অঙ্গীকারনামা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে রাবি শিক্ষার্থীদের!


Published: 2021-09-06 09:55:45 BdST, Updated: 2021-10-23 16:34:43 BdST

উমর ফারুক, রাবি: অঙ্গীকারনামায় সাক্ষর করা সাপেক্ষে পরীক্ষা অশংগ্রহণ করতে হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের। আবাসিক হলে না থাকা, পরীক্ষা শেষে দ্রুত ক্যাম্পাস ছাড়া, পরীক্ষা দিতে এসে করোনায় আক্রান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকারকে দায়ী না করার মত কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বিভাগটি।

এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর বা পূরণ করলে তবেই মিলবে পরীক্ষায় বসার অনুমতি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অংশগ্রহণের জন্য অঙ্গীকার নামায় লেখা, এই মর্মে অঙ্গীকার করিতেছি যে করোনা ভাইরাস মহামারী জনিত কারণে সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিম্মুক্ত বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই।

ফরমে আরো লেখা রয়েছে, 'পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কালে কোন হলে অবস্থান করব না স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করব। পরীক্ষা দিতে এসে করোনায় আক্রান্ত হলে কোনভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কিংবা সরকারকে দায়ী করব না। এই অঙ্গীকার নামায় সাক্ষরিত স্ক্যান কপি বিভাগীয় অফিসে জমাদানপূর্বক পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশ নিবো।'

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ জানিয়ে বলছে, 'হোয়াট দ্য! উদ্ভট দেশের উদ্ভট বিশ্ববিদ্যালয়! এই অঙ্গীকারনামা কি দেড় বছর আগেই করা যেত না? এমন অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেই যদি পরীক্ষা দিতে হয় তাহলে দেড় বছর পর কেন?'

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, 'তারা অঙ্গীকারনামা দিয়ে বসে আছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয় যেখানে টিকা ছাড়াই স্কুল কলেজে ১২ তারিখ থেকে খুলে সশরীরে ক্লাস নিবে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ % শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়েও এইসব অঙ্গীকার এখনো দেখতে হচ্ছে। এইজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের কোন ওজন নেই। আর তার থেকে বড় কথা শিক্ষা মন্ত্রনালয় যেখানে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে ১২ সেপ্টেম্বরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা চাইলে হল, ক্যাম্পাস খুলে ক্লাস পরীক্ষা সশরীরে ক্লাস পরীক্ষা নিতে পারবে সেখানে এসব কোন ধরনের নতুন ফাজলামো।

যেহেতু সরকারি নির্দেশনা আছে তাহলে এখন তো কোন বাঁধা নেই। আর তার থেকেও বড় কথা দেড় বছর ধরে টিকা দিয়ে স্বাস্থবিধি মেনে ক্যাম্পাস খুলবে বসিয়ে রেখে টিকা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় না খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে যারা ১ ডোজ টিকাও নেইনি সেই স্কুল কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেই। আর এরপরও অঙ্গীকার নামা দেখান।'

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো.ইব্রাহিম মন্ডল যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় খোলার এখনও নির্দেশনা আসেনি। তাই আমরা এ পদ্ধতি অনুসরণ করছি দেখছি কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাছাড়া সায়েন্স ফ্যাকাল্টি থেকেও এরকম নির্দেশনা আছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা যদি পরীক্ষায় অংশ না নেয় এ নিয়ে তিনি বলেন, এটা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় ৯০শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারলে ১০শতাংশ শিক্ষার্থীরা কেনও পারবেনা।

তিনি আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় খুলে গেলে ত এরকম নির্দেশনার প্রয়োজন হবে না। আমরা শিক্ষার্থীদের মতামত জানার জন্যই এটা করেছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) লিয়াকত আলী ব্যস্ততাজনিত কারণে ফোনে কথা বলতে রাজি হননি।

এরকম নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দিয়েছে কিনা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।