"সামিয়া রহমান, মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধেও গবেষণা চুরির অভিযোগ আসে"ঢাবির সেই ড.সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগ


Published: 2021-03-05 14:42:50 BdST, Updated: 2021-04-21 10:57:21 BdST

ঢাবি লাইভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে গবেষণা জালিয়াতের অভিযোগ উঠেছে। ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামানের কাছে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য দাবি জানিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক। অভিযোগের সঙ্গে সাদেকা হালিম যে প্রবন্ধে ‘চৌর্যবৃত্তির আশ্রয়' নিয়েছেন তার কয়েকটি কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ড. সাদেকা হালিমের প্রকাশিত কিছু প্রবন্ধের প্লেজারিজম ধরা পড়েছে। এবিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেগুলো বাংলাদেশের শিক্ষায়তনিক পরিসরে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, বিভিন্ন পরিসরে সেগুলো সমালোচনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এতে দেশের অনেকেই উদ্বিগ্ন। অভিযোগপত্রে এই বিষয়টি সুরাহার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মুশতাক আহমেদ জানান, সাদেকা হালিমের গবেষণা চৌর্যবৃত্তির সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমাদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষকদের জন্য লজ্জার। একজন শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এই বিষয়টি জানিয়েছি। এই সাদেকা হালিম ঢাবির সাবেক ভিসি প্রফসর আবদুল হালিমের মেয়ে। তিনি খুব নীতি বাক্য চর্চা করেন। তিনি টক শোতে লম্ভা লম্ভা কথা বলেন। নিজেকে বিশেষ দলের অনুসারী বলে প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনও জানি না। আমাকে ভিসি স্যার কিছু জানাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান জানান, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও খুলে দেখিনি। আমি এ বিষয়টি দেখবো।’

এ বিষয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া রহমান বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।’ তাই প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে আচার্য ও রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও আছেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত এর আগে গবেষনার মত বিষয় চুরি করার অভিযোগ আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে।

এমন অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র শিক্ষক ও গবেষক। তারা বলছেন, এধরনের ঘটনা ঘটার পরেও কিভাবে তারা প্রকাশ্যে মুখ দেখায়? কিভাবে তারা সমাজে চলাফেরা করে? এই লজ্জা কেবল তাদের নয়। এই লজ্জা গোটা শিক্ষক সমাজের। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমরা ওই অদৃশ্যমান শক্তির পরিচয় জানতে চাই। যারা নেপথ্যে থেকে এধরনের বড় ও কঠিন অপরাধকে সায় দিয়ে যাচ্ছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে লেখা চুরির অভিযোগ তদন্ত হয়েছে।

বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই হিসাব-নিকাশ করেই তদন্ত চলছে। তাছাড়া অভিযুক্তরা সমাজের উচুশ্রেণীর মানুষ। সব কিছু নিশ্চিত হয়েই এগুতে হবে। যেন তেন ভাবে তদন্ত শেষ করা যাবে না।

তবে এ নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র অনেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেছেন, সামিয়া রহমান প্রভাবশালী নারী। তিনি টেলিভিশনে কাজ করেন অনেক কথা বলেন। টক শো করেন।

সাংবাদিকতা বিভাগের অপর একজন শিক্ষক বলেছেন, তিনি লম্বা লম্বা কথা বলেন। সমাজ ও দেশকে অনেক জ্ঞান দেন। তার বিরুদ্ধে গবেষনা চুরির অভিযোগ মেনে নেয়া যায় না। তিনি দোষী হলে পদত্যাগ করা উচিত। নিজের সম্মান নিয়ে চলে যাওয়াই ভাল।

লেখা চুরির এ অভিযোগ ওঠার পর তা অস্বীকার করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান। এ ঘটনার জন্য তিনি ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মারজানের ওপর দোষ চাপান।

এ দুই শিক্ষক তাঁদের একটি গবেষণা নিবন্ধে মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামে একটি নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লেখা হুবহু চুরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতো মধ্যে নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জানাজানি হয়েছে সারা দুনিয়ায়।

উল্লেখ্য,পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ মিশেল ফুকোর লেখা “The Subject and Power” শীর্ষক আর্টিকেল যা প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস (১৯৮২), থেকে লেখা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চুরি করে নিজের নামে ছাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছে স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস।

এক লিখিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির অভিযোগ এর কথা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস। উন্নত দেশগুলোতে একাডেমিক চৌর্যবৃত্তি (Plagiarism) একটি ভয়ঙ্কর অপরাধ।

ঢাকা, ০৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।