এক বছরের ব্যবধানে মেডিকেলের ১২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!


Published: 2019-05-13 15:58:58 BdST, Updated: 2019-08-24 01:00:40 BdST

মাসুদ সেজান : মেডিকেল কলেজে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সামান্য কারণে প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে মেডিকেল কলেজের ১২ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যারা আত্মহত্যা করেছেন বলে সত্যতা মিলেছে। এদের মধ্যে ৪ জন ছাত্র বাকী ৮ জন ছাত্রী। তবে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ প্রেমঘটিত নয়। মূলত পরীক্ষায় ফল খারাপ ও পড়াশোনোর অতিরিক্ত চাপে তারা আত্মহত্যার ভয়ংকর পথ বেছে নিয়েছেন। সর্বশেষ গত রোববার (১২ মে) পড়াশোনার চাপে আত্মহত্যা করেছেন ইসরাত জাহান মিথিলা নামে ওসমানী মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী। একই বছরের নিজের বউকে দায়ী করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মঞ্জুর মোরশেদ আকাশ নামে এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে গত বছর ১০ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন যার পেছনে ফল খারাপ ও পরীক্ষায় ফেল করার বিষয়টি কাজ করেছে। এদের মধ্যে দুইজন মেডিকেল ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী রয়েছেন।
যাদের একজন বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার কারণে প্রাণ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ : চট্টগ্রামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ মৃত্যুর আগে আত্মহত্যার জন্য তার স্ত্রী তানজিলা হক মিতুকে দায়ী করেছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমি বারবার বলেছি আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট কর না, বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা, মিথ্যা বল না। আমার ভালোবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ।’

সর্বশেষ স্ট্যাটাসে আকাশ লেখেন- ‘ভালো থেক, আমার ভালবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’। এছাড়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে আকাশ বিয়ের আগে ও পরে একাধিক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রী মিতুর অনৈতিক সম্পর্ক থাকার দাবি করেন। তিনি ফেসবুকে স্ত্রীর কয়েকটি আপত্তিকর ছবিও পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এরপর মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম। মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই বয়ফ্রেন্ডকে আসামি করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উত্তর জোনের এডিসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডা. আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। মিতুকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন, আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।’

আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া) বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। থাকতেন নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায়।

পড়াশোনার চাপে সব শেষ করে দিলেন মেডিকেল ছাত্রী : ইসরাত জাহান মিথিলা পড়াশোনা করছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে। তার দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। পড়াশোনা নিয়ে বেশ চাপের মুখে ছিলেন তিনি। এনিয়ে প্রায়ই তিনি চিন্তিত থাকতেন। এরই মাঝে তার ঝুলন্তা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য মিথিলা পড়াশোনার চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। তবে সহপাঠীরা বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তাদের কেউ কেউ পড়াশোনার চাপের কথা বললেও বিষয়টি রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, সিলেট নগরীতে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী ইসরাত জাহান মিথিলার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার (১২ মে, ২০১৯) ৬টার দিকে নগরীর সুবিদবাজার ফাজিল চিশত এলাকার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওসমানী মেডিকেলের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিথিলা ফাজিল চিশত এলাকার ডা. আব্দুল হালিমের মেয়ে। এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সহপাঠীদের বরাত দিয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি এসএম শাহদাত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত পড়ালেখার চাপের কারণে মিথিলা আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ছাত্রীর দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরীক্ষায় ফেল করায় মেডিকেল ছাত্রের আত্মহত্যা : ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অবস্টেট্রিকস ও গাইনি বিষয়ে ফেল করায় বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন গুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র বিজয় কুমার সাহা । গত বছরের ৩ মে ফল প্রকাশিত হওয়ার পরই সে বিষপান করেন। এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৪ মে শুক্রবার হাসপাতালেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিজয় কুমার সাহা প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে মাইগ্রেশন নিয়ে টিএমএসএসে ভর্তি হন তিনি।

