জবির ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চান


Published: 2021-07-31 15:13:01 BdST, Updated: 2021-09-20 20:42:21 BdST

জবি লাইভ: অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে নানামুখি আলোচনা আর সমালোচনা চলছে। এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে এই অনলাইন জরিপে মোট ৩ হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ২ হাজার ৪০৯ জন।

তাছাড়া সশরীরে পরীক্ষার পক্ষে মত দেন ৬০৪ জন শিক্ষার্থী। যা জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ১৯.০৪ শতাংশ। এছাড়া পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত না বলে মত দিয়েছেন ১৫৮ শিক্ষার্থী। যা মোট জরিপের ৫ শতাংশ। তবে উপরোক্ত তিন ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।

অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চেয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহনা মেহজাবিন বলেন,‘অনলাইনে এক্সাম চাই। সিজিপিএ কম আসুক। সমস্যা নেই আমার। তবুও আর সময় নষ্ট না করার বিনীত অনুরোধ রইল। পরীক্ষার ফি গুলো দিয়ে যাদের অনলাইন পরীক্ষা দেয়ার পর্যাপ্ত উপকরণ নেই ওগুলোর ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

সশরীরে পরীক্ষা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাবদ ব্যয় যা হতো সেটা হচ্ছে না। ওই টাকার সঠিক উপযোগ আমার মতে এটাই হওয়া উচিত।’ অপরদিকে এখনই সশরীরে পরীক্ষা দিতে চেয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান আহমেদ রাফি বলেন, ‘করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর ধরে একই সেমিস্টারে আটকে আছি।

অনেক ডিপার্টমেন্ট অনলাইনে মিড এক্সাম নিচ্ছে। অনেক ডিপার্টমেন্টে নেয়া শেষ। তবে তাতে অনেক শিক্ষার্থীই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কেউ কেউ নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র জমা দিতে পারছে না। আবার অনেকে কানেক্ট হতে পারছে না। এমতাবস্থায় অবশ্যই সশরীরে পরীক্ষা নিতে হবে এবং তা যত দ্রুত সম্ভব হবে ততই মঙ্গল।

একই সেশনের যেসব বন্ধুরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে তারা আমাদের থেকে ২/৩ সেমিস্টার এগিয়ে গেছে।’ এখনই পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত নয় জানিয়ে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী নভেরা হাসান নিক্কণ বলেন, ‘আমি চারুকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে পড়ছি। আমাদের এখানকার ৮০ শতাংশ কোর্সই প্র্যাকটিকাল এবং যেগুলো নির্দিষ্ট স্টুডিও এবং যন্ত্রাংশ ছাড়া করা সম্ভব না।

এছাড়া সেগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যানেজ করে করাও সম্ভব না। আমাদের গত ৬-৮টি সেমিস্টারের কোর্সগুলো সবই অনলাইনে শেষ হয়েছে। মানে প্র্যাকটিকাল কোর্স তত্ত্বীয়ভাবে শেষ হয়েছে। এই জ্ঞান দিয়ে আমাদের বা আমার পক্ষে মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সম্ভব না এবং পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করতে গেলে, আমরা কিছুতেই তাল মেলাতে পারব না।

তাই উপযুক্ত পরিমাণ স্টুডিওবেজড ক্লাস না করে, আমি পরীক্ষায় বসা অনর্থক বলে মনে করি।’ এ বিষয়ে জবির অনলাইন পরীক্ষা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আইন অনুষদের ডিন ড. সরকার আলী আককাস বলেন, ‘ইতোমধ্যেই দেড় বছর নষ্ট হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা এখন পুরো অনিশ্চিত। তাই আমরা বিকল্প হিসেবেই অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছি।

ঢাকা, ৩১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এবিএম

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।