বিজয়ের মাসে তারুণ্যের ভাবনা


Published: 2020-12-02 19:22:10 BdST, Updated: 2021-01-24 14:30:39 BdST

ডিসেম্বর, অহংকার আর গৌরবের মাস; আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই সূচনা হয় বাঙালির নবজীবনের। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাভূত হয় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। আমরা পেয়েছি এই লাল সবুজের পতাকা। এই দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। বিশ্বের বুকে আবির্ভূত হয় একটি জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন, আছে নানা চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল দেশের তরুণ সমাজ। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

আমজাদ হোসেন হৃদয়, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিজয়ের পরিপূর্ণ সুফল কাম্য: বিজয়ের ৪৯ বছর পরও আমরা পরিপূর্ণ সুফল পাচ্ছি না। আমাদের এই বিজয় কেবল একটি জাতীয় পতাকা বা স্বাধীন একটি ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং বৈষম্যহীন দেশ গঠনের প্রেরণা এই বিজয়। মুক্তিযুদ্বের মূলনীতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

সুদীর্ঘ ৪৯ বছর একটি জাতির জন্য কম সময় নয়, কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই বাক স্বাধীনতা, সেই ভোটাধিকার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, জন নিরাপত্তা আজও সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। প্রতিষ্ঠিত হয়নি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের শাসকরা এখনো পর্যন্ত জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে নি।

আমজাদ হোসেন হৃদয়

 

ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় মতের উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা নেতার শাসন এখনো অধরাই রয়ে গেল। ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য ও প্রশ্ন ফাঁস শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত অর্জনকে বাধাগ্রস্থ করছে। দেশজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে অন্ধাকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বোপরি স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুফল পেতে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হতে হবে।


আব্দুস সবুর লোটাস, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন হোক: বিজয় শব্দটা শুনলেই আনন্দ লাগে ভিতরে। যে কোন বিজয়ই সাধারণভাবে আনন্দের হয় তবে বিজয়ের পিছনে থাকে বৃহত সংগ্রামের ইতিহাস৷ ডিসেম্বর আসলেই বিজয় দিবসের আনন্দের বাতাস বয় ভিতরে। এই আনন্দের জন্য প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন দিতে হয়েছে।

যার মধ্যে অনেক শিশু আছে৷ অনেকে তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। যার ফলে আমরা পেয়েছি এই সবুজ-শ্যামল ভূখন্ড। এই বিজয়ের জন্য যারা জিবন দিয়েছে সবাই পাকিস্তানের অন্যায়, অত্যাচার, দুশাসন থেকে মুক্তির জন্য জিবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের আকাঙ্খা ছিলো ধর্ম নিরপেক্ষ, ক্ষুধা ও বৈষম্যহীন একটি সুন্দর দেশের।

আব্দুস সবুর লোটাস

 

তাদের আকাঙ্খা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আমরা সেই বীরদের আত্মত্যাগের কথা কোনোদিন ভুলব না। গভীর শ্রদ্ধায় আমরা তাদের স্মরণ করবে। আমরা যেনো তাদের আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ সম্মান করতে পারি সারাজীবন। সেই সাথে দ্রুতই মুক্তিযুদ্ধাদের আকাঙ্খা বাস্তবায়িত হোক এদেশে এটাই চাই।


অনন্য প্রতীক রাউত, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বিজয়ের চেতনাই হোক পথ চলার শক্তি: বিজয় মানে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদের জীবনাবসান, ২লক্ষ ৭৬ হাজার মা-বোনের ইজ্জতের সংমিশ্রণ আমাদের বিজয়। যেই পথ পরিক্রমায় সামনের সারিতে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তরুণদের।

