করোনায় অলস সময় কাটাচ্ছেন জবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-06-30 19:38:30 BdST, Updated: 2020-08-06 16:01:36 BdST

করোনাভাইরাস। একটি নাম। একটি আতঙ্ক। এর ছোবলে ঝড়ে গেছে লাখ লাখ প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছে কোটির উপরে জন মানুষ। লন্ড ভন্ড আধুনিক সভ্যতা। এর ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। এর থাবায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। আর আক্রান্ত হয়েছে দেড় লাখের কাছাকাছি। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। করোনার কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষাথীরা চলে গেছেন তাদের গ্রামে গঞ্জে। সব কিছুই যেন করোনায় স্থবির হয়ে আছে। লকডাউনে থেমে গেছে জীবনযাত্রা । সেই সাথে থেমে গেছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন। লকডাউনে বাসায় কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই অনুভূতি আর নানান কষ্টের কথা জানাচ্ছেন ক্যাম্পাসলাইভের প্রতিনিধি মুজাহিদ বিল্লাহ

সুমাইয়া তাসনিন নিহা,৪র্থ বর্ষ,বাংলা বিভাগ:
আসলে,কোভিড- ১৯ এ কেমন আছি সেইটা বলা খুবই কঠিন। এমন এক পরিস্থিতিতে এসে পড়েছি যে ব্যস্তময় জীবন অনেকটা ম্লান হয়েপড়েছে। প্রিয় জবি ক্যাম্পাসের প্রতিটা কংক্রিট থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধব,শিক্ষক- শিক্ষিকা, অফিসের প্রিয় কর্মকর্তাদের খুব মনে করে। খুব মিস করছি সব কিছু।

এছাড়াও যখন শুনি কিছু বন্ধু অর্থের অভাবে কষ্টে আছে, পরিবার চালাতে পাড়ছেনা বলে মেস ছেড়ে দিচ্ছে তখন মন টা ভেংগে পড়ে। জানিনা কবে সব কিছু আগের মতো সুন্দর হবে! যেন সবই স্বপ্ন! তবে এই সময় টা ঘরে বসে বসে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গড়ে তোমার একটি উপযুক্ত সময় বলে আমি মনে করি। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করেও নিজের দক্ষতা গড়ে তোলা যায়।

এছাড়াও চাকরির পড়াশোনাও করা যায় খুব ভালোভাবে অনেক সময় নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে পরিবারকে কাছে পেয়ে, তাদের সাথে মন খুলে কথা বলার মতো সময় টা এখন পাচ্ছি, যেটা আগে তেমন পেতাম না। তাও যখন মোবাইলের গ্যালারি তে প্রিয় ক্যাম্পাসের ছবি দেখি, চোখে পানি চলে আসে।

এভাবে ক্যাম্পাসের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে চাই না আমি, বরং ক্যাম্পাসে গিয়ে সবাইকে দেখে এই ভালোবাসা অনুভব করতে চাই। ভালোবাসি জবি তোমায়।

আলভি সরকার সূচনা,ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ :
না চাইতেই অনেক লম্বা একটা বাধ্য ছুটি..!! অনেকটা দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝেও অস্থায়ী রুটিনে চলছে দিনগুলো।। সবকিছু থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকেও ব্যস্ততা থেমে নেই।। সময়গুলো নিজের পছন্দ মতো করে নিয়ে নিচ্ছি।শখ পূরণ আর প্রয়োজন দুটোই হচ্ছে।। গাছ লাগানো, কবুতর পালন,লেখালেখি,পছন্দের বই পড়া আমার প্রধান শখ বলা যায়। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা। বিরক্তিকর সময়গুলো নিজের পছন্দের কাজ করেই কাটাচ্ছি।ঘরে থাকুন,দেশকে সুস্থ রাখুন।

ফাহিম শাহরিয়ার, ২য় বর্ষ, বাংলা বিভাগ :
করোনার এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবেই ছুটিতে থাকতে হচ্ছে সবাইকে।কেননা এই প্রাণঘাতি ভাইরাস প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ।তাই এই সময়ে বেশীরভাগ মানুষই গৃহবন্দী।ভার্সিটি বন্ধ হবার পর ১৭ মার্চ বাসায় চলে আসি।তখনো কেউ আন্দাজ করতে পারেনি এই ভাইরাস বাংলাদেশে আজ এত বড় প্রভাব ফেলবে।প্রথমে বাসায় বেশীরভাগ সময় ই টিভি মোবাইল বা গেমস খেলে চলে যেতো।

কিন্তু অবসর খুব বেশী হলে সেটাও অসহ্য হয়ে যায়।এই এক ঘেয়ামি জীবন আর ভাল্লাগলো না।এর পর ভাবলাম ক্রিয়েটিভ কিছু করা যেতে পারে! জীবনে অনেক কিছুই শেখার ইচ্ছে ছিল কিন্তু সময়ের অভাবে করতে পারি তবে এখন হাতে অফুরন্ত সময় পড়াশোনার চাপ নেই বললেই চলে! তাই যা খুশি তাই ই করতে পারি!

