“ভিসি বললেন, আমি দুই রাত ঘুমাইনি”বুয়েটের ভিসি ড. সাইফুল অবরুদ্ধ! (ভিডিও)


Published: 2019-10-08 19:48:34 BdST, Updated: 2019-10-23 17:35:02 BdST

বুয়েট লাইভঃ বুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম অবরুদ্ধ। বিকেল ৪টা থেকে তিনি আছেন তার দপ্তরে। আর বাইরে চলছে আবরার ফাহাদের অনুসারী ও সথীর্থদের মিছিল ও স্লোগান। সরাদিন না খেয়ে আন্দোলনকারীরা ওই নির্মম খুনের সঙ্গে জড়িতদের ফাসিঁসহ চিরতরে বহিস্কারের দাবী নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদের দাবী ৮টি। কিন্তু ভিসির বক্তব্য ও কথা শিক্ষার্থীরা আমলে নেয়নি। কারণ তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ‘আমি তোমাদের কাছে এভাবে জবাবদিহি করব না’’।

এমন অনেক কথাই ভিসি বলেছেন। আবরারের জানাযায় কেন আসেননি, আবরারের পিতা-মাতার সঙ্গে কেন দেখা করেননি এসব অনেক কথাই তিনি এড়িয়ে গেছেন। বলেছেন আমি দুই রাত ঘুমাইনি। এই ঘটনা নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু কি কাজ করেছেন তা তিনি স্পস্ট করে বলতেও পারলেন না। শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছেন সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। ক্যাম্পাসে কোন ক্লাস, পরীক্ষা এমনকি ভর্তি পরীক্ষাও হতে পারবে না।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট না দেয়া পর্যন্ত বুয়েটের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এ দাবি জানান। এর আগে দুপুরে চলতি বছরের (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতসহ ৯ দফা দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া বেঁধে দেয়া সময়ের (বিকেল ৫টা) মধ্যে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জবাবদিহি না করায় বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তারা তালা দেন।

প্রধান ফটকে তালা দেয়া ছাড়াও ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কার্যালয়ের ভেতরে হল প্রভোস্টদের সাথে বৈঠকে বসেছেন ভিসি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বৈঠক শেষে ভিসি স্যার কথা না বলে যেন যেতে না পারেন সে জন্য তারা অবস্থান নিয়েছেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিসি

 

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-

১. ক্যাম্পাসে নোংরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে সনাক্তকৃত খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ও আজীবন বহিঃস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকাল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে ডিএসডব্লিউ স্যার কেনো ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা উনাকে আজ বিকাল ৫ টার মধ্যে সকলের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৬. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সাথে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর,২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৮. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

ভিডিও:

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী, সিসিটিভি ফুটেজ ও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় হলের ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলাটি এখন রয়েছে ডিবিতে।

ঢাকা, ৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।