ঢাবিতে ৮২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত


Published: 2020-01-14 14:40:45 BdST, Updated: 2020-02-18 09:39:07 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রশ্ন ফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে ৬৩ জন ও মুহসীন হলে অস্ত্রসহ আটক হওয়া ৪ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জন ও সাংবাদিক নিপীড়নের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে আগেই আজীবন বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড.একেএম গোলাম রব্বানী ক্যাম্পাসলাইভকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মোট ৮৭ জনের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। এরমধ্যে ৬৩ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। ৯ জনকে আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়া, বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১৩ জন ও সাংবাদিক নিপীড়নের অভিযোগে দুইজন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেন তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না— তা জানতে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মুহসীন হলে অস্ত্রসহ আটক হওয়া চার জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে ২ ছাত্রকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো।

পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করে সিআইডি। এ মামলায় ১২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং পাবলিক পরীক্ষা আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে ৮৭ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে তখন আজীবন বহিষ্কার করেছেন কর্তৃপক্ষ। বাকিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের বৈঠকে ৬৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা করা হয়।

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।