নয়ন বন্ডের বিশেষ কক্ষে মিন্নিসহ ১২ ছাত্রীর সর্বনাশ, ভিডিও!


Published: 2019-07-30 13:29:33 BdST, Updated: 2019-08-25 20:11:31 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত হত্যার ঘটনায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের অপকর্মের প্রমাণ এখন আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে এসেছে। তার একটি বিশেষ কক্ষের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই কক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে ফূর্তি করতো নয়নবন্ড। এদের মধ্যে কাউকে ব্ল্যাকমেইল কাউকে ভয় দেখিয়ে আবার কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিয়ে যেত নয়নবন্ড। সেখানে নিয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণের সময় বিশেষভাবে রাখা ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখতেন তিনি। পরে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর কাজে লিপ্ত হতেন। তার হাতে ঠিক কতজন ছাত্রীর সর্বনাশ হয়েছে তার সঠিক হিসাব পুলিশের কাছেও নেই। তবে নয়নের বিশেষ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ল্যাপটপে প্রচুর পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি পর্ন ভিডিওতে কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে নয়ন বন্ডের অন্তরঙ্গ মহুতের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর পাত্র পাত্রীদের মধ্যে নয়ন বন্ডের চেহারা স্পষ্ট। শুধু তার বিছানা সঙ্গী হওয়া তরুণীদের কারো কারো চেহারা অস্পস্ট। একেকদিন একেক ছাত্রীকে নিয়ে তিনি ফুর্তিতে মেতেছেন। রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও তার লালসার শিকার হয়েছেন। এমন অন্তত ১২ ছাত্রীর সম্ভ্রম হারানোর তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এর বাইরেও অনেক ছাত্রী নয়নের লালসার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের বিশেষ কক্ষের গোপন জায়গায় আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট ক্যামেরা) সুকৌশলে সেট করা থাকতো। এমনভাবে সেগুলো সেট করা থাকতো যে ভুক্তভোগীরা ক্যামেরার অস্তিত্ব টের পেতেন না। একবার নয়নের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার পর তার আর রক্ষা ছিল না। বার বার সে নয়নের হাতে ব্যবহৃত হত। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হত অনেক ছাত্রীকে। অনেক ছাত্রী নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ ছেড়ে আড়ালে চলে গেছেন। অনেকে তার চাহিদামত মোটা অংকের টাকা তুলে দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। পুলিশের হাতে এমন অন্তত ১২ জন ছাত্রীর তথ্য আছে বলে জানা গেছে। নয়ন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা এসব ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে তার সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

নয়ন বন্ডের বাড়ি বরগুনা শহরের ডিকেপি রোডের মাঝ বরাবর একটি সরু গলির শেষ প্রান্তে। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা খালি। সম্প্রতি সেখানে বাড়ি নিমানের জন্য প্রচুর ইট স্তুপ করে রাখা। নয়নের বাড়ির মূল দরজার পাশেই একটা ছোট বৈঠক ঘর। নয়ন সেখানেই থাকতেন। গভীর রাত পযন্ত ঘরের দরজা খোলা থাকতো। সারাদিন এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। রাত ১২ টার পর থেকেই তার কক্ষে নানা রকম লোকজনের আনাগোনা হত। আসতেন পুলিশের লোকজনও। প্রতিবেশিরা বলছেন, পুলিশের অসাধু কয়েকজন সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা নয়নকে ব্যবহার করে নিবিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। সূত্র বলছে, মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নিজেও মরণ নেষা ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। কলেজ ঘেষা বাড়িটিকে প্রকাশ্যে তিনি মাদক বিক্রির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করেন।

নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ছেলেকে ভাল করার অনেক চেস্টা আমি করেছি। কিন্তু একা একা পারিনি। আমার দুটো ছেলে। একটা বিদেশে থাকে। স্বামীকে হারিয়েছি অনেক আগে। নয়নকে সঙ্গে নিয়ে থাকতাম। কিন্তু নয়ন নেশাগ্রস্থ হয়ে গেল। ছেলেকে ভাল পথে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। তবে ছেলেটা অপরাধী হলে আইনের হাতে তুলে দিতে পারত। তার বিচার হত। আদালত যে শাস্তি দিত তা সে ভোগ করত। কিন্তু তাকে ক্রস ফায়ারের নামে মেরে ফেলল। কেন তাকে মেরে ফেলা হল। তাকে যারা নয়ন বন্ড বানিয়েছে তাদের আড়াল করতেই কি তাকে মেরে ফেলা হল এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ঢাকা, ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।