বুয়েটের আবরার হত্যায় অংশ নেয়া সেই ৩ ছাত্র বেঁচে যাচ্ছেন!


Published: 2019-10-29 01:08:19 BdST, Updated: 2019-11-17 11:45:40 BdST

কুষ্টিয়া লাইভ : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত ৩ ছাত্র বেঁচে যাচ্ছেন। মামলার এজাহার থেকে তারা বাদ পড়েছেন। তারা আবরারকে রুম থেকে ডেকে নেয়া থেকে শুরু করে পিটিয়ে হত্যা এমনকি লাশ নামানোতেও সহায়তা করেছেন। তবুও তাদের নাম এজাহারে না আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবারের সদস্যরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া ৩ ছাত্র হলেন ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল, ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ ও গালিব। চার্জসিটে তাদের নাম অন্তভুক্তির দাবি করেছেন আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ। তবে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বলছেন, কোন আসামি বাদ পড়লে অবশ্যই চার্জশিটে তার নাম অন্তভুক্ত করা হবে।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, সিসি টিভির ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান পরিস্কার হয়ে গেছে। কয়েকটি ফুটেজে বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া খুনিদের শনাক্ত করা যাচ্ছে। মামলার সময় সব ফুটেজ দেখা হয়নি। তাই অনেকেই মামলার এজাহার থেকে বাদ পড়েছেন। তিনি বলেন, হত্যায় অংশ নেয়া ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল। ভাইয়াকে রুম থেকে ডেকে নেয়ার সময় সাইফুলকে দেখা গেছে এবং পিটিয়ে যখন লাশ বাইরে বের করা হচ্ছে তখন অনেকের সাথে সাইফুলও ভাইয়াকে ধরে বের করেছেন। অথচ এজাহারে তার নাম নেই। ১৭ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ টর্চার সেলে ভাইয়ার মোবাইল কেড়ে নিয়ে চেক করতে থাকেন। তার নামও মামলার এজাহারে আসেনি। ভাইয়াকে ধরে নিয়ে যাওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় আরেক শিক্ষার্থী গালিব একাধিকবার টর্চার সেলে আসা-যাওয়া করেছে। তার নামও নেই এজাহারে।

আবরারের বাবা ও মামলার বাদি বরকতউল্লাহ বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে হত্যায় অংশ নেয়া অনেকের নামই মামলায় নেই। তিনি বলেন ৭অক্টোবর সোমবার আবরারের লাশ আনতে আমি ঢাকায় যাই। ওই সময় তাড়াহুড়া করে পুলিশ আমাকে যেভাবে বলেছে আমি সেভাবে মামলা করেছি। আমিতো কাউকে চিনি না। পুলিশ নিজেরাই আসামিদের শনাক্ত করে রেখেছিল। আমি শুধু মামলার কপিতে স্বাক্ষর করেছি। এখন একের পর এক সিসি টিভির ফুটেজ দেখছি। ফুটেজ দেখা যাচ্ছে হত্যায় অংশ নেয়া অনেকেই এজাহার থেকে বাদ পড়েছেন। মামলা থেকে বাদ পড়া খুনিদের চার্জশিটে নাম অন্তভুক্তির দাবি করেন বরকতউল্লাহ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ওহিদুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। সিসি টিভির ফুটেজসহ সব কিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন আসামি বাদ পড়লে চার্জসিটে অবশ্যয় তাদের নাম আসবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত হন বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। পরদিন ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক মারপিট করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।