গতানুগতিক পথের বাইরে রাবি শিক্ষার্থীর স্টার্টআপ ‘আ্যাসেন্ড’


Published: 2021-06-28 14:48:58 BdST, Updated: 2021-09-27 10:20:11 BdST

আজাহার ইসলাম: শামীম হোসেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অনলাইনে ও সরাসরি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের পাশাপাশি শিক্ষা বিভাগ নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন একটি সংগঠন। যার নাম অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল কন্টিবিউিশন অ্যান্ড অ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট। সংক্ষেপে অ্যাসেন্ড। সংগঠনটি এখন রূপ নিয়েছে স্টার্টআপে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটিতেও আইডিয়াটি মনোনীন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরপরই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত হন শামীম হোসেন। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু। ক্লাবে যুক্ত হওয়ার সুবাদে বড় মাপের মানুষদের সাথে পরিচিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনার পরিধি বাড়তে থাকে তার। নিজের পরিশ্রম এবং যোগ্যতায় বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যমণি হয়ে উঠেন অল্প সময়ে। তিনি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি সংগঠনে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তিনি নিজ হাতে গড়া সংগঠন ‘অ্যাসেন্ড’ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।গতানুগতিকতার বাইরে তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে ‘অ্যাসেন্ড’ কে ব্যতিক্রমী একটি সংগঠন হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতা বৃদ্ধি, চাকরি সম্পর্কে ধারণা এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতকরণ, তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব, কর্পোরেট জব, উদ্যোক্তা, যোগাযোগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের যোগ্যতা, আইটি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সংগঠনটি। পাশাপাশি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, আইটি, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, রিসার্চ, এডিটোরিয়াল সহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সংগঠনের সেক্টরগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

প্রথম দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে আর পাঁচটা ক্লাবের মত সংগঠনটির প্রাথমিক রূপ দাঁড় করান প্রতিষ্ঠাতা শামীম হোসেন। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরপরই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। এরপর তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন আসল রূপে উপস্থাপন করার। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছে আইসিটি বিভাগের ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি’।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি’ স্টার্টআপগুলোর আইডিয়া চেয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। একইসাথে সেরা আইডিয়াগুলোকে নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শামীম হোসেন সেটি জানতে পারেন সময়সীমা শেষ হওয়ার ১৬/১৭ ঘন্টা আগে। সাত-পাঁচ না ভেবে নির্ঘুম ১৬/১৭ ঘন্টায় তিনি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এটিই তার জীবনে ছিল প্রথম বিজনেস আইডিয়া কমপিটিশনে অংশগ্রহণ।

প্রথম অংশগ্রহণ হিসেবে শুরুতে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন শামীম। ফলাফলের ব্যাপারে কোনো খোঁজখবরও নেননি। পরে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন নির্বাচিত ৫৬টি আইডিয়ার মধ্যে চূড়ান্ত পর্বের জন্য তার আইডিয়াটি নির্বাচিত হয়েছে। হাইটেক পার্কে গিয়ে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য প্রেজেন্টেশন দিতে হবে সশরীরে। হাতে সময় মাত্র সাত দিন। অক্লান্ত পরিশ্রম আর ঘুম বিসজর্নের বিনিময়ে তিনি প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন। প্রেজেন্টেশন দেওয়ার পর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে আশাহত হয়ে পড়েন শামীম। পরে গত ১৫ মার্চ ফলাফল দেখে চক্ষু চড়কগাছ। দেশব্যাপী মনোনীত সেরা ৩০টি আইডিয়ার মধ্যে তার আইডিয়াটিও মনোনীত হয়েছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শামীম হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘চূড়ান্ত ফলাফল দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছিলাম। নিজের আইডিয়া টপ বিজনেস আইডিয়াগুলোর মধ্যে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। আমাদের মূল টার্গেট স্টুডেন্ট ডেভলপমেন্ট হলেও ধীরে ধীরে আমাদের পদচারণা বাড়াতে চাই। সবেমাত্র শুরু করেছি। বহুদূর যেতে চাই, নিজের ও শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে চাই।’

ঢাকা, ২৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।