teletalk.com.bd
thecitybank.com
[email protected] ঢাকা | শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
teletalk.com.bd
thecitybank.com
'সুইসাইড নোট'

জাবি ছাত্রের মৃত্যু: 'নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত''

Md Akramuzzaman | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২২ ১৮:১০

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২২ ১৮:১০

জাবি ছাত্র অমিত কুমার বিশ্বাস

জাবি লাইভ: শেষ রক্ষা আর হলো না। নানান ক্ষোভে, দু:খে তিনি আত্মহননের পথ বেঁচে নিয়েছিলেন। আর তিনি সেরে উঠতে পারছিলেন না। 'সুইসাইড নোট' এ তিনি বলে গেছেন ''আমি নিজেই নিজের শত্রু হয়ে পড়েছি অজান্তেই। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত। আর না। এবার মুক্তি চাই। প্রিয় মা-বাবা, ছোট বোন সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও''। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাদ থেকে পড়ে আত্মহনন করেন তিনি। তার নাম অমিত কুমার বিশ্বাস। তার কক্ষে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার পড়ার টেবিলে সুইসাইড বিষয়ক আরও কয়েকটি মন্তব্য লেখা দেখা যায়।

জানাগেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তার রুমমেটরা এসে বালিশের নিচে এ সুইসাইড নোট পান। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার রুম পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সোহেল আহমেদ। তিনি বলেন আমরা যা জানলাম তা পুলিশকে বলেছি।

অমিত কুমার বিশ্বাসের সুইসাইড নোটে লিখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার মস্তিষ্কই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী। আমি নিজেই নিজের শত্রু হয়ে পড়েছি অজান্তেই। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত। আর না। এবার মুক্তি চাই। প্রিয় মা-বাবা, ছোট বোন সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ এছাড়াও তার পড়ার টেবিলে আরও কয়েকটি সুইসাইড বিষয়ক মন্তব্য লেখা পাওয়া যায়। যা দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে তিনি আত্মহত্যাই করেছেন।

শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রভোস্ট এ ব্যাপারে অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে নোটের লেখার সঙ্গে তার আগে খাতার লেখার মিল রয়েছে। এছাড়াও তার রুমের পড়ার টেবিলে সুইসাইড বিষয়ক আরও লেখা রয়েছে। আমরা আপাতত রুম বন্ধ করে রেখেছি। পুলিশ এসে বাকিটুকু দেখবে।

অমিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, বৃষ্টির সময় ভেজার জন্য ছাদে উঠলে সেখান থেকে পড়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় তার প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরে অমিতকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তার ইন্টারনাল ব্লিডিং ও মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে বিকাল সাড়ে ৫টায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড




আপনার মূল্যবান মতামত দিন: