে চাহিদা আমলে নিয়ে অর্থ বরাদ্দ করেন। আমার চেষ্টা থাকবে এ হলকে একটি মডেল হলরূপে রূপান্তরিত করার এবং সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।'

ঢাকা, ২০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।