Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল ২০২৪, ১১ই বৈশাখ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com

জাবি সিনেট সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২২, ০৬:৪৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাবি লাইভ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, 'আমার মামাও ছিল মুক্তিযোদ্ধা, এই নির্যাতনে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সততার জন্য, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা লুট করা শুরু করছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বললে অনেক ধরনের কথা আসে।'

অধ্যাপক অজিত বলেন, 'আজ এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে ইমোশন (আবেগ) তৈরি হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই আমি সম্মান করি। আবার এই মুক্তিযোদ্ধারাই কীভাবে নিপীড়ন করেছে নারীদের, আমি দুয়েকটা নামও বলতে পারি।'

গত ২৪শে জুন অনুষ্ঠিত সিনেটের ৯ নম্বর এজেন্ডায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের বয়সসীমা সংক্রান্ত আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক। তার বক্তব্যের সাত মিনিটের একটি রেকর্ড গণমাধ্যমের কাছে এসেছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তার এমন মন্তব্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে অজিত কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমি এমন মন্তব্য করেছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি।’

অডিও রেকর্ডে অজিত কুমারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বয়স যখন ১৪-১৫ তখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কালও দেখেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। অনেক কিছুই দেখেছি।'

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও অজিত কুমার তার বক্তব্য শেষ করেন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে।

অধ্যাপক অজিত কুমার আরও বলেন, 'যদি আমি মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দিতে চাই তাহলে কেন বিতর্কের মাধ্যমে কেন দিব? অন্য কোন রাস্তা আপনারা বের করেন। তাকে সম্মান দেওয়ার জন্য। আমি মনে করি সম্মান দেওয়ার অনেক রাস্তা আছে। মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দেওয়া শুধু তাকে চাকরি দিয়ে নয়। আমার ৬৫ বছর হইছে, আমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা যদি হয়ও তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে নতুনদের জন্য। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার দায়িত্ব-কর্তব্য বলে মনে করি। সম্মান যদি আমরা দিতে চাই, অন্যভাবে আমরা দিতে পারি। অনেক রাস্তা আছে।'

জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদে’র সভাপতি। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে সিনেট অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের অতিরিক্ত এক বছর চাকরির সুবিধা বাতিল করাকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা তর্ক-বিতর্ক হয়। শুক্রবার রাতের এ সভায় দীর্ঘ আলোচনায় বেশিরভাগ সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক অধ্যাপক আমির হোসেনের এই রাষ্ট্রীয় সুবিধা রাখার পক্ষে মত দেন। এই সুবিধা বাতিল না করতে জোরালো যুক্তিতর্ক করেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত হোসেন, মনোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েক জ্যেষ্ঠ সদস্য। তাদের মত আমলে না নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিনেট সভার শেষ পর্যায়ে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বলছেন, ২০১২ সালে আইন হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অতিরিক্ত মেয়াদ পেয়েছেন। অথচ অধ্যাপক আমির হোসেনকে এই সুবিধা দিয়ে এখন বাতিলের চেষ্টা চলছে। মূলত সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকরা অধ্যাপক আমির হোসেনকে অবসরে পাঠানোর পাঁয়তারা করছেন বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনেট সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত হোসেন খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সিনেট এমন অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি স্পষ্ট করে বলেছি। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অজিত কুমার মজুমদার যখন স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নানা সমালোচনা করেন তখন আমি তীব্র প্রতিবাদও করেছি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্য খুবই লজ্জার বিষয় এটি।'

ঢাকা, ২৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআর//এমজেড


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