ঢাবিতে অন্যরা ভর্তি হলেও কোটার সুযোগবঞ্চিত সেই হৃদয়!


Published: 2018-11-06 06:35:20 BdST, Updated: 2018-12-11 00:26:56 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে ভর্তিতে কোটার সুযোগ পাচ্ছেন না মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিতে আসা সেই হৃদয় সরকার। অন্য প্রতিবন্ধিরা তার পরে সিরিয়ালে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হয়েছেন হৃদয়। নেত্রকোনার এই ছাত্রটির বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাক্রম ৩৭৪০। মেধাক্রমে তার পরে স্থান পাওয়া আরও অনেক প্রতিবন্ধী ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের অধীনে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। যদিও হৃদয়কে ঢাবিতে ভর্তির জন্য সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা থাকলেও ‘সেরিব্রালপালসি’ তে আক্রান্ত হৃদয়ের জন্য নেই কোনো কোটা। ফলে শৈশব থেকেই পড়ালেখার জন্য সংগ্রাম করে আসা হৃদয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেও পারছেন না ভর্তি হতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২টায় কলা অনুষদে ‘খ’ ইউনিটে উত্তীর্ণ ওয়ার্ড, খেলোয়াড় ও প্রতিবন্ধী কোটাধারীদের মনোনয়ন সংগ্রহের জন্য ডাকা হয়। অনুষদের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ৯ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে ডাকা হয়েছে মনোনয়ন সংগ্রহের জন্য। এর মধ্যে ৪৫৮৪ মেধাক্রমেও রয়েছেন একজন। কিন্তু ৩৭৪০ মেধাক্রমে থেকেও হৃদয় সরকার মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক পাননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের কোটা প্রযোজ্য। ফলে হৃদয়ের জন্য বন্ধ হয়েছে ঢাবির দরজা।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে স্থান পাওয়া হৃদয় সরকার হাঁটতে পারেন না ছোটবেলা থেকেই। তার হাতের সব আঙুলও কাজ করে না। সমাজ সেবা অধিদফতর হৃদয় সরকারকে ‘সেরিব্রালপালসি’ প্রতিবন্ধী উল্লেখ করে একটি আইডি কার্ড দিয়েছে। যার নম্বর ২০০০৭২২৭৪০৯০০১৭৪৮-১০। মা সীমা সরকারের কোলে চড়ে স্কুল-কলেজে যেতেন হৃদয় সরকার। এইভাবেই তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন যথাক্রমে ৪.০৬ ও ৪.৫০ জিপিএ নিয়ে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাবি ‘খ’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতেও আসেন তিনি মায়ের কোলে চড়েই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর তোলা সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। উচ্চ শিক্ষার জন্য তার এমন নিরলস সংগ্রামকে এককথায় স্যালুট জানিয়েছেন সবাই। সেই হৃদয় ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় পাস করলে তার পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু ঢাবির নিয়মের চক্করে ‘প্রতিবন্ধী’ হয়েও প্রতিবন্ধী কোটা থেকে বাদ পড়েছেন হৃদয়।

হৃদয় সাংবাদিকদের জানান, কোটার কাগজপত্র থাকার পরেও ঢাবিতে নাকি আমার কোটা নাই! এটা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ল, বুঝতে পারলাম না।

ঢাবির কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তের মধ্যে বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য কোট বরাদ্দ আছে। হৃদয় সেই শর্তের মধ্যে পড়ে না। যদি এ ধরনের প্রতিবন্ধীর জন্য কোটা চালু হয়, তখন তারা নিশ্চয় ভর্তি হতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।