মেসের সিটকে কেন্দ্র করে ইবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারামারি


Published: 2021-09-23 16:24:11 BdST, Updated: 2021-10-16 21:29:43 BdST

ইবি লাইভ: মেসের সিট ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পাশর্বর্তী ত্রিবেনী রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মেস মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়।

মেস কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, বঙ্গবন্ধু হলের পাশর্বর্তী ত্রীবেণী রোড এলাকায় কয়েকজন বন্ধুসহ একটি মেসে থাকতেন বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ধ্রুব। কিন্তু কিছুদিন আগে সে মেস ছেড়ে চলে যায়। তবে তার চলতি মাসের ভাড়া পরিশোধ ছিল। ফলে তার সিটে মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের হাফিজ ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই বর্ষের সাকিব উঠেন। ওই মেসের একটি কক্ষ খালি হলে কয়েকজন বন্ধু মিলে হাফিজ ও সাকিব ভাড়া নিতে চান। তবে মালিক ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। পক্ষান্তরে ওই একই কক্ষ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মামুনকে ভাড়া দেন মালিক। মামুন মালিককে অগ্রীম ভাড়াও পরিশোধ করেন। তার ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে মধ্যস্থতা করেন তার বিভাগের বন্ধু ফারহান সেলিম। ফলে উভয়ের উপর ক্ষুব্ধ হয় সাকিব ও হাফিজ।

এ ঘটনা কেন্দ্র করে সেলিম ও মামুনের সাথে সাকিব ও হাফিজের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধানে বাড়ির মালিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় বাড়ির মালিকের সাথে সাকিব ও হাফিজ বাকবিত-ায় জড়িয়ে পরে। এসময় আশেপাশে থাকা এলাকার লোকজন সাকিব ও হাফিজের উপর চড়াও হয়। পরে মেস মালিক ও কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী ফারহান সেলিম বলেন, ‘হাফিজ ও সাকিব মেসে মাদক সেবন করতো। তাই মেস মালিক তাদের রুম ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মেস মালিক আমাকে ও মামুনকে ওই রুমে উঠতে বলে। তারা (সাকিব ও হাফিজ) আমাদের উপর অভিযোগ আনে আমাদের জন্যই বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়া দেয়নি। সে অভিযোগ এনে সকালে আমার রুমে ঢুকে বাড়িওয়ালার সামনে আমাদের চড় থাপ্পড় মেরে যায়। দুপুরে বের হলে পুনরায় আমাদের মারধর করে।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, ‘বাড়িওয়ালা আমাদের ভাড়া দিবে বলে কথা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওদের (সেলিম ও মামুন) সাথে কথা বলতে গেলে ওরাই আমাদের উপর আক্রমণ করে। আমরা নিজেদের প্রটেক্ট করেছি।’

মেস মালিক এরশাদ হোসেন বলেন, ‘ছেলেটি (সাকিব) তার বন্ধুর সিটে থাকতো। তার বন্ধু (ধ্রুব) এ মাস পর্যন্ত রুম বরাদ্দ রেখেছিল। সে অনুযায়ী এ মাস শেষে আমি তাকে সিট থেকে নেমে যেতে বলি। আমার আর একটি রুম খালি হলে সেখানে অন্য একটি ছেলেকে উঠানোর জন্য ফাইনাল করেছি। তাকে আমি রুম ভাড়ার ব্যাপারে কোনো কথা দেইনি। তারা উঠতে চাইলে আমি তাকে মানা করে দিয়েছি।’

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এই ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলা উচিত। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি। তারা দেখভাল করবে বলে জানিয়েছে।’

ঢাকা ২৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।