জবিতে বিভিন্ন সংগঠনের জায়গা সরিয়ে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন! কি ভাবছে জবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-07-05 16:49:28 BdST, Updated: 2020-08-08 18:44:39 BdST

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ঠিক তেমনি সাস্থসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের গুরুত্ব অপরিসীম।স্বাস্থ সেবার উন্নতি করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অফিস বন্ধ করে সেখানে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করতে চায় জবি প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এক অনলাইনসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনকৃত ক্রিয়াশীল ২০টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের ২য় তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ, রোভার স্কাউট, রেঞ্জার ইউনিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টাস ইউনিটি এর অফিস কক্ষ, ৩য় তলায় জবিসাস, ডিবেটিং সোসাইটি, বিএনসিসি, চলচিত্র সমিতি, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং ৪র্থ তলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ ও উদিচীর অফিস রয়েছে।

সেই সাথে নতুন অনেক সংগঠনের অফিস কক্ষ নেই। সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন সরিয়ে মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের ব্যাপারে জবি শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের মতামত পোষন করেছেন। সেই মতামত জানাচ্ছেন মুজাহিদ বিল্লাহ

সানাউল্লাহ আল ফাহাদ, ৪র্থ বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ:

সংস্কৃতি এবং চিকিৎসা উভয়-ই আমাদের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির যেভাবে প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি চিকিৎসার প্রয়োজনও রয়েছে বৈকি। এক্ষেত্রে কোনটিই ছুড়ে ফেলা দেওয়ার মত নয়। সুতরাং দুটোরই সহাবস্থান চাই। সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজনে সংস্কৃতির উৎখাত কিংবা সংস্কৃতির প্রয়োজনে চিকিৎসার উৎখাত বাঞ্চনীয় নয়। তবে বর্তমান পৃথিবীর পরিস্থিতি ভিন্ন।

শুধু করোনা শব্দটি ছাড়া অন্য সকল শব্দ মুছে গেছে আমাদের জীবনের অভিধান থেকে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে চাই মজবুত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আপদকালীন সময়ে মানুষের জীবন রক্ষা-ই মূখ্য অন্যসব গৌণ। সুতরাং চিকিৎসার দূর্গ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কেন যেকোন কিছুই উপেক্ষা করা যেতে পারে।

রাশেদুল ইসলাম নাহিদ, ৪র্থ বর্ষ, জিওগ্রাফি এন্ড ইনভাইরনমেন্ট বিভাগ:

আমরা জবিয়ানরা সবসময়ই বিভিন্ন ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন অতিক্রম করে আসছি!বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন যে মেডিকেল স্হাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই কারন এর আগে আমরা এই চিকিৎসার অভাবেই ২০১৯ সালের ২০ জুন বন্ধু ওয়াসীকে হারিয়েছি।

আমরা চাই না যেন চিকিৎসার অভাবে আর কোন জবিয়ানকে অকালে জীবন দিতে হয়। আপাতত সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সরিয়েই মেডিকেল স্হাপন করাটা অযৌক্তিক নয় কেননা এখনকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ! বেঁচে থাকলে আমরা সংস্কৃতির চর্চা অনেক করতে পারবো আপাতত বেঁচে থাকাটাই মূখ্য।

রওনুকুর সালেহীন, ২য় বর্ষ, ফ্লিম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ:

সাংস্কৃতি সংগঠন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি,ঐতিহ্য ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করে। যা আমাদের দেশের সংস্কৃতির জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনা ময়। এটা সরিয়ে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন যুক্তিযুক্ত নয়--বরং মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার চিন্তা আমি বেশি উপযোগী বলে মনে করি।

আনোয়ার হোসেন, ৪র্থ বর্ষ, পরিসংখ্যান বিভাগ:

