ঢাবির হলে 'আবরার স্টাইলে' ৪ শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নির্যাতন


Published: 2020-01-22 18:46:23 BdST, Updated: 2020-09-19 18:02:50 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের স্টাইলে ৪ শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগ। নির্যাতনের পর আহত শিক্ষার্থীদের হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ২ শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে সন্দেহবশত তারা ২য় বর্ষের মুকিম নামের এক শিক্ষার্থীকে শিবির করে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে আসে। শিবিরের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগে তাকে মানসিক চাপ দিতে থাকে। স্বীকার না করায় তাকে মারধর করে। এসময় তার মোবাইলে আরও তিন বন্ধুর সঙ্গে 'যোগাযোগ তালিকায়' নাম থাকায় তাদেরকেও ডেকে গেস্টরুমে আনা হয়।

পরবর্তীতে গেস্টরুমে অন্যদের ভিড় হওয়ায় তাদেরকে হলের বর্থিত ভবনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এসময় হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্তসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতারা এসে রড, লাঠি দিয়ে মারধর করে। মারধরে গুরুতর আহত হন তারা।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১ টার দিকে জুহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের নিয়মিত গেস্টরুম চলছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে গেস্টরুমে ডাকা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের দিয়ে মুকিমকে প্রথমে মানসিক চাপ দেয়।

এতে স্বীকার না করায় তাকে লাঠি, স্টাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। পরে তার ফোনের চ্যাটলিস্ট দেখে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। মারধর সহ্য করতে না পেরে তারা উভয়েই মেঝেতে বসে ও শুয়ে পড়ে।

এর একটু পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে রাত ২ টা পর্যন্ত তাদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন করতে থাকে ছাত্রলীগ নেতারা।

পরে রাত ২টার পর তাদেরকে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ছাত্রলীগের নেতারা দাবি করে তাদের কাছ থেকে শিবির সংশ্লিষ্ট বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তার কোন নাম অথবা প্রমাণ দিতে পারেন নি তারা।

শিবির সন্দেহে তাদেরকে গেস্টরুমে ডাকা হলেও তাদের কাছে শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ বের করতে পারেনি ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির হামজা বলেন, আমরা তাদের কাছে শিবিরের যথেষ্ট প্রমান পেয়েছি। আমরা প্রমাণ পাওয়ার পর আমাদের হাউজ টিউটর বেলাল স্যারের মাধ্যমে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আমার তাদেরকে কোন ধরনের মারধর করিনি।

অভিযুক্ত আনোয়ার এ ব্যাপারে বলেন, এখানে কাউকে মারধর করা হয়নি। এখানে আমরা রাতে হল সংসদ, শিক্ষকসহ সবাই জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সার্জেন্ট জহুরুল হলের হাউজ টিউটর আনোয়ার হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা যানান তিনি।

নির্যাতনকারীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। এ ব্যাপারে তাকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, এটা যেহেতু হলের বিষয় তাই আমরা হল প্রশাসনের সাথে এ ব্যপারে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ প্রমানিত হলে তাদের ব্যপারে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি সাইফুল্লাহ আব্বাসী বলেন, গতকাল রাতে শিবির অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের চ্যাট লিস্টে শিবিরি কর্মকাণ্ডের দাওয়াতের কথপোকথন পাওয়া যায় এবং পরে আমার অনুপস্থিতিতে আরো দুইটি বই পাওয়া যায়।

পরে আমরা প্রাধ্যক্ষ স্যার কে ফোন দিলেও তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষককে ফোন দেই এবং প্রক্টর টিমের সহযোগিতায় তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। তবে তিনি মারধরের অভিযোগটি তিনি 'মিথ্যা অভিযোগ' বলেছেন।

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।