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা : রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে রাকিবুল ইসলাম শান্ত (১৯) নামে এক মেডিকেল ছাত্র আত্মহত্যা করেন। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি ভোরে খিলগাঁও পূর্ব গোড়ানের একটি বাসা থেকে শান্তের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সাইক ইনস্টিটিউট প্যারামেডিকেলের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মা সালমা বেগমের সঙ্গে খিলগাঁওয়ের ওই বাসায় থাকতেন তিনি। খিলগাঁও থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, গত ৮ থেকে ৯ বছর আগে শান্তর বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন শান্ত। কিন্তু প্রায় সময় কারণে-অকারণে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে খাবার খেতে গিয়ে মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরেই মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন শান্ত।

এক বিষয়ে ১১ বার ফেল, হতাশায় মেডিকেল ছাত্রের আত্মহত্যা : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন মেহেদী হাসান ফারুক। বন্ধুরা এমবিবিএস পাস করে বেরিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু ফারুকের ভাগ্য অতটা সুপ্রসন্ন ছিল না! টানা ১১ বার মেডিসিন বিভাগে পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেনি সে। শেষ পরিণতিতে গত বছরের ৪ এপ্রিল আত্মহত্যার ভয়ংকর পথ বেছে নিয়েছে। জানা গেছে, মেহেদী হাসান ফারুক ৪ এপ্রিল রাতে তার নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত ৫ বছর যাবত ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কারণে হতাশায় ভুগছিলেন। তার শুধু মেডিসিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাকি ছিল। তাদের ধারণা তিনি হতাশার কারণেই আত্মহত্যা করেছেন।

রাজধানীতে মেডিকেল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : রাজধানীর উত্তরায় তানহা রহমান (২২) নামে এক মেডিকেল ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত বছরের ১০ মার্চ দিবাগত রাত ১০টার দিকে তিনি আত্মহত্যার ভয়ংকর পথ বেছে নেন। তানহা শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. মজিবর রহমানের মেয়ে তিনি। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি।

শেষ বর্ষের ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : গত বছরের ২ আগস্ট ফাহিমা আক্তার চাঁদনী নামে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহী নগরীর দাসপুকুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাতের বেলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ফাহিমা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৫৫তম ব্যাচের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

ফাহিমার স্বামী সালেহীন রনি ও সহপাঠীরা জানান, রাত ১১টার দিকে ফাহিমার স্বামী মোবাইল ফোনে তাকে না পেয়ে বিষয়টি তার বান্ধবীদের ফোন করে জানান। পরে বান্ধবীরা রাজপাড়া থানার দাসপুকুর এলাকায় চাঁদনীর ভাড়া বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে এলাকার লোকজন ও বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় চাঁদনীকে দেখতে যায়। তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত তাকে ঘোষণা করেন।

পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় প্রাণ দিলেন ছাত্রী : গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ছাত্রী জান্নাতুন ওয়াদিয়া মিতু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শয়নকক্ষ থেকে তারা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মহানগরীর বহরমপুর ব্যাংক কলোনী এলাকার মতিউর রহমানের মেয়ে। বাবা মতিউর চাঁপাইনবাবগঞ্জ বালুগ্রাম কলেজের প্রিন্সিপাল। মিতু রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মিতুর তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা খারাপ হয়েছে বলে বাড়িতে এসে জানিয়েছিল। এ সময় বাড়ির লোকজন তাকে বকাবকি করে। পরে তার নিজ ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে খারাপ ফলাফলের জন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মানসিক যন্ত্রণায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা : শয়নকক্ষ থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর নাম শুভ্রা রানী পাল। গত বছরের ১৯ জুন শহরের কৃষ্টপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কৃষ্টপুর এলাকায় শশী মোহন পালের কন্যা শুভ্রা শয়নকক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে পরিবারের লোকজন। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়।

