ঢাবিতে প্রশ্নফাঁস : প্রথম হওয়া বিতর্কিত ছাত্রের ইউসিসি কানেকশন!


Published: 2018-10-18 12:00:51 BdST, Updated: 2018-11-18 01:56:24 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সেই জাহিদ হাসান আকাশের সঙ্গে কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে ফেল করেছিলেন ওই ছাত্রী। অথচ তিনি ঘ ইউনিটে প্রথম হওয়ায় এনিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে ওই ছাত্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এর সঙ্গে ইউনিভার্সিটি ভর্তি কোচিং ইউসিসির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর অাগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও ওই কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে তদন্ত ও যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে ইউসিসি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে ওই বছর আটক শিক্ষার্থীরা স্বীকারোক্তি দেন। সেই সময় কোচিং সেন্টারটির যাত্রাবাড়ী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার অরুণ কুমার দাসসহ ইউসিসির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষক এ অসাধু কাজে জড়িত বলে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া জাহিদ হাসান আকাশ ইউসিসির উত্তরা ব্রাঞ্চের ছাত্র ছিলেন। ক্লাসে আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারলেও তিনি ইউনিটটিতে রেকর্ড ১১৪ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন, যা গত ২০ বছরেও কেউ পাননি। এরপর তাকে নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচারে নামে ইউসিসি।

জাহিদ হাসান আকাশের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৩০, সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২৮ দশমিক ৩০ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২৫ দশমিক ৫০ পেয়েছেন। অথচ তিনি নিজের ব্যবসায় শাখার ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বিশাল ব্যবধানে ফেল করেন। গ ইউনিটে পান মাত্র ৩৪ দশমিক ৩২ নম্বর। যেখানে বাংলায় ১০ দশমিক ৮, ইংরেজিতে ২ দশমিক ৪০, হিসাব বিজ্ঞানে ৫ দশমিক ২৮, ব্যবসায় নীতিতে ৬ দশমিক ৭২ এবং ফিন্যান্সে ৯ দশমিক ৮৪ নম্বর পান।

ফল প্রকাশের পরই নিজেদের ফেসবুক পেজে ইউসিসি একটি স্ট্যাটাস দেয়। যেখানে লেখা ছিল- ‘আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ‘ঘ’ ইউনিট থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ইউসিসির কৃতী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান আকাশ (ব্যবসায় শিক্ষা)। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিয়ে লাইভে আসছি...’।

এর কিছুক্ষণ পর তাকে নিয়ে লাইভে আসেন ইউসিসির পরিচালক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী। যেখানে তিনি নিজের কোচিংয়ের সফলতা জাহির করেন এবং জাহিদকে মেধাবী ছাত্র হিসেবে প্রমাণ করতে শুরু করেন। সুকৌশলে জাহিদকে দিয়ে নিজের কোচিং সেন্টারের সাফল্য প্রচার করেন কামাল পাটোয়ারী। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে আজ ইউসিসির প্রচারিত বিজ্ঞাপনেও জাহিদকে হাইলাইট করা হয়।

জানা গেছে, ইউসিসি চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে চড়ামূল্যে নিজেদের কোচিংয়ে শিক্ষার্থী টানে। বিভিন্ন সময় ডিজিটাল জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের দিয়েও বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সন্দেহের তালিকায় থাকা ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া জাহিদ হাসান আকাশকেও বিজ্ঞাপনে নিয়ে আসে।

এর আগেও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটে জালিয়াতি করে তৃতীয় হওয়া অয়ন কুমার দাস, পঞ্চম স্থান লাভ করা তাজরিন আহমেদ মেধা এবং ৭৮তম স্থান লাভ করা নূর মাহফুজা দৃষ্টিকে দিয়ে ইউসিসি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল। তাদের মধ্যে অয়ন কুমার ইউসিসি যাত্রাবাড়ী ব্রাঞ্চের ছাত্র এবং ওই ব্রাঞ্চেরই ম্যানেজার অরুণ কুমার দাসের ছেলে ছিলেন। ছেলের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন অরুণ কুমার পরীক্ষার দিন সকালে সরবরাহ করেছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

অন্যরা ইউসিসি বগুড়া ব্রাঞ্চের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই ব্রাঞ্চের জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক অর্ণব চৌধুরী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের প্রশ্ন সংগ্রহ করেছিলেন বলে তখন স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।

জাহিদ ইউসিসি কোচিংয়ের উত্তরা ব্রাঞ্চের ছাত্র ছিল স্বীকার করে ইউসিসি কোচিং সেন্টারের পরিচালক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, কেউ অপরাধ করলেতো কোচিংকে ধরার সুযোগ নেই।

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।