জীবনের বিশাল সময় রয়েছে পড়ে, সোনালী ভবিষ্যৎতের আছে হাতছানি তাও দমে যান নি তরুণেরা। অন্যায়, অবিচার তথা পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন অবিরাম। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে জনতার সাথে, গড়ে তুলেছে "মুজিব বাহিনী"। ধ্বংস করেছে হানাদার বাহিনীর একের পর এক পরিকল্পনা। কষ্টার্জিত এই বিজয় তাই আমাদের অস্তিত্ব, এগিয়ে যাবার প্রেরণা।

অনন্য প্রতীক রাউত

 

কোনভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই মহান মুক্তিযুদ্ধের। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক সেই চেতনা বা দেশান্তবোধ এটাই চির প্রত্যাশা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের করা হোক অপসারণ, অপশক্তিকে করা হোক পদানত, সৃষ্টি হোক ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর বাংলাদেশ। এগিয়ে যাক প্রিয় মাতৃভূমি।


তাহমীদ হাসান শোভন, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
৪৯ বছরেও বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ পাইনি: নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিজয়ের ৪৯ বছরে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশ বিজয়ের স্বাদ পেয়েছে। সেই থেকেই বাঙালীরা পেয়েছে রাষ্ট্রের ৪ টি উপাদানের অন্যতম একটি প্রধান উপাদান নির্দিষ্টি ভূখন্ড।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বিজয়ের ৪৯ বছরেও বাংলাদেশ বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ পায়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে যেন বাঙালির বিজয়ের নিশানটিও ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বিভিন্ন দল একাধিকবার ক্ষমতায় আসলেও জনগণের মনের মতো করে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে নি।

তাহমীদ হাসান শোভন

 

তারা পারে নি অন্ন, বস্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদাগুলোকে পূরণ করতে। বরং দলগুলোর পাল্টাপাল্টি রেশারেশিতে প্রাণ হারিয়েছে হাজারো সাধারণ জনতা। বিজয়ের প্রায় অর্ধশত বছর পূরণের ক্রান্তিলগ্নে এসেও দেশকে সাক্ষী হতে হচ্ছে হত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনার। তাই সহজেই অনুমেয় বিজয়ের স্বাদ বাংলাদেশ পুরোটা পেতে এখনো ব্যর্থ।


মোঃ সোহানুর রহমান সোহান, শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাপ্তি আর শক্তির ৪৯ বছর: ৫৬‌ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্রখচিত বাংলাদেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে বিজয়ের ৪৯ বছর। অর্ধশতক ছুঁতে মাত্র আর একটি বছর বাকি, বাংলাদেশী হিসেবে এ বিজয়োল্লাস আমাদের বাঁধভাঙ্গা। বিজয়ের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে আমাদের যেমন অসীম ঘাটতি, অসামঞ্জস্যতা, আর অক্ষমতার দেখা মেলে ঠিক তেমনিভাবেই কতগুলো প্রাপ্তি আর শক্তির জায়গাও তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যেই।

সময়ের প্রয়োজনেই হোক কিংবা আদর্শিক জায়গা থেকেই হোক আমরা একটি বিজয় পেয়েছি এটি পরম গৌরবের। বিজয়ের সমুন্নতায় সামগ্রিকভাবে আমাদের আরো অনেক বেশি তৎপরতা প্রয়োজন। কালে কালে প্রকৃতিগতভাবেই মানুষের চাহিদার পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের সবথেকে বড় চাহিদার জায়গা তৈরি হয়েছে আমাদের দেশের দুর্নীতির নির্মূলকরণ।

মোঃ সোহানুর রহমান সোহান

 

প্রত্যেক সাংসদ, মন্ত্রী, আমলার উপর বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে তাদেরকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি এনে দুর্নীতি দমন ও তাদের কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সমকালীন চাহিদা। মোদ্দাকথা, রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত হবে অগ্রসর বিষয়গুলোকে যথাযথ গতিতে রেখে অসামঞ্জস্যতার দিকগুলোতে কঠোর নজরদারি করে আমাদের অর্জিত বিজয়কে সমুন্নত রাখা।

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।