আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজক্লাসে ছাত্রীদের ওড়না খুলে নিলেন শিক্ষক!


Published: 2020-02-19 17:10:42 BdST, Updated: 2020-03-31 17:02:42 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেস কোড নিয়ে নানান বিতর্কের পরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তিত মূল ড্রেস কোডে রয়েছে- সালোয়ার, কামিজ, ক্রস বেল্ট ওড়না ও জুতা। ছেলেদের জন্য টুপি, মেয়েদের জন্য স্কার্ফ ও অতিরিক্ত হিসেবে বড় ওড়না এতোদিন বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন শিক্ষাবর্ষ হতে এগুলোকে ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক শাখার জন্য।

তবে কলেজ শাখার ড্রেস কোড পূর্বের মতোই রয়েছে। ঐচ্ছিক অর্থ হচ্ছে- ছাত্ররা চাইলে টুপি পরতে পারবে, ইচ্ছে না হলে পরবে না। একইভাবে ছাত্রীরা তাদের স্কার্ফ ও ওড়নাও ইচ্ছে অনুযায়ী পরতে পারবেন। কিন্তু ঐচ্ছিক ঘোষণার পরেও বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রীদের ওড়না ও বোরকা পরতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, যারাই বড় ওড়না পরে স্কুলে যাচ্ছেন তাদের ওড়না খুলে রেখে দেওয়া হচ্ছে এবং বোরকা পরে আসলে স্কুলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এমন সতর্ক বার্তা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, গতকাল মঙ্গলবার যারাই বড় ওড়না (ঐচ্ছিক পোষাক) পরে ক্লাসে গিয়েছিলেন তাদের সবার ওড়না খুলে রেখে দিয়েছেন ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক রুবিনা সুলতানা।

ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, একজন নারী শিক্ষক হওয়ার পরেও তিনি ছাত্রীদের বলেন, ওড়না যারা পরে থাকবে তাদের ক্লাস করার কোন সুযোগ দেওয়া হবে না। ক্লাস করতে চাইলে ওড়না খুলে রাখতে হবে।

এরপর তিনি ছাত্রীদের ওড়না খুলে নিয়ে টেবিলে রেখে দেন। সেই সাথে যে তিনজন ছাত্রী বোরকা পরে এসেছিলেন তাদেরকে রুবিনা সুলতানা পরবর্তীতে বোরকা পড়ে না আসার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। বোরকা পরে আসলে স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৮ম শ্রেণির আর একজন ছাত্রী জানান, ওড়না পরার ক্ষেত্রে শিক্ষকরা বলেন, ‘ওড়না পরতে পারবে তবে তা গলা ও মাথার মধ্যেই পেঁচিয়ে রাখতে হবে। কোনভাবেই তা বুক বা পিঠে রাখা যাবে না। যারা এমনভাবে ওড়না পরবে তাদেরকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ারও হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলে ওই ছাত্রী অভিযোগ তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একধরণের পোষাক পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই পোষাকে পরিবর্তন আনার কি প্রয়োজন হলো? পরিবর্তনের পর ওড়নাকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে। ঐচ্ছিক মানে কি? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যার ইচ্ছে হবে সে পরবে, আর যার ইচ্ছে হবে না সে পরবে না। কিন্তু এই ঐচ্ছিক পোষাকে বাধ্যবাধকতা কেন? ওড়নার কারণে ছাত্রীদের ওপর শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনশ্রী শাখা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি শিক্ষক রুবিনা সুলতানা জানান, ড্রেস কোডের মধ্যে ওড়নার কথা উল্লেখ করা নেই। ঐচ্ছিকও করা হয়নি। চাইলে কেউ হিজাব করে মাথা ও গলা ঢাকতে পারবে। তবে তা অবশ্যই কাধের নিচে স্কুলের মনোগ্রাম দেখা যেতে হবে।

ক্রস বেল্ট ব্যবহার করেও অনেক ছাত্রীর বুক ঢাকতে সমস্যা হয় এ কারণে বড় ওড়না ব্যবহার করতে পারবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। চেয়ারম্যান যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা ঠিক সেভাবেই করেছি। ছাত্রীদের ওড়না খুলে নিতে বাধ্য হয়েছি। বোরকার বিষয়ে রুবিনা জানান, ছাত্রীরা চাইলে স্কুলে বোরকা পরে আসতে পারবে তবে বোরকা খুলে রেখে ক্লাস করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শাহান আরা বেগম জানান, ওড়না নিষিদ্ধ করা হয়নি, ঐচ্ছিক করা হয়েছে। যারা পরতে চায় তারা মাথায় হিজাবের মতো করে পরতে পারবে। তবে কোনভাবেই যেনো দুই দিক থেকে ঝুলে পড়ে না থাকে। বনশ্রী শাখায় ওড়না খুলে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি জানেন না।

শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিভাবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবেন। তবে কেউ কেউ এই বিষয়টিকে এবং পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করবার জন্য অতিউৎসাহী হয়ে কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড্রেস কোড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) মাকসুদা আক্তার মালা জানান, সারাদেশের স্কুল ড্রেসে ‘ক্রস বেল্ড ওড়না’ থাকে ৪ ইঞ্চি। আমাদেরও আগে ৪ ইঞ্চি ছিলো, তবে পরিবর্তিত ড্রেস কোডে তা ৬ ইঞ্চি করা হয়েছে।

ফ্রগ এর পরিবর্তে কামিজ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল ড্রেসে প্রচলিত কামিজের ঘের থাকে ২৪ ইঞ্চি, সেটি বাড়িয়ে ২৬ থেকে ২৮ ইঞ্চি করা হয়েছে। এছাড়াও ছেলেদের টুপি, মেয়েদের স্কার্ফ, হিজাব ও অতিরিক্ত বড় ওড়নার বিষয়টি ও ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।