লেখা চুরি করে নিজের বলে চালিয়ে দিলেন ঢাবি শিক্ষক!


Published: 2019-08-27 13:31:40 BdST, Updated: 2019-09-20 10:08:34 BdST

ঢাবি লাইভ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের লেকচারার স্বরূপ হোসেনের বিরুদ্ধে লেখা চুরির অভিযোগ উঠেছে। চৌর্যবৃত্তির মতো অপরাধ করে ডিপার্টমেন্টের সুনাম ক্ষুণ্ণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগটির ডেমনস্ট্রেটর জাকির হোসেন।

গত ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়,স্বরূপ হোসেনের লেখা ‘তবলা ঘরাণা ও তার বাদন শৈলী’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ষাণ্মাসিক বাংলা পত্রিকার ত্রিংশবর্ষ ২য় সংখ্যায় জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ বঙ্গাব্দে (জুন ২০১২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয় (পৃষ্ঠাঃ ৭৪-৮০)। স্বরূপ হোসেন তার প্রবন্ধে তবলার বিভিন্ন ঘরাণা ও বংশ তালিকা, বাদনশৈলী উদাহরণসহ পাঠকের কাছে তুলে ধরেন। তার রচিত প্রবন্ধে কোন উৎসের উদ্বৃতি কিংবা কোন সহায়কপঞ্জি বা তথ্যনির্দেশিকা নেই, যা কিনা একটি মৌলিক গবেষণা নিবন্ধ বলে প্রতীয়মান হয়। স্বরূপ হোসেন তার প্রবন্ধে যে সকল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন সেগুলোর মূল লেখক হচ্ছেন ইন্দুভূষণ রায়। ইন্দুভূষণ রায় রচিত ‘তবলা বিজ্ঞান’ (প্রথম খণ্ড) বইয়ের সাঙ্গীতিক পরিভাষা অধ্যায়ের ‘তবলার বিভিন্ন ঘরাণা’ ও ‘তবলার বিভিন্ন বাজ’ (পৃষ্ঠাঃ ৫৩-৬৩) রচনা থেকে কোথাও শব্দ ও ভাষার পরিবর্তন করে, কোথাওবা হুবহু একই লেখা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কুম্ভিলকবৃত্তির মাধ্যমে স্বরূপ হোসেন তার প্রবন্ধে লিপিবদ্ধ করেন।

01

 

উপর্যুক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন করে বিভাগের ওই কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হয়ে তিনি যে চৌর্যবৃত্তি করেছেন তা কপিরাইট আইন, ২০০০ এর পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। তার এই চৌর্যবৃত্তির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও তার কাছ থেকে মৌলিক কিছু শিখছে না। এতে ছাত্রছাত্রীরাও চৌর্যবৃত্তির মত একই জিনিস শিখছে। এটির সাথে সংগীত বিভাগের সুনাম জড়িত। আজ হোক কাল হোক এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই এবং আমার মনে হয় যে, যেকোন জিনিসই সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। সংগীত বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসেবে আমি মনে করি যে, এই চৌর্যবৃত্তির একটি সুরাহা হওয়া উচিত। যদি পরবর্তীতে এটি প্রকাশিত হয় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব আমার উপরেও বর্তায়। শিক্ষার্থীরাও আমাকে দেখে বলবে যে, এই যে চৌর্যবৃত্তি ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা।

02

 

এ বিষয়ে স্বরূপ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আপনি দুইটি লেখা মিলিয়ে দেখুন, কোথায় চুরি হয়েছে। যে অভিযোগ দিয়েছে, আপনি সেটা সাংবাদিকতার রুলস এন্ড রেগুলেশনস থেকে যাচাই করে দেখুন। "এসময় তিনি দাবি করেন ওই বইয়ের সাথে তার লেখার কোন সাদৃশ্য নেই।

পরে ক্যাম্পাসলাইভের অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্বরূপ হোসেনের লেখা ‘তবলা ঘরাণা ও তার বাদন শৈলী’ শীর্ষক প্রবন্ধে ইন্দুভূষণ রায় রচিত ‘তবলা বিজ্ঞান' বইয়ের শব্দ, উদ্ধৃতি, ডায়াগ্রাম ও ভাষার অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু কোন উৎসের উদ্বৃতি কিংবা কোন সহায়কপঞ্জি বা তথ্যনির্দেশিকা নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগীত বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান টুম্পা সমাদ্দার বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। স্বরূপ হোসেন ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের লেকচারার হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

ঢাকা, ২৭ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।