ফি নিয়ে জটিলতা : এক ভুলে ইবির হাজারো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি


Published: 2021-09-20 16:04:32 BdST, Updated: 2021-10-16 20:36:22 BdST

আজাহার ইসলাম, ইবি: গত ১২ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে একবছরের হলের সিটভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ফি মওকুফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ভুল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেক বিভাগ থেকে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের সকল ফি প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই সকল ফি প্রদান করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর এক জরুরি সভায় শিক্ষার্থীদের একবছরের হল ও পরিবহন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়। এ সংক্রান্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন দপ্তর, অনুষদ ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাকালীন হলসমূহ বন্ধ ও ছাত্র-ছাত্রীরা গাড়ি ব্যবহার না করার কারণে তাদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বাসভাড়া ও হলের সিটভাড়া মওকুফ করা হলো। শিক্ষার্থীরা ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফরম পূরণ করলেও প্রজ্ঞাপনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিবর্তে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ থাকায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সকল ফি প্রদান করতে নির্দেশনা দিয়েছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষের নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষের ফি মওকুফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাডেমিক শাখা ও একটি হলের কর্মকর্তারা। বিশ্বাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এবছরের হলের সিটভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফের কোনো নির্দেশনা নেই। বর্তমানে যারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তারা ২০১৯-২০ একাডেমিক ইয়ারের শিক্ষার্থী। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (একাডেমিক ইয়ার) ফি মওকুফ করা হয়েছে মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে রেজিস্ট্রার দপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পূর্ণ ফি আদায় করছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তর ঘুরতে হচ্ছে। কোনো দপ্তর সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। একেক হলে একেক রকম তথ্য মিলছে। ফলে ফি দিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা। সকল ফি পরিশোধ না করলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও পরবর্তীতে সনদ আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হাসান বলেন, ‘হলের সিটভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফ করেছে জানতাম। কিন্তু পরীক্ষার আগে ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে পূর্ণ ফি দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে ফি না দিলে এডমিট কার্ড আটকে যেতে পারে।’

ফারহানা আকতার লিমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০২০-২১ সেশনের জন্য নাকি হল ও পরিবহন ফি মওকুফ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ সেশনের টাকা দিতে হবে। হল ও পরিবহন ফি না দিলে না-কি সার্টিফিকেট আটকে যাবে।’

এদিকে আজ সোমবার (২০ সেপ্টম্বর) প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের ভুলের কারণে হলসমূহ বেশি টাকা নিয়ে থাকতে পারে। তবে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছিল।’

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মু. আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ লেখাটা যৌক্তিক নয়, ২০১৯-২০ হবে। হল প্রভোস্টরাও শিক্ষার্থীদের জটিলতার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছিল আমরা (রেজিস্ট্রার দপ্তর) সেভাবেই করেছি। তবে প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন হতে পারে।’

পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ফি মওকুফ করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্থলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ হবে। বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।’

ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলের সিট ভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফ করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকলে তা সমন্বয় করা হবে।’

ঢাকা, ২০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।