বশেমুরবিপ্রবি'র মেধাবী শিক্ষার্থী রিমুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন


Published: 2020-08-03 22:56:37 BdST, Updated: 2020-09-25 06:14:46 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভঃ প্রায় ২০ বছর আগে বাবাকে হারিয়েছেন। পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তাসলিমা সিদ্দিকা রিমু। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই, বাবা না থাকায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে পরিবারের হাল ধরেছেন ছোট ভাই। রিমু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগে।

বাবা না থাকায় তাদের সংসারের খরচ বহন করতে একটা দোকানে মাত্র চার হাজার টাকা বেতনে জব করেন রিমুর ছোট ভাই। যেটা দিয়ে মায়ের সাথে কোনরকম কষ্টে দিন কাটে তার। এখন এই স্বল্প বেতনের অর্থ দিয়ে চিকিৎসার খরচ কোনো মতেই তার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন রিমুর চিকিৎসা বাবদ আপাতত ৩-৩.৫ লাখ টাকা লাগবে। তবে এই টাকা বাংলাদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে লাগবে কিন্তু যদি বিদেশে চিকিৎসা করা হয় তাহলে বেশি লাগতে পারে। রোগের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে রিমু, শেষ ভরসা উন্নত চিকিৎসা। এমতাবস্থায় রিমু বাঁচতে চায়। সে আবার ফিরে আসতে চায় স্বাভাবিক জীবনে। উৎফুল্লে বন্ধুদের সঙ্গে মেতে থাকতে চায় ক্লাস-ক্যাম্পাসে।

রিমুর পড়ালেখার খরচ বহন করতেন তার বড় বোন রোমানা ইয়াছমিন রোমা। এ বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভের সাথে কথা বলেছেন তিনি, জানিয়েছেন বিস্তারিত। আগামীকাল (মঙ্গলবার) উন্নত চিকিৎসার জন্য রিমুকে ঢাকায় নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "রিমুর মাঝে মধ্যে বুকে ব্যথা করত তবে আমাদের সাথে এটা গোপন করেছিল, গত ১৭ জুলাই অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে আমরা ওকে কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি, ও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কয়েকটা ইনজেকশন দিয়ে ওকে স্বাভাবিক করে।

এরপর করোনা সন্দেহ করোনা টেস্ট সাথে আরও কয়েকটা টেস্ট দেওয়া দেয়, ২ দিন পর করোনা নেগেটিভ আসলে দেওয়া হয় ইসিজি, ইকো টেস্ট । ইকো পরীক্ষায় হার্টের ভাল্বের সমস্যা বলছে। হার্ট এর একটা ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। যেটা নাকি আনকমন সমস্যা, ইন্ডিয়ায় নাকি এই প্রবলেমের ভালো চিকিৎসা আছে। তবে কক্সবাজারে ডাক্তার হার্টের কোন মেডিসিন দেয়নি।

এমনিতে রিমুকে বুকের সমস্যা আর অন্য সমস্যা কমানো ইনজেকশন আর মেডিসিন দিয়েছে। রিমুকে নিয়ে আমরা হাসপাতলে ১৫ দিন ছিলাম, ঈদ বলে ঈদের ১ দিন আগে রিলিজ নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসছি। কক্সবাজারের চিকিৎসকরা বলছে আপনারা ঢাকায় গিয়ে হার্টের ডাক্তার দেখান।

তবে গতকাল আসর থেকে রিমু এত বেশি ছটফট করছে তা বলার মত না। ওকে দেখে মনে হচ্ছে ওর প্রাণটা এখনি চলে যাবে। আমরা চাইছিলাম লকডাউন খুললে হার্টের ডাক্তার দেখাব। আর এখন হাতে টাকা ও নাই। তাই টাকা সংগ্রহ করে পরে লকডাউন খুললে ডাক্তার দেখাব ভেবেছিলাম। কিন্তু রিমুর অবস্থা এত বেশি খারাপ লকডাউন তো দূরের কথা ১ মিনিট ও বাসায় রাখা যাবেনা। কালকেই ঢাকায় নিয়ে যাব। মিরপুর ২ এ হার্টের ডাক্তার এর খোঁজ পেয়েছি ঐখানে নিয়ে যাব।"

রিমুর হার্টের চিকিৎসা বাবদ ৩-৩.৫ লাখ টাকার প্রয়োজন, ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যরা তাদের সবকিছু দিয়ে ১ লাখ টাকা জোগাড় করতে পেরেছে। ছোটবেলা থেকেই শরীরের নানা প্রতিবন্ধকতা পাত্তা না দিয়ে রিমু এগিয়ে চলেছে। সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে (শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮) পড়াশোনা করছে। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দেশের দয়াশীল এবং বিত্তবানদের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীরা।

সহযোগিতা পাঠাতে:
বিকাশ- ০১৫৩৩০৫০১৬০ (রিমুর বড় বোন)
বিকাশ- ০১৮৩২২২৩৫৫১ (তোফায়েল ৩য় বর্ষ)
রকেট- ০১৬৮৭৬৪১৯৪৭৭ (শায়ান ৩য় বর্ষ)

ঢাকা, ০৩ আগষ্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।