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই আসলে সেখানে অনেকগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকবে। জবির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বরাবরের মত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অংগনে ভুমিকা রেখে যাচ্ছে।কিন্তু করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে যদি অবকাশ ভবনের কোন খালি কক্ষে বা সাংস্কৃতিক সংগঠনগগুলোর কক্ষ সীমিত করে সেখানে খন্ডকালীন মেডিকেল সেন্টার করা হয় তাহলে খারাপ হয় না। জবিতে যেহেতু অবকাঠামোগত সংকট আছে তাই বাধ্য হয়ে অবকাশ ভবনে মেডিকেল সেন্টার চালু করা যায়।

আর আমরা জানি, জবির বর্তমান ভিসি স্যার নিজেও একজন খুবই সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। জবিতে ওনার চেয়ে কেউ সংস্কৃতি নিয়ে বেশি ভাবেন বলে মনে হয় না। করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে উনি নিজেই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সেখানে বা অন্য কোথাও জায়গা করে দিবেন।

মারুফ হাসান সুজাদ, ৪র্থ বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ:

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বলবো জগন্নাথ ক্যাম্পাস ছোট পরিসরে হওয়ার কারণে আমাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে ক্যাম্পাসের প্রতিটি ক্ষেত্র সংস্কৃতি ধারণ করে। তবে ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক সংগঠন সরিয়ে মেডিকেল স্থাপন করা মোটেও ঠিক হবে না। কারণ আমাদের ক্যাম্পাসের যে নিজস্ব সংস্কৃতি গুলো রয়েছে তা মূলত রক্ষা করা এবং সংস্কৃতি গুলো তুলে ধরার জন্য সংগঠন গুলো কাজ করে থাকে।

আমি নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে বলবো সাংস্কৃতিক সংগঠনের স্থাপনা সরিয়ে ফেললে সংগঠনের ঐতিহ্য টা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।তাই জগন্নাথের সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে মেডিকেল স্থাপন অন্য জায়গায় করা উচিত বলে আমি মনে করি।

আলমগীর কবির, ২য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ:

বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা সেবা অতি জরুরি। পাশাপাশি বিনোদনের ও দরকার আছে। তবে আমরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিনোদন করবো,এটা মোটেও মানানসই না। জবি কর্তৃপক্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠন সরিয়ে মেডিকেল সেবা চালু করতে যাচ্ছে। নিশ্চয় এটা খুশির সংবাদ। আমি উক্ত কার্যক্রম কে সাধুবাদ জানাই।

সাজ্জাদুল হোসেন রিয়াদ,৩য় বর্ষ,বাংলা বিভাগ:

এটা অবশ্যই অযৌক্তিক। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য একটা অংশ, যে কোনো কিছুর মূল্যেই এই অপরিহার্য অংশকে বাদ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বকীয়তা হারাবে। মেডিক্যাল স্থাপন করাটাও আমাদের জন্যে প্রয়োজনীয় সেজন্যে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন তবে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আঘাত আসতে পারে এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া অবশ্যই উচিত হবে না।

আশিকুর রহমান, ৩য় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ:

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের যেমন প্রয়োজন অপরিসীম ঠিক বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এই সংকটকালে মেডিকেল সেন্টার বেশি জরুরি।মেডিকেল করা হলে আমাদের উপকার হবে সেই সাথে সংগঠনের জায়গা দেওয়ার দরকার।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যলয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, "আপাতত আমরা মেডিকেল স্থাপন করব এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় হলে সব সংগঠনগুলাকে বিকল্প জায়গা করে দেওয়া হবে।"

এ প্রসঙ্গে জবি ভিসি আরো বলেন, আমরা আপাতত এখানে একটি মেডিকেল স্থাপন করব। মেডিকেল আমাদের সকলের প্র‍য়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় হলে আমরা সংগঠনের জায়গা করে দিব।রফিক ভবনের নিচ তলায় ৪ টা বড় রুম আছে সেখানের ক্লাস আমরা বিবিএ ভবনে দিয়ে সেখানে সংগঠনের জন্য জায়গা করে দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক সংগঠন আমাদের দরকার। এর মাধ্যমে অনেক জায়গায় আমরা পরিচিত হয়ে থাকি। সব কিছু স্বাভাবিক হলেই সকলের জায়গা করে দেওয়া হবে।"

ঢাকা, ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।