বিয়ের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবৈধ সম্পর্ক আলোচনায়!


Published: 2019-08-26 12:40:57 BdST, Updated: 2019-09-20 10:05:27 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : খুলনায় একের পর এক বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে কেউ কেউ লিভটুগেদারও করছেন। এনিয়ে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে খুলনায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনায় অন্ত:ত দুটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি লিভ টুগেদারের ঘটনা। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বয়ফ্রেন্ডের হাতে ধর্ষণের শিকারও হয়েছেন এক ছাত্রী। যাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। গত বছর খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর লিভটুগেদার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। মুসলিম থেকে হিন্দু বানিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে লিভটুগেদারে জড়ায় এক ছাত্র। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ‘লিভ টুগেদার’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ছাত্রীকে প্ররোচিত করে ধর্মান্তরিতের মাধ্যমে মাদকে আসক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ‘লিভ টুগেদার’ এর কারণে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ছাত্রী বর্তমানে পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়।

লিভ টুগেদারে লিপ্ত বোমনাথ সরকার নামে ওই যুবক সাংবাদিকদের জানান, তারা ধর্মকর্মে বিশ্বাসী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীসহ তারা ইউটিউবে লী ও ত্রিশূল নামের দু’টি চ্যানেলে কাজ করেন। এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কোন জায়গা নেই। তারা বর্ণমালা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস সেখানে উপেক্ষিত। তবে ধর্ম-কর্মে বিশ্বাসী নয় তবুও কেন ওই মুসলিম ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করা হলো তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নকালে ‘বর্ণমালা’ নামের একটি সংগঠনের প্ররোচনায় পড়েন চার পারা কোরআন মুখস্ত করা রিপা (ছদ্মনাম)। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর বোমনাথ নামে এক যুবকের সঙ্গে লিভ টুগেদার শুরু করেন রিপা। এসময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ধীরে ধীরে তিনি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে খুলনার বাসায় নিয়ে যায়।

এর বাইরেও গোপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা ঘটছে যার অধিকাংশই আড়ালে থেকে যাচ্ছে। প্রতারিত হওয়ার পর বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসছে। এসব ঘটনা নিয়ে খুলনায় অভিভাবক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘সংস্কৃতির ভারসাম্যহীনতা’ এ ধরনের অপরাধের বড় কারণ। সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, পারিবারিকভাবে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা ও বিদেশি অপসংস্কৃতি চর্চা বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

জানা যায়, ১৭ আগস্ট খুলনায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী। এজাহারে ওই ছাত্রী নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিঞ্জন রায়কে গ্রেফতার করে। পরে জানা যায় তারা লিভটুগেদারে লিপ্ত ছিলেন।

পৃথক ঘটনায় ১৯ জুন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কোস্টগার্ডে কর্মরত তানজিল ইসলামের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় মামলা করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা ওই ছাত্রী তার সন্তানের পিতৃত্বের পরিচয় দাবিতে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ৩ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পাপ্পু কুমার চারুকলা ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে পাপ্পু কুমারকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, খুলনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক এসব ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এসব অপরাধের পেছনে মিশ্র সংস্কৃতির কুপ্রভাব, বিষন্নতা, মাদক ও পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের মতে ফেসবুক-ইন্টারনেটের কারণে ছেলে-মেয়েরা সহজেই কাছাকাছি চলে আসে। প্রায়ই দেখা যায়, পার্কে বা রেস্টুরেন্টে ছেলে-মেয়েরা ঘনিষ্ঠভাবে আড্ডা দিচ্ছে। অবাধ মেলামেশার ফলে তাদের মধ্যে শারীরিক আকর্ষণ তৈরি হয়।

প্রফেসর ড. মো. আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ‘মিক্সড কালচারের’ (মিশ্র সংস্কৃতি) একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, যেখানে রয়েছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালি সংস্কৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি। এই মিক্সড কালচারের মধ্যে থেকে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধে পচন ধরেছে। অন্যের সংস্কৃতি, তাদের পোশাক-সাজসজ্জা অনুকরণ করতে গিয়ে সংস্কৃতির ভারসাম্যহীনতায় কোনটা গ্রহণীয় আর কোনটা বর্জনীয় এই বোধটা আমরা হারাতে বসেছি।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, মাদক নির্মূল ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে আবাসিক হোটেল ও সন্দেহজনক স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিকতা জড়িয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ২৬ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।