শুভ্রার বাবা শশী মোহন পাল জানান, শুভ্রা রানী পাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তার কন্যা শুভ্রা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন শুভ্রার বাবার বরাত দিয়ে জানান, শুভ্রা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তার পরিবার। কিন্তু শুভ্রা তাতে রাজি ছিলেন না। শেষতক শয়নকক্ষে তার লাশ মিলেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের হলে শেষ বর্ষের ছাত্রীর লাশ : গত বছরের ১১ মে হলের একটি কক্ষ থেকে আশারা ফারজানা বিথীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর কয়দিন পরেই তিনি ডাক্তার হয়ে যেতেন। পরীক্ষা শেষে অপেক্ষায় ছিলেন ফলাফলের। এর পরেই ইন্টার্ন শেষে ডাক্তারি পেশায় যোগ দিতেন মেধাবী ওই ছাত্রীটি। কিন্তু এর আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাকের আহমেদ জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে ফলের অপেক্ষায় ছিলেন আশারা ফারজানা বিথী। তিনি মেডিকেল হলের নতুন ভবনের ২০৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। রাতে ওই কক্ষে আর কেউ ছিল না। সকালে হলের সহপাঠীরা তার কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় দেখেন। পরে ফ্যানে ওড়না দিয়ে ঝুলানো বিথীর লাশ দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণা, সম্ভ্রম হারিয়ে প্রাণ দিলেন মেডিকেল ছাত্রী : বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সম্ভ্রম হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন মিম। অন্তরঙ্গ ছবি দেখিয়ে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা। তবুও মুক্তি মেলেনি তার। আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে বয়ফ্রেন্ড তাকে প্রায়ই ডেটিংয়ে যেতে বাধ্য করতো। অবশেষে মুক্তি নিয়েছেন মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ওই ছাত্রী। প্রাণ দিয়ে প্রতারক বয়ফ্রেন্ডের বিচার দাবি করেছেন তিনি। বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার ভয়ংকর পথ। গত বছরের জুলাই মাসে এই মেধাবী ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে সেই প্রতারক বয়ফ্রেন্ডের ছড়িয়ে দেয়া বেশ কয়েকটি রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এঘটনায় প্রতারক প্রেমিকের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।

জানা যায়, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মৃধাপাড়া গ্রামের মো. জুলফিকার জামানের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী আশরাফী জামান মিমকে একই উপজেলার সাভার গ্রামের মাসুদুজ্জামানের ছেলে আশিকুজ্জামান প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। প্রেমের অভিনয় করে আশিক ওই ছাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা আদায় করে আসছিলেন।

মিম ঢাকায় ট্রমা মেডিকেল ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় আশিক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। গত বছরের ১৪ মার্চ তার এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন আশিক। পরে দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন আশিক। এতে মিম মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। বিষয়টি জানার পর মিমের বাবা ঢাকা থেকে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন।

মেয়ের বাবা এসব ঘটনা ছেলের মা-বাবাকে জানান। এক পর্যায়ে ছেলে ও ছেলের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে তারা প্রস্তাব অস্বীকার করে। এদিকে আশিক ঢাকায় মিমের অনুপস্থিতিতে মেসে রাখা স্বর্ণের গহনাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যান।

এদিকে মিম লোক লজ্জার ভয়ে নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। মিমের বাবা বাদী হয়ে ১৫ জুলাই রোববার আশিককে প্রধান আসামী করে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

হল থেকে ছাত্রীর লাশ : গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রীবাস থেকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রাত ৮টার দিকে শহরের পেয়ারাতলা হাবিবুর রহমান বাশারের গলির স্বর্ণময়ী ছাত্রবাসের ৩য় তলার একটি রুম থেকে দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছাত্রীর নাম জাকিয়া সুলতানা মিম। তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল ইনষ্টিটিউটের ছাত্রী। তিনি মামার বাড়িতে থাকতেন। মিম পোড়াদাহ বাবুপাড়া এলাকার জামিরুল ইসলামের মেয়ে। নিহতের মামা জিয়াউর রহমান জানায়, ২ মাস আগে মিম আমার বাড়িতে পড়াশোনার জন্যে এসেছে। হঠ্যাৎ জানতে পারলাম মিম সুইসাইড করেছে। নিহত মিমের বাবা জামিরুল ইসলাম জানান, মিম আমার বড় বৌয়ের একমাত্র মেয়ে। তার মা আমার সাথে থাকেনা। মিম আমার কাছে থাকে। মিমের সাথে ৩দিন আগে ফোনে শেষ কথা হয়। সে বলে, বাবা আমি চলে আসবো তোমার কাছে। রাতে মিমকে অনেক ডাকাডাকি করলেও সে দরজা না খুললে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গলাই ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত অবস্থায় মিমের লাশ দেখতে পাই। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি(অপারেশন) ওবাইদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে আত্মহত্যা। তবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

ঢাকা, ১৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।