Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | রবিবার, ১৯শে মে ২০২৪, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

জবি ছাত্রলীগের বিভক্তি, ক্যাম্পাসে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মহড়া

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২২, ০৪:৩৫

জবি ছাত্রলীগের বিভক্তি

জবি লাইভ: কমিটি ঘোষণার ছয় মাসের মাথায় 'সুপার ইউনিট' খ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পরেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কমিটির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতারা।

কেন্দ্র থেকে পোস্টেড হয়েও ক্যাম্পাসে অমূল্যায়িত হওয়ার অভিযোগ এনেছে স্থগিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর বিরুদ্ধে। কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর ক্যাম্পাসে নিয়মিত শোডাউন দিচ্ছেন এই অমূল্যায়িত নেতা-কর্মীরা। এই অবস্থায় স্থগিত হওয়া কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি ও সাধারন সম্পাদক আকতার হোসেনের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

জানা যায়, নেতা হওয়ার পরেই ইব্রাহিম ফরাজি ও এসএম আক্তার হোসেনের চাল-চলনে অনেক পরিবর্তন আসে। কমিটি হবার পর থেকেই তারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির দিকে ঝুঁকে পরে। প্রতিদিন প্রকৌশল দপ্তর আর উপাচার্য ভবনে দৌড়াদৌড়ি করে তাদের কর্মকাণ্ড শেষ করতেন। স্বার্থ হাসিল না হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করতেন। এদিকে নিয়মিত প্রোগ্রামে না আসলে সকলের সামনে কর্মীদের চড়-থাপ্পর মারার অভিযোগ আছে ইব্রাহিম আক্তারের বিরুদ্ধে। কর্মীদের পুর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না দেওয়ার হুমকি দিতেন সরাসরি। কমিটির অন্যান্য নেতাদের মূল্যায়নই করতেন না।

গত পয়লা জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতার স্বাক্ষরে জগন্নাথ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত হয়। এর পরে কয়েকদিন স্থগিত কমিটির শীর্ষ দুই নেতার কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শোডাউন দিলেও অল্প দিন পরেই বদলে যায় চিত্র। বিদ্রোহীরা সজাগ হয়ে যায়। নিয়মিত শোডাউনের মহড়া চালানো শুরু করে তারা। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়ে।

স্থগিত কমিটির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা

ক্যাম্পাসে এখন নিয়মিতই শোডাউন দিচ্ছে অমূল্যায়িত নেতারা। প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে এসে শতাধিক কর্মী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে তারা। বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, গ্রিন সিগনাল পেয়েই নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন ছাত্রলীগের অমূল্যায়িত নেতারা। স্থগিত হওয়া কমিটির শীর্ষ দুই পদে নতুন কেউ আসার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। আবার অমুল্যায়িত নেতাদের নিয়মিত মহড়ার সাথে বাড়ছে কর্মীদের উপস্থিতিও। স্থগিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনেক কর্মীও যোগ দিচ্ছে নেতাদের শোডাউনে। দিন দিন স্থগিত কমিটির শীর্ষ দুই নেতার ফিরে আসার সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে দুশ্চিন্তা আর হতাশায় ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে তাদের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে অসাংগঠিনক আচরণের কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্যের রোষানলে বেশ কয়েকবার পড়েছিলেন স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম আক্তার হোসেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথেও ভালো সম্পর্ক নেই ইব্রাহিম ফরাজীর।

এখন আবার সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বিভিন্নভাবে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা যায়।

স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত সাঈদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'কোনো ব্যক্তির কর্মের দায়, কখনোও সংগঠন নিবেনা। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য কেন্দ্র উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক আমরা সেটাই চাই।' ক্যাম্পাসে মহড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে সবারই ক্যাম্পাসে আসার, বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার অধিকার আছে। আমরা তো এখানে রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিনা। সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছি।'

স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি কামরুল হোসাইন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, 'বর্তমান কমিটির ইব্রাহীম-আকতারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সত্য হলে তাদেরকে বাদ দেওয়া হোক। আর মিথ্যা হলে যারা অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' ক্যাম্পাসে মহড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'ক্যাম্পাস তো সবার। সেজন্যই আমরা সবাই যাই, দেখা সাক্ষাৎ করি। এমন তো না ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম করতেছি। একসাথে বসতেছি, এটা তো স্বাভাবিকভাবে চলবেই।'

যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফৌজিয়া আফরিন প্রিয়ন্তী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানাবো। কেন্দ্রের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি, লিখিতভাবেও জানাবো। এই কমিটির আন্ডারে আমরা থাকতে চাইনা।'

এবিষয়ে জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'জগন্নাথ ছাত্রলীগের আলাদা কোনো গ্রুপ নেই। যারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায় তারা ছাত্রলীগের কেউ না৷ অনেকে আছে আবার ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারী। তারা ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে চায়।'

কবে নাগাদ আবার ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সুসংগঠিত হয়ে ফিরবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো এখন বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতারা যেই সিদ্ধান্ত নিবে আমরা সেটাই মেনে নিবো।

স্থগিত কমিটির সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, 'জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা তাই মেনে নিবো।' ক্যাম্পাসে মহড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। এটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়েনা। যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো, সেটা আলাদা কথা।'

ঢাকা, ২৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরআই//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