ইউটিউব ঘেটে বের করলাম বেশ কিছু ফটোগ্রাফি কোর্স। শিখে নিলাম ফটোগ্রাফির সব নতুন কৌশল।সেই সাথে পড়া শুরু করলাম অসাধারণ বিখ্যাত কিছু বই ফিলোসফি লিটেরেচার সাইকোলজি থ্রিলার সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট ইত্যাদির উপর।

একই সাথে দেখছি পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু চলচিত্র। এই সব নিয়েই কিভাবে সময় চলে যাচ্ছে টেরই পাচ্ছি না। এখন বিশ্বকে মনে হচ্ছে নতুন ভাবে দেখছি নতুন ভাবে জানছি। সব মিলিয়ে এই কোয়ারেন্টাইনে বেশ দারুণ সময় ই যাচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনকে শুরুতে যতটা বিরক্তিকর আর একঘেয়েমিপূর্ণ মনে হচ্ছিল আসলে সেটা এতটাও বিরক্তিকর আর একঘেয়েমি নয়।

তুফায়েল তুহিন, ২য় বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ :
করোনা এ যেনো এক আতংকে নাম। পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই মৃত্যুর সারিতে যোগ হচ্ছে হাজার, হাজার লাশ। সেদিক দিয়ে বাংলাদেশ ও তার ব্যাতিক্রম না। প্রতিদিনই হাজারো লাশের সন্ধান মিলে। পুরো বাংলাদেশ ই আজ অসুস্থ। করোনার এই মহামারীতে পড়াশোনা বিহীন সময় যেন কাটিয়ে উঠতে পারছি না।

গত ১৬ই মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ফলে সবাই আজ পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে পরিবারের সাথে অনেক দিন একসাথে আছি, সেটা অনেক ভালো লাগছে। বাড়িতে বাবা-মা উনাদের সেবা করতে পারছি৷ উনাদের কাজে সহায়তা করতে পারছি। তাছাড়া ছোট ভাই-বোনদের পড়া দেখিয়ে দিচ্ছি।

অবসর সময়ে গ্রামের প্রকৃতি,মাঠ, ঘাটে বন্ধুদের সাথে অনেক সময় দিতে পারছি। এদিকে অনেক দিন যাবথ বই থেকে বিচ্ছিন্ন আছি, কিন্তু পড়াশোনা থমকে নেই। মোবাইল এ্যাপের মাধ্যমে নানা ধরনের নতুন তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছি। যদিও পড়াশোনায় অনেক বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। তারপরও বলব সবাই ভালো থাকুক, ভালো থাকুক বাংলাদেশ, ভালো থাকুক পুরো বিশ্ব। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আবু সাইদ, ২য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ :
শুরুর দিকে এই সময়ে বাসায় বসে অনেকটা বিরক্ত লাগতো।কিন্ত এখন বাসায় বসে বই পড়া সহ পরিবারের সবার সাথে ভাল সময় কাটাচ্ছি।বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই পড়ছি।কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়েছি।তবে এইসব সমস্যা ঠিক হয়ে গিয়ে সব সুস্থ হয়ে উঠুক এই কামনা।

সম্রাট ওমর, ২য় বর্ষ, বাংলা বিভাগ :
করোনা মহামারী বর্তমানে পৃথিবীর সবার কাছে অভিশাপ হলেও এখান থেকেও সবার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। জীবনযুদ্ধের প্রতিযোগিতায় সবাই সবার ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত। পরিবারের সদস্যদের সাথে আড্ডা, একসাথে রাতের খাবার খাওয়া হয়তো অনেকেরই কখনও তেমনভাবে হয়ে ওঠেনি। যেন করোনার কারনে কারনেই সম্ভব হয়েছে।

শুধুমাত্র একাডেমিক এবং চাকুরির সিলেবাস শেষ করতে এতদিন সবাই ব্যস্ত থাকলেও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় যেমন সাহিত্যেক লেখনী পড়তে এখন অনেকেই মনোনিবেশ করছে। এছাড়াও আঁকা, মৃৎশিল্প, ঘুড়ি ওড়ানো মানুষের মাঝে প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।

যেগুলো বিগত অনেক বছরেও কখনও দেখা যায়নি। বাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পেতে করোনার একরকম বিশেষ আছে বলেই শিকার করতে হবে। তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সৃষ্টিকর্তার কাছে করোনা মুক্তির প্রার্থনায় সমগ্র মানবজাতি। মানবতা বেঁচে থাকুক, সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

শিক্ষাজীবনের এমন দিন কেটে গিয়ে সুস্থ হয়ে উঠুক এই পৃথিবী।পৃথিবীর সকল কিছু হয়ে উঠুক স্বাভাবিক শিক্ষাথীরাও ফিরে পাক তাদের শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ ছোয়া। সকল ক্যাম্পাসের টিএসসিতে আবারো কথা জমে উঠুক চায়ের কাপের আড্ডায়।একটি নতুন সুন্দর সকালের অপেক্ষায় আমরা।

ঢাকা, ৩০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।