ঢাবিতে গণরুমে থাকার জায়গা নিয়ে মারামারি, বহিষ্কার ৪


Published: 2019-11-14 22:02:42 BdST, Updated: 2019-12-14 16:23:30 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হলে গণরুমে শোয়ার জায়গা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে হল প্রশাসন চার শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কবি জসিম উদ্দিন হলের ২১৪ নাম্বার গণরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ১৮-২০ জন শিক্ষার্থী থাকেন। গত বুধবার থাকার জায়গা নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর ও বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়েরের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়

পরে একই রুমের শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করে।জুবায়ের পক্ষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফ এগিয়ে আসলে ফার্সি বিভাগের রিয়ান তাকে ঘুষি মারে। একপর্যায়ে গ্রুপ দুটির অন্যান্য অনুসারীরা যুক্ত হয়। ৪র্থ তলা থেকে তুষার নামক আরেক ছাত্র এসে তানভীরের পক্ষে যোগ দেন। পরবর্তীতে রাতে দুই গ্রুপের সদস্যরা ডামবেল নিয়ে একে অন্যের উপর আক্রমণ করে। এতে হলে উতপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে।

এ সময় পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণ করতে হল ইউনিয়নের এজিএস সাইফুল ইসলাম, পাঠচক্র সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সংঘর্ষের খবর শুনে হলের প্রোভোস্ট প্রফেসর ড. রহমতুল্লাহ ও হাউস টিউটর শহীদুল ইসলাম আসেন এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন।

সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে চার শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে হল প্রভোস্ট।
বহিষ্কৃতরা হলেন- ফার্সি বিভাগের রিয়ান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নাঈম, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের জুবায়ের ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রুমের এক শিক্ষার্থী জানান, কবি জসীম উদদীন হলের ওই রুমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ ছাত্রলীগের হল ক্যান্ডিডেট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন (সোহাগ) এর অনুসারী। সোহাগ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খানের রাজনীতি করেন। রিয়ান, নাঈম, তুষার সোহাগের সমর্থক বলে জানা যায়। মারামারি খবর শুনে সোহাগও এতে যোগ দেন।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল মামুন (সোহাগ) বলেন, আমি হল সংসদের সদস্য হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে গিয়েছি। মারামারির সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। রাজনৈতিক স্বার্থে হলের ক্যান্ডিডেটরা আমার নামে এই অভিযোগ দিচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. রহমত উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,"এটা আমাদের হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই। এটা হলের এডমিনিস্ট্রেটিভ বিষয়, এটা তোমাদেরকে বলার বিষয় নয়।"

সংঘর্ষ চলাকালীন সময়

 

বহিষ্কারের বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এটা হলো সাময়িক। তারা যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করে, সেজন্যে প্রভোস্ট স্যার সতর্ক করে দিয়েছেন।

বহিষ্কৃতরা হলে থাকতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বহিষ্কার বলতে এটা এরকম যে, ওরা হলে অবস্থান করতে পারবে।হলের ছাত্রত্ব থেকে বহিষ্কার, বিষয়টি এরকম নয়। এটা সাময়িক বহিষ্কার, যাতে ওরা পরবর্তীতে আরও উত্তেজিত না হয়।

উল্লেখ্য, ঘটনার জড়িত সাথে ফার্সি বিভাগের রিয়ান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নাইম, ও ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের আশিক বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে ছিনতাই ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তারা ছিনতাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এজহারভুক্ত মামলার আসামি   

 

কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এখন হলে অবস্থান করছে। তাদের দলের অন্য এক সদস্য হিজবুল্লাহ ছিনতাই মামলায় কারাগারে আছেন।